TadantaChitra.Com | logo

২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

‘কারাখানায় নজরদারির অভাবে ভয়াবহ ঘটনা ঘটছে’

প্রকাশিত : জুলাই ১৩, ২০২১, ১৯:৩১

‘কারাখানায় নজরদারির অভাবে ভয়াবহ ঘটনা ঘটছে’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের সেজান জুসের কারখানা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে এখাতের শ্রমিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা। বিশিষ্টজনরা বলছেন, প্রচলিত আইন বা নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করেই চলছে অনেক শিল্পকারখানা। এ কারণে মাঝে মধ্যেই এমন দুঃখজনক ঘটনা ঘটছে। এক্ষেত্রে সরকারের নজরদারির অভাবকেও দায়ী করছেন অনেকে।

শিল্পকারখানাগুলোতে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা-অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘অনেক দুর্ঘটনা হত্যাকাণ্ডের শামিল। তাজরীন ফ্যাশনস, রানা প্লাজা অথবা সেজান জুস কারখানায় মানুষের প্রাণহানির ঘটনা লক্ষ্য করলে দেখবেন অবহেলা এবং দায়িত্বহীনতার কারণে বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। কারখানাগুলোয় আইনের লঙ্ঘন নিয়মিত ঘটনা। সরকারের নজরদারির অভাবেই বারবার এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটছে।’

সেজান জুসের কারখানা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘একজন মানুষও যেন অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ না করে তার নিশ্চয়তা সরকার এবং কারখানার মালিককেই দিতে হয়।’

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘সমাজ আজ দু’ভাগে বিভক্ত। ১ শতাংশ মানুষ একদিকে, অন্যদিকে ৯৯ শতাংশ মানুষ। সরকার ১ শতাংশ মানুষের স্বার্থরক্ষা করতে মরিয়া। এই ১ শতাংশ মানুষ সরকারকেও সুরক্ষা দিচ্ছে।’

লুটেরা, ধনী আর সাম্রাজ্যবাদ শক্তির নিশানায় সরকারগুলো পরিচালিত হচ্ছে অভিযোগ করে সেলিম বলেন, ‘এ কারণেই তাজরীন ফ্যাশনস, সেজান জুস কারখানায় আগুনের মতো ঘটনা বারবার দেখতে হচ্ছে। এদেশে সাধারণ মানুষের কোনো মূল্য নেই। চাপা পড়ে বা পুড়ে মরলে মালিকের কিছু যায়-আসে না। মুনাফাই সব। সরকার উন্নয়নের কথা বলে ক্ষমতা পোক্ত করে। উন্নয়নের জন্য মুনাফা দরকার। সে মুনাফা পোড়া লাশের বিনিময়ে হলেও মালিক-সরকারের কোনো সমস্যা নেই।’

বামপন্থী এ রাজনীতিক বলেন, ‘সাধারণ মানুষ জীবন রেখেবাজি শ্রম দিচ্ছেন। মালিকরা বিদেশে টাকা পাচার করছেন। করোনাকালে সব বন্ধ করে দেয়া হলো। অথচ গার্মেন্ট চালু রাখা হলো। কী নির্মম! সেজান জুস কারখানায় মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করি। কিন্তু কার কাছে বিচার দাবি করব? সরকার তো খুনিদের সুরক্ষা দিচ্ছে।’

অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, ‘একটি ঘটনা দিয়ে আরেকটি ঘটনা চাপা পড়ে যায়। রানা প্লাজা দিয়ে তাজরীনের ঘটনা ভুলে গেছি। সেজান জুস কারখানার ঘটনায় রানা প্লাজার ঘটনা চাপা পড়ে যাবে। এভাবেই চলছে। অথচ আমাদের এ পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার কথা ছিল। কারখানাগুলো সুস্পষ্টভাবে আইন লঙ্ঘন করছে। আমি বহু কারখানা পরিদর্শন করেছি। দেখেছি কীভাবে অল্প বয়সী মেয়েদের যৌন হয়রানি করা হয়। শ্রম আইন মানা হয় না বললেই চলে।’

বিশিষ্ট এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘মাত্র দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। কী হাস্যকর। একজন মানুষের মূল্য কি দুই লাখ টাকা? মূলত জবাবদিহি এবং দায়বদ্ধতা না থাকার কারণেই এমন শোষণের শিকার হতে হচ্ছে। সরকার কারখানাগুলো পরিদর্শনের ব্যবস্থাটা জোরদার করলে অন্তত এতো মানুষকে নির্মমভাবে মরতে হয় না।’

গত ৮ জুলাই বিকেলে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের সেজান জুসের কারখানা ভবনটিতে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ঘটনার প্রথম দিন তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত হন অর্ধশত শ্রমিক। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের ১৮টি ইউনিট ২০ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর গত ৯ জুলাই সকালে ওই ভবনের চারতলা থেকে ২৬ নারীসহ ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ জনে। ২৯ ঘণ্টা পর ৯ জুলাই রাতে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্ত চিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।