
মো: জিয়াউর রহমানঃ
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুতর সংকটে পরিণত হয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, অনিয়ন্ত্রিত কার্বন নিঃসরণ, বন উজাড় এবং শিল্পায়নের দ্রুত বিস্তার পৃথিবীর স্বাভাবিক পরিবেশগত ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক দশকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর ফলে হিমবাহ গলন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের মতো জলবায়ুজনিত বিপর্যয়গুলো আরও ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে। বাংলাদেশসহ নিম্নাঞ্চলীয় দেশগুলো এই পরিবর্তনের ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি রয়েছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ হলো জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বনভূমি ধ্বংস, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহার।
জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা বহুবার সতর্ক করেছে যে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। কার্বন নিঃসরণ কমানো, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সবুজ প্রযুক্তির প্রসারকে সমাধানের প্রধান পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ প্যারিস চুক্তির আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের চেষ্টা করছে। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বর্তমান অগ্রগতি যথেষ্ট নয় এবং আরও কঠোর নীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত পর্যায়েও সচেতনতা জরুরি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অপচয় কমানো, বৃক্ষরোপণ এবং প্লাস্টিক ব্যবহার হ্রাসের মাধ্যমে প্রতিটি মানুষ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, জলবায়ু পরিবর্তন কেবল পরিবেশগত নয়, বরং অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি বৈশ্বিক সংকট, যার সমাধানে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
