
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু সংখ্যক রাজনৈতিক দল জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়। তারা জনগণকে বলতে চায় যে, বিএনপি জুলাইযুদ্ধকে স্বীকার করে না। এটা ডাহা মিথ্যা কথা, মিথ্যা প্রচারণা।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সদর দপ্তর হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের পরিচয়, আমাদের গর্ব, আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের অস্তিত্ব। সেই মুক্তিযুদ্ধকে, একাত্তরকে সামনে নিয়ে বারবার এগিয়েছি, এখনো আমরা এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অন্যায়কে সহ্য করে না। বারবার বাংলাদেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। পাকিস্তানের জন্য যারা লড়াই করেছিল, যুদ্ধ করেছিল, সংগ্রাম করেছিল ১৯৪৭ সালে। সেই পাকিস্তানকে ত্যাগ করার জন্য এই দেশের মানুষই আবার সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে। অনেক আন্দোলন হয়েছে। আমি বারবার রিপিট করবো না। সবশেষে এই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা-যুবকেরা যেভাবে সংগ্রাম করে, লড়াই করে তাদেরকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করেছে, এটা আরেকটা গৌরবের ইতিহাস। আমাদের আনন্দের, আমাদের পরিচয়ের ইতিহাস। আমরা সেজন্যই জুলাইযুদ্ধকে সব সময় ধারণ করি। জুলাই সংগ্রামকে ধারণ করি, এই অভ্যুত্থানকে ধারণ করি।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, যারা আজকে বলছেন যে বিএনপি সংস্কার চায় না, সংস্কার করতে চায় না- তারা সত্যের অপলাপ করছেন, মিথ্যা কথা বলছেন, জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই- এই দেশকে সংস্কার করে রাজনৈতিকভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অতীতে আমরাই আন্দোলন শুরু করছি। আজকেও আমরা একেবারে নির্দ্বিধায় ঘোষণা করতে চাই যে, আমরা সংস্কার চাই না শুধু, আমরা সংস্কারকে বাস্তবায়িত করব।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সব সময় মনে রাখবেন যে কোনো রকমের কোনো দুর্ঘটনা, কোনো খারাপ ঘটনা যেন বিএনপিকে আক্রমণ করতে না পারে। আমাদের দলের চেয়ারম্যান সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে, আমার দুষ্ট গরুর চাইতে শূন্য গোয়াল ভালো। যারা অপকর্ম করবেন তাদেরকে এই দলে রাখা হবে না, পরিষ্কার কথা।
