তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে গতিশীল, দলীয় কর্মকান্ড জোরদার, প্রবীণ-ত্যাগী, নিবেদিতপ্রাণ নেতা ও কর্মীদের সক্রীয় করতে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও জনবিচ্ছিন্ন নাপিত নির্ভর বির্তকিত নেতার কারণে আওয়ামী লীগ সেই উদ্যোগের সুফল ঘরে তুলতে ব্যর্থ বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, উপজেলা সদর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত পল্লী যেখানেই দু’চোখ দেখি শুধু নেতা আর নেতা কর্মীর কোনো হদিস নাই। বিষয়টি এমন কেউ নাপিত থেকে নেতা, কেউ হোটেল বয় থেকে নেতা, কেউ ট্রেনের হকার থকে নেতা, উপ-নেতা,পাতি-নেতা,বগি নেতা, খুর নেতা, ছিঁচকে নেতা ও নেতার নেতা ইত্যাদি বিশেষণে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এসব হাইব্রিডদের। যে চা বিক্রি করে সেও নেতা, যে ভ্যান চালাই সেও নেতা, মাদকসেবী ও বিক্রেতা থেকে শুরু করে হোটেল বয় , হকার থেকে শুরু করে দালালরা পর্যন্ত নেতা পরিচয়ে প্যানা তৈরী করে এলাকার জনবহুল স্থানে স্থানে সেটেছে। অথচ যারা এসব নেতা পরিচয় দিয়ে আওয়ামী লীগের কাছে থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা নিজোরাও নিশ্চয়তা দিতে পারে না তাদের পরিবারের অন্য সদস্যরা আওয়ামী লীগে ভোট দিবেন কি না ?, তবে কি ? আওয়ামী লীগ জনবিচ্ছিন্ন ভূগি (নামসর্বস্ব) দলে পরিণত হয়েছে, নইলে এসব হাইব্রিডরা কিভাবে হয় নেতা এমন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের এক জৈষ্ঠ নেতা। তিনি বলেন, এসব হাইব্রিডদের নানামূখী অপকর্মের কারণে আওয়ামী লীগের ভোট কমছে বই বাড়ছে না। অধিকাংশক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের রাজনীতি অনেকটা স্কুল-মাদরাসা-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারি ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে। এখন আওয়ামী লীগে লুঙ্গি পরা পা-ফাটা কৃষক ও হতদরিদ্র নিপিড়িত-নির্যাতন মানুষের কোনো কদর নাই, তার পরিবর্তে কদর বেড়েছে স্বল্প বা অশিক্ষিতদের যারা স্যুট-টাই পরে দু’হাত তুলে অথবা বিচিত্র অঙ্গভঙ্গি করে প্যানা তৈরী করছে তাদের। তৃণমূলের অভিমত, এসব হাইব্রিডরা গভীর নলকুপ অপারেটর, শিক্ষক-কর্মচারি নিয়োগ, ঠিকাদারী ও বিভিন্ন তদ্বির দিয়ে লাখ লাখ টাকা আহরণ করতে পারলেও প্রবীণ-ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতারা চরম দূর্দীনে রয়েছে, কেউ কেউ নিজ ঘরে পরবাসি হয়ে আছে। আর আওয়ামী লীগে এখন এসব হাইব্রিডদের কদর অনেক বেশি এমনকি হাইব্রিডদের দাপটে প্রবীণ-ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা রীতিমতো কোনঠাঁসা হয়ে পড়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তানোর পৌর এলাকার ভিক্ষুকের ছেলে, পেশায় নরসুন্দর (নাপিত) বাজারের বিভিন্ন দোকানে (সেলুন) দৈনিক মজুরী ভিত্তিক কাজ করতেন, স্কুলের গন্ডিও পার হতে পারেনি, অথচ এখন কোর্ট-স্যুট-টাই পরে হয়েছেন বগি (আক্যামা) নেতা নিয়ন্ত্রণ করছেন অনেক কিছু তাহলে বোঝেন দলের আদর্শ, নীতি-নৈতিকা এবং প্রবীণ-ত্যাগী নিবেদিতপ্রাণ নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের কি অবস্থায় রয়েছে এভাবে দীর্ঘশ্বাষ ছেড়ে মন্তব্য করলেন আওয়ামী লীগের এক জৈষ্ঠ নেতা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তানোর পৌর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ইউপি সদস্য হবার যোগ্যতা নাই অনুপ্রবেশকারী এমন হাইব্রিডরা যদি নেতৃত্ব দেয় তখন দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের দলে জায়গা হয় না। ফলে বিষয়টি দলের নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলেছে। অথচ প্রায় প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে দলে দলে নেতাকর্মীরা (মতলববাজ) আওয়ামী লীগে যোগদান করছে। আসলে এরা পূর্বেও আওয়ামী লীগ ছিল না, এখানো নাই ভবিষ্যতেও হবে না, এরা নিজেদের চাকরি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, গভীর নলকুপের অপারেটর ইত্যাদি টিকিয়ে রাখতে কেউ আমার অপকর্ম আড়াল করে মামলা থেকে বাঁচতে আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন যেটা আওয়ামী লীগ বুঝতে পারছে না। আর তাই এরা দলে দলে আওয়ামী লীগে যোগদান করার পরেও দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ডে কোনো প্রভাব পড়ছে না আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুরস্থা কাটছে না। ফলে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণের মনে প্রশ্ন উঠেছে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করছেন আসলে তারা কারা ? আর তাদের যোগদানের উদ্দেশ্যেই বা কি ? বিপুল নেতাকর্মীর যোগদানের পরেও যদি দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড গতিশীল না হয় ? তাহলে ডাকঢোল পিটিয়ে তাদের এতো ঘটা করে দলে যোগদান করিয়ে লাভ কি ? বরং তাদের কারণে আওয়ামী লীগ মাথাভারী সংগঠনে পরিনত হচ্ছে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতা ও কর্মী-সমর্থকগণ। আর এসব নবাগত হাইব্রিডদের ভিড়ে প্রবীণ, ত্যাগী, পরীক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা হারিয়ে যাচ্ছে এতে দল সাংগঠনিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কতিপয় হাইব্রিড ও জনবিচ্ছন্ন নেতা গণমাধ্যমে প্রচার পেতে ও দলের হাইকমান্ডের কাছে নিজের অবস্থান জাহির করতেই বিভিন্ন রাজনৈদিক দলের ব্যানারে এলাকার একশ্রেণীর সুবিধাভোগী মতলববাজদের দলে দলে আওয়ামী লীগে যোগদান করাচ্ছে। আর এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের জন্য কিছু বখাটে যুবককে মুঠোফোন কিনে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নয় নিজেদের মতলব পূরুণের জন্য মতলববাজরা দলে দলে আওয়ামী লীগে ভিড় জমাচ্ছে। রাজনৈতিক দলের পদ-পদবী নাই এসব মতলববাজ যারা আওয়ামী লীগে যোগদান করছে, আবার এদের অনেকেরই জীবনটাই রাজনৈতিক পালা বদলের,আবার কেউ গভীর নলকুপের অপারেটর রক্ষা, আত্মীয়-স্বজনদের চাকরি বাগানোর তাগিদে আওয়ামী লীগে যোগদান করছেন। অথচ সাধারণের মধ্যে এসব মতলববাজদের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু, তারা নিজেরাই আওয়ামী লীগে ভোট দিবেন কি না ?, তাদের রাজনৈতিক অবস্থান কি ইত্যাদি বিষয়ে খোজখবর না নিয়ে এভাবে দলে দলে মতলববাজদের আওয়ামী লীগে যোগদান করানোয় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ মাথাভারী সংগঠনে পরিণত হচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। অনেক মতলববাজ আবার আওয়ামী লীগে যোগদান করেও গোপণে আওয়ামী লীগ বিরোধী নেতৃত্ব’র সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। কারণ ভবিষ্যতে যেনো খোলস পাল্টাতে তাদের কোনো সমস্যা না হয়। তারা বলছে, এভাবে মতলববাজদের দলে না ভিড়িয়ে বরং দলের অনেক ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মী যারা নানা কারণে মান-অভিমানে দীর্ঘদিন ধরে নিস্ক্রীয় রয়েছে তাদের আবারো সক্রিয় করা হলে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক ভাবে আরও বেশী লাভবান হবে। আর তা না করা গেলে দেখা যাবে এসব মতলববাজদের ভিড়ে অনেক নেতাকর্মী দেখা গেলেও ভোটের মাঠে উল্টো চিত্র ফুটে উঠবে বলে তুণমূল নেতাকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।