‘সরকারি নির্দেশে’ ইন্টারনেট শাটডাউন: ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য

লেখক: Dhaka Bangladesh
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের সময় হঠাৎ দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের কারণ সরকারের নির্দেশ ছিল বলে জানিয়েছেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের (আইএসপিএবি) সাবেক সভাপতি ইমদাদুল হক মোল্লা।

রোববার (১২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এ তথ্য জানান। বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী শুনানি গ্রহণ করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞে সহযোগিতার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে এই মামলায় তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন ইমদাদুল।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম এবং আবদুস সাত্তার পালোয়ান।

ইমদাদুল হক মোল্লা জানান, ইন্টারনেট সেবার শেষ স্তর হিসেবে আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে। এর ওপর রয়েছে আইআইজি, সাবমেরিন কেবল কোম্পানি ও আইটিসি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আইটিসি থেকে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার তথ্য পাওয়ার পরই তারা বুঝতে পারেন এটি সরকারের সিদ্ধান্তে বন্ধ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১৮ জুলাই মহাখালী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে আগুন লাগার পর কিছু এলাকায় ইন্টারনেট বিঘ্ন ঘটে। ওই দিন রাত ৯টার পর পুরো দেশে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়।

২৩ জুলাই তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বলে জানান তিনি। সে সময় ইন্টারনেট সেবা দ্রুত চালুর আশ্বাস দেওয়া হলেও পলকের “ডাটা সেন্টারে আগুন” সংক্রান্ত বক্তব্যকে তিনি রাজনৈতিক বলে মনে করেন।

ইমদাদুলের দাবি, প্রকৃতপক্ষে আগুন ডাটা সেন্টারে নয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে লেগেছিল। এতে কিছু ফাইবার অপটিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না, কারণ দেশে আরও একাধিক ডাটা সেন্টার চালু ছিল।

জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা করেন পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ। মামলায় পলাতক রয়েছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম শুনানি করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন...