
নজরুল আহমেদ:
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে বৈশ্বিকভাবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বলা হচ্ছে, মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে জলবায়ুর স্বাভাবিক চক্রে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এখন অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের ঘটনা বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলগুলো ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপসহ নিম্নাঞ্চলীয় দেশগুলো এই পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্প কারখানা, যানবাহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ। এর পাশাপাশি ব্যাপক হারে বন উজাড়, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে কার্বন নিঃসরণ দ্রুত কমাতে হবে এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এ ছাড়া জলবায়ু অভিযোজনমূলক কার্যক্রম জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকারসহ বিভিন্ন দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বৃক্ষরোপণ, উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ, এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব উদ্যোগ আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করা প্রয়োজন।
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সম্মেলনগুলোতে (COP) উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। তবে এখনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন।
পরিবেশবিদরা মনে করেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী কয়েক দশকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, যা মানব জীবন, কৃষি উৎপাদন এবং অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
