
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। এর অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির সিরি, ভিশন প্রো এবং ‘ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমস এক্সপেরিয়েন্স’ দলের ২০০টির বেশি পদ কমানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাঁটাইয়ের তালিকায় থাকা কর্মীদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন ভিশন প্রো দলের। বাকি কর্মীরা সিরি ও ‘ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমস এক্সপেরিয়েন্স’ দলের সঙ্গে যুক্ত। অ্যাপলের বিভিন্ন ডিভাইসে এআই প্রযুক্তি সংযুক্ত করার কাজ করে এই দল।
নতুন এআই প্রকল্প এবং পরবর্তী প্রজন্মের ডিভাইস তৈরিতে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে কর্মী ও কার্যক্রমের কাঠামোয় এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
কর্মী কমানোর বিষয়টি অ্যাপলও নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ব্যবহারকারীদের জন্য আরও উন্নত অভিজ্ঞতা তৈরি এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
তবে সব পদ বিলুপ্ত করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে অ্যাপল। পুনর্গঠনের পাশাপাশি কিছু নতুন পদও তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে বর্তমান কিছু কর্মীর দায়িত্ব ও পদে পরিবর্তন আসবে।
অ্যাপলের মিশ্র বাস্তবতার হেডসেট ভিশন প্রো বাজারে আসার পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। পণ্যটির ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে নানা আলোচনা চলার মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি এখন এআই প্রযুক্তিতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার দিকে বেশি নজর দিচ্ছে।
বিশেষ করে এআইনির্ভর নতুন প্রযুক্তি ও ডিভাইস তৈরিকে অ্যাপলের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের কারণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে। এর মধ্যে মেমোরি চিপের ঘাটতি অ্যাপলের বিভিন্ন পণ্য তৈরির খরচে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির কিছু পণ্যের দামে পড়েছে। চলতি বছর ম্যাক ও আইপ্যাডের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি বড় ধরনের হার্ডওয়্যার পণ্য কেনার ক্ষেত্রে কিস্তি সুবিধাও চালু করেছে অ্যাপল।
অ্যাপলের ভার্চুয়াল সহকারী সিরিকেও আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও সক্ষম ও আধুনিক সিরি তৈরিতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
একই সঙ্গে নতুন ধরনের ডিভাইস ও প্রযুক্তিপণ্য তৈরির পরিকল্পনাতেও গুরুত্ব দিচ্ছে অ্যাপল। ফলে সাম্প্রতিক কর্মী ছাঁটাইকে শুধু ব্যয় কমানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।
বরং এআই ও নতুন প্রযুক্তিকে ঘিরে অ্যাপলের ব্যবসায়িক কৌশল ও অগ্রাধিকারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে এই পুনর্গঠনকে।
