TadantaChitra.Com | logo

২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কমিশনে বিজ্ঞাপন দেন মজিব, ঋণের আশ্বাসে সর্বনাশ করেন সৌমিত্র গোস্বামী!-পর্ব-১

প্রকাশিত : জুন ৩০, ২০২১, ১০:৫১

কমিশনে বিজ্ঞাপন দেন মজিব, ঋণের আশ্বাসে সর্বনাশ করেন সৌমিত্র গোস্বামী!-পর্ব-১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চেয়ারম্যান নয়, এমডি নয়’ তবে তাঁদের ক্ষমতা চেয়ারম্যান, এমডি’র চেয়েও বেশি। ঋণের জন্য আবেদন করা ব্যক্তিদের হট লিস্ট নিয়েই ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অসংখ্য কোম্পানিকে পথে বসিয়েছেন তারা। তাদের ভাব সাব ও বেশভূষায় মনে হয় তাঁরাই এই ব্যাংকের বড় কোন কর্মকর্তা। প্রতিষ্ঠানের কাগজ-কলম থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপন সেক্টর চলে তাদের ইচ্ছে মত। এসব যাদের কথা বলছি তারা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় জনতা ব্যাংকের প্রভাবশালী পরিচয় দেওয়া দুই কর্মকর্তা। একজন পিআরডি শাখার ডিজিএম মজিবুর রহমান মোল্লা ও অন্যজন ব্যাংকিং সেক্টরের সম্পাদক সৌমিত্র গোস্বামী। যেন জনতা ব্যাংকের সব কলকাঠি নাড়েন তারা। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালাক একজন কিশোর মুক্তিযোদ্ধা ও ব্যাংকিং সেক্টরের ব্যতিক্রম ব্যক্তি। যার প্রচেষ্টায় ঋণখেলাপী অনেকটাই কমে আসছে। কিন্তু তার সব চেষ্টাই আজ ভেস্তে বসেছে এই দুই কর্মকর্তার অপকর্মের ফলে। জনতা ব্যাংকের এমডি আবদুছ ছালাম আজাদ একজন সফল ও অভিজ্ঞ ব্যাংকার। তার কর্ম চেষ্টায় ইতিমধ্যে ব্যাংকের ঋণ খেলাপী কমে যাওয়ার শুরু হয়েছে। এরপর ১০০% সফলতা আসার আগেই পিআরডির ডিজিএম মজিবুর রহমান মোল্লা ও ব্যাংকের সম্পাদক সৌমিত্র গোস্বামীর লাগামহীন অপকর্মে ভেস্তে যাবে বলে ধারনা করেছেন অনেক কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, এমডির দপ্তরের দীর্ঘদিন কর্মরত থাকায় অনেক ঋণ প্রার্থী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সাথে সৌমিত্র গোস্বামীর গভীর সম্পর্ক হয়েছে। তাই এই সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান সরাসরি ব্যাংকটির এমডির সাথে যোগাযোগ করতে না পারলে শর্টকার্টে সৌমিত্রের কাছে চলে আসেন। এতেই সৌমিত্র গোস্বামী কমিশনের চুক্তি করে সকল ঋণ প্রত্যাশীদের তালিকার মধ্য থেকে নিজেদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানের তালিকা আগেই নির্ধারণ করে রাখেন। বোর্ড মিটিংয়ে সেইসব পছন্দের ঋণ প্রত্যাশীদের ঋণ পাস করার জন্য বোর্ডকে প্রভাবিত করে থাকেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এদিকে জনতা ব্যাংকের যে সকল কর্মকর্তা বিভিন্ন অপকর্মের জড়িত তাঁদের অপকর্ম আড়াল করতে পিআরডি’র ডিজিএম মজিবুর রহমান মোল্লা বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধার আশ্বাস দিয়ে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করেন। সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পিআরডি মূলত সাংবাদিকদের একটি সেতু বন্ধনের শাখা কিন্তু জনতা ব্যাংকের পিআরডি শাখা ওই প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মচারীদের অপরাধ আড়াল করার একটি সেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই শাখার প্রধান ডিজিএম মজিবুর রহমান মোল্লা তাঁর পছন্দের লোকজনকে নিয়মনীতির বাহিরে গিয়েও অনেক পত্রিকার চাহিদার উর্ধে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকেন এমন অভিযোগ অহরহ।

সূত্র জানায়, মজিবুর রহমান মোল্লা বিজজ্ঞাপন দিয়ে-ই কমিশন বাণিজ্য করেন তা নয়’ তিনি দ্রুত বিল পাইয়ে দিতেও কমিশন নেন তিনি। যেই প্রতিষ্ঠান কমিশন দিতে রাজি হয় তাঁদের বিল ভাউচার দ্রুত ভাবে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বিজ্ঞাপনের বিল সেকশনে। যারা কমিশন দেয় না তাদের বিল পেতে সময় লাগে ১৫-২০ দিন। বিজ্ঞাপন বিল হিসাব শাখার একজন কর্মকর্তা বলেন, কয়েকদিন পর পর এত এত বিল পাঠানো হয় যে আমরা দিশেহারা হয়ে যাই। এসব কাগজ সই স্বাক্ষর করে আবার অন্য শাখায় পাঠাতেও আমাদের সময় লাগে। প্রতিদিনের বিল প্রতিদিন পাঠালে আর এসব ঝামেলা হত না। প্রতিদিনের কাজ জমা রেখে একদিন পাঠানোর কারণে আমরাও ঝামেলা পরতে হয়।

এসব বিষয়ে এই দুই কর্মকর্তার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তাঁরা বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

আগামী পর্বে পড়ুন বিজ্ঞাপন দেওয়ার আশ্বাসে নারীবাজি…..


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্ত চিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।