
আরমান চৌধুরীঃ
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, বন উজাড়, বায়ুদূষণ এবং গ্রিনহাউস গ্যাসের অতিরিক্ত নিঃসরণের কারণে পৃথিবীর পরিবেশগত ভারসাম্য ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দশকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে হিমবাহ দ্রুত গলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও তাপপ্রবাহের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব এবং জলবায়ু উদ্বাস্তু বৃদ্ধির মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে দেশটি।
পরিবেশবিদদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার, শিল্পকারখানার ধোঁয়া, যানবাহনের নির্গমন এবং বনভূমি ধ্বংস জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। পরিবেশ রক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, বৃক্ষরোপণ এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
এদিকে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আসছে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তির আওতায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশ প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনও নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষায় শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়েও সচেতনতা বাড়াতে হবে। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং বেশি বেশি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের এই বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করছেন সংশ্লিষ্টরা।
