সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই: হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ছুঁইছুঁই

লেখক: Dhaka Bangladesh
প্রকাশ: ১ সপ্তাহ আগে

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হাম। প্রায় নির্মূল হওয়া এই ভাইরাস হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে উঠায় দেশের স্বাস্থ্য খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সিট এবং আইসোলেশন ব্যবস্থার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগ নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে চিকিৎসার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগী শনাক্ত করা প্রয়োজন।

চলতি বছরের শুরুতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কিছু বস্তি এলাকায় প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হয়। বিষয়টি দেশে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে, বিশেষ করে রাজশাহীতে ৩৩ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলে। যদিও স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সবার মৃত্যু হামের কারণে হয়নি। তবে গত ১৯ দিনে ভাইরাসবাহী রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী হঠাৎ প্রাদুর্ভাবকে ‘বজ্রপাতের মতো’ উল্লেখ করেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আগে থেকে এ ধরনের মহামারি মোকাবিলায় প্রস্তুত ছিল না।

সরকার আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে দেশব্যাপী জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করবে। টিকার মজুদ বাড়াতে ৬০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালগুলিতে শয্যা সংখ্যা এবং ভেন্টিলেটর বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেন,

“বরাদ্দকৃত টাকার অর্ধেক দিয়ে সরাসরি ইউনিসেফ থেকে টিকা কেনা হচ্ছে। বাকি অর্ধেক টিকা দ্রুত প্রাপ্তির জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সারা দেশে জেলা হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেডিকেটেড হাম ওয়ার্ড বা সেন্টার চালু করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, হাম ভাইরাসের বিরুদ্ধে শতভাগ কার্যকর ওষুধ নেই। তাই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্ট্যান্ডার্ড মেনে রোগ ছড়ানো বন্ধ করতে হবে। একমাত্র উপায় হলো আক্রান্ত রোগীকে সম্পূর্ণ আলাদা বা আইসোলেশনে রাখা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় শহরের হাসপাতালে রোগীর চাপ না বাড়িয়ে, চিকিৎসা সেবা উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছানো জরুরি। তা না হলে রোগীরা হাসপাতালে আসার পথে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারে।

বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন,

“একটি হাসপাতালে অনেক রোগী হলে চিকিৎসা ব্যাহত হবে। তাই স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত এলাকায় গিয়ে বাড়ি বাড়ি রোগী শনাক্ত করতে হবে। সুস্থ বাচ্চাদের থেকে আক্রান্তদের আলাদা রাখতে হবে। প্রতিটি জেলা হাসপাতালে আলাদা আইসোলেটেড আইসিইউ দরকার। সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এক মাসে মৃত্যুহার কমানো এবং দুই মাসে প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।”

সংবাদটি শেয়ার করুন...