TadantaChitra.Com | logo

২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ঢাকার অপরাধ জগতের বিষবৃক্ষ ইয়াবা কবিরের জাল টাকা ও মাদক কারবার ভোলাতেও!

প্রকাশিত : জুলাই ১৪, ২০২১, ০৮:১৭

ঢাকার অপরাধ জগতের বিষবৃক্ষ ইয়াবা কবিরের জাল টাকা ও মাদক কারবার ভোলাতেও!

আল- আমিন শাহরিয়ারঃ রাজধানীর গুলশান এবং বনানীর বাসিন্দা জনৈক হুমায়ুন কবির গাজীর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা জাল টাকা তৈরি সহ অপরাধের ভয়ংকর নানা অভিযোগ উঠেছে। দেশ ব্যাপী মাদক ব্যবসা আর জালটাকা ছড়িয়ে দেয়ার মধ্যে দিয়ে কবির গাজী এখন অপরাধ জগতের মাস্টার মাইন্ড হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেছেন। গত দশ বছরে নিজের অপকর্মের বৃত্তকে আরো শক্তি শালী করে তুলেছেন। আন্ডারওয়াল্ডের শীর্ষ মাদক ও জাল টাকার কারবারিদের নাম আসলেই হুমায়ুন কবির গাজীর নাম সবার আগেই চলে আসে।নির্ভর যোগ্য একাধিক সূত্র ও ব্যাপক তথ্যানুসন্দ্ধানকালে উক্ত কবির গাজীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ তার মাদক কারবার ও জাল টাকা ও মাদক সিন্ডিকেটের চাঞ্চাল্যকর পাহাড়সম তথ্য তুলে ধরেন।

খোঁজ নিয়ে যানা যায়, ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ৮নংওয়ার্ডের বাসিন্দা আঃখালেকের সাত ছেলে মেয়েদের মধ্যে, বড় ছেলে হুমায়ুন কবির গাজী( ৫০)ছোটবেলা থেকেই ছিল দুস্টু প্রকৃতি স্বভাবের,। এলাকায় হাঁস মুরগী চুরি থেকে সিঁদ কেটে মানুষের ঘরের মালামাল চুরি করাই ছিলো তার নিত্যদিনের কাজ।

ভোলার আলি নগর এলাকায় অবস্হিত তার গ্রামের বাড়ির এলাকায় সরেজমিন অনুসন্ধানে গেলে এলাকাবাসী কবির গাজী সম্পর্কে চমতপ্রদ নানা কাহিনি তুলে ধরেন।

স্হানীয়রা এ প্রতিবেদককে জানান, হুমায়ুন কবির গাজী চার সন্তানের জনক। ছোট কাল থেকেই দেখেছি খুব কষ্টে চলতো তার সংসার। কিন্তু গত দশ বছর ধরে কবির গাজী আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। কি ব্যবসা করে সে আজ এলাকায় বাড়ি, পাকা দালান ঘর এবং তার নামে বাড়ির সামনে মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা তৈরি করে দিচ্ছেন।কবির গাজী গত দশ বছর আগে এলাকায় চুরি করার অপরাধে গ্রাম্য শালিশীতে এলাকার সমাজপতিরা তাকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেন। বাধ্য হয়ে ভোলা ছেড়ে ঢাকায় চলে যান কবির। এলাকার কয়েকজন বলেন, শুনেছি ঢাকায় মাদকের ও জাল টাকার ব্যবসা করে,এবং বউ ছেলে – মেয়েদের নিয়ে সেখানেই বসবাস করেন। মাঝে মধ্যে ভোলাতে আসেন, দুই এক দিন থাকার পর ঢাকায় চলে যান। আমাদের এলাকায় একসময়ে কবির গাজী চুরি চামারি করতো।প্রতিদিন এমন অভিযোগ আসতো তার বাবার কাছে এবং এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বারদের কাছে। মাঝে মধ্যে উওম মাধ্যম দিয়ে ছেড়ে দিতো এলাকাবাসি।লোকলজ্জায় এবং মানুষের একাধিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার বাবাও বাড়ি থেকে তাকে বহুবার তাড়িয়ে দেন।

এদিকে, কবির গাজী উপায়ন্ত না পেয়ে পারি জমান রাজধানীর ঢাকায়। বনানী-গুলশানে এলাকায়,শুরু করেন ডাপ ব্যবসা এবং সেখানকার বিভিন্ন মাদক সিন্ডিকেটের সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে ডাব ব্যবসার অন্তরালে সে শুরু করেন মাদকের ব্যবসা।ডাবের ভিতরে ফেন্সিডিল ভরে ওই ডাব রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিতেন। এভাবে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে কবির গাজী বিশাল অর্থ বিত্তের মালিক বনে যান।তার আর পিছনে তাকাতে হয়নি।

তথ্য মতে, মাদক ব্যবসার পাশাপাশি উক্ত কবির গাজী মেশিনে জাল টাকা তৈরি শুরু করেন।দেশ ব্যাপি মাদক ও জাল টাকা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়ে তিনি হয়ে উঠেন আন্ডার ওয়াল্ডের ডন।রাজধানী ঢাকার অন্ধকার জগতের পরিচিত মুখ হিসেবে তিনি গড়ে তুলেন বিশাল মাদক ও জাল টাকার সিন্ডিকেট।

খোঁজ নিয়ে যানা যায়, আইনশৃংখলা বাহিনীর এক শ্রেনীর অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কবির গাজী সারা দেশব্যাপী মাদক ও জাল টাকার চালান পৌঁছে দেন। মাদক ও জাল টাকার চালান নিয়ে র্যাব -পুলিশের হাতে ধরা খেয়ে কবির গাজী বহুবার জেল খাটেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় শতাধিক মামলা রয়েছে।

সুত্র মতে, ঢাকার আন্ডারওয়াল্ডের দুর্ধর্ষ কিলার মুরগী মিলন,টোকাই সাগর ও সুইডেন আসলামের সাথে তার সখ্যতা রয়েছে। সেই সুবাদে মাদক ও জাল টাকা বিক্রির একটি অংশ তাদেরকে দেয়া হয়।ওইসকল কিলারদের ছোট খাটো ক্যাডারদেরকে কবির গাজী নিজের অবৈধ ব্যবসার কাজে ব্যবহার করে থাকেন।

তথ্যনুসন্ধানকালে জানা যায়, রাজধানীর ঢাকার গুলশান -বনানী এলাকার নতুন বাজারে কবির গাজীর মাদকের বিশাল আস্থানা রয়েছে। শুধু মাদক বিক্রির টাকা দিয়েই ওই এলাকার কয়েকটি স্পষ্টে তিনি বহুতলা বিশিষ্ট অসংখ্য বিলাশ বহুল প্রাসাদময় সুরুম্য অট্রালিকা নির্মাণ করেছেন। যার মুল্যে কয়েক হাজার কোটি টাকা।

অনুসন্ধানকালে স্হানীয় শ্রেনি পেশার মানুষ মাদক কারবারি কবির গাজীর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর বহু তথ্য তুলে ধরেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, কবির গাজীর মাদকের মুল চালানটি আনা হয় টেকনাফ থেকে। সেখানকার বহুল আলোচিত সাবেক এমপি বদির সাথে তার ব্যাপক সখ্যতার কারনে মাদক ব্যাবসার প্রসার ঘটাতে কবির গাজীর প্রতি বদির আন্তরিকতার কমতি নেই। ফলে মিয়ানমার থেকে টেকনাফ রুট দিয়ে বদির বদান্যতায় কবির গাজীর মাদকের কন্টেইনারবাহী কার্গো পরিবহন অতি নিরাপদেই পার হয়ে চলে আসে রাজধানী ঢাকার গুলশানের আস্তানায়।এ ভাবেই সেখান থেকেই দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেওয়া হয় কবির গাজীর মাদকের চালান গুলো।

একটি সুত্র এ প্রতিবেদকে জানান, বর্তমানে ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে জাল টাকার সিন্ডিকেট তার নিয়ন্ত্রণে চলে। তার এই একক আধিপত্যের বিষয়ে কেউ মূখ খুলতে চাইলে উল্টো তাকে সাজানো ফাঁদে পড়ে জাল টাকাসহ গ্রেফতার হয়ে কারা ভোগ করতে হয়।গডফাদারের কথা অমান্য করায় কবির গাজীর বহু চেলাচামুন্ডা এখনও ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলে তার সাজানো মামলায় কারাভোগ করছেন।

তার মাদক এবং জাল টাকার কারবারির অসংখ্য তথ্য ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছে থাকা সত্ত্বেও অদৃশ্য ইশারায় তার বিরুদ্ধে ব্যাপক কোন অভিযান কিম্বা সঠিক কোন এ্যাকশান দেখছেন না ভুক্তভুগিরা। তার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় মাদক ও জাল টাকার শতাধিক মামলা হলেও ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় আইনের হাত থেকে বার বার বেরিয়ে আসেন কুখ্যাত মাদক ও জাল টাকার কারবারি হুমায়ুন কবির গাজী।

বর্তমানে কবির গাজী তার নিজ জেলা ভোলাতেও মাদক এবং জাল টাকার রমরমা ব্যবসা চালু করেছেন।সেখানে তিনি প্রায় দের শতাধিক মাদক কর্মী নিয়োগ দিয়েছেন বলে অপর একটি সুত্র নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির গাজীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এক সময় মাদক ব্যাবসার সাথে জড়িত থাকলেও এখন আর তা করছি না।বাড়ি ভাড়ার টাকা দিয়েই তার সংসার চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

ভোলা সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এনায়েত হোসেন জানান, কবির গাজী সম্পর্কে শুনেছি। ভোলায় তার মাদক ও জাল টাকা ব্যবসা চলছে কিনা সে ব্যাপারেও পুলিশ খোঁজ খবর নিচ্ছেন।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্ত চিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।