TadantaChitra.Com | logo

৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভোলার মেঘনার বালুদস্যুশেঠ শামীম-নকীব বাহিনী, পুলিশের কম্বিং অপারেশন!

প্রকাশিত : জুলাই ২৮, ২০২১, ১৪:৪২

ভোলার মেঘনার বালুদস্যুশেঠ শামীম-নকীব বাহিনী, পুলিশের কম্বিং অপারেশন!

বরিশাল ব্যুরোঃ দ্বীপ জেলা ভোলার মেঘনা নদী ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে। জলদস্যু আর বালুদস্যুদের তান্ডবলীলায় সেখানকার পরিবেশ একেবারেই পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে সাধারন জেলেরা যেমনি নদীতে মাছ ধরতে যেতে সাহস করছে না তেমনি বালুদস্যুদের কারনে টিকছেনা জেগে উঠা নতুন নতুন চরাঞ্চলের অস্তিত্ত্ব। সন্ত্রাসীদের হামলা, হয়রানী আর মিথ্যা মামলায় দিশেহারা জেলে সমাজসহ খেটে খাওয়া সাধারন মানুষগুলো।

সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকেই ভোলার মেঘনা নদীর বুকে জেগে উঠা চরগুলো ড্রেজার দিয়ে কেটে প্রতিদিন দস্যুরা কার্গো বোঝাই করে বালু লুটে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের নির্ধারিত টোকেন ছাড়া কোন জেলে নদীতে মাছ ধরতে পারেনা। নকীব- শামীমের কাছ থেকে সাঙ্কেতিক টোকেন ক্রয় করেই জেলেরা মেঘনায় মাছ শিকারে যেতে পারেন বলে সূ-নির্দিস্ট অভিযোগ রয়েছে।

মেঘনার জেলে সম্প্রদায় ও স্থানীয় শ্রেনীপেশার লোকজনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বছরের পর বছর মেঘনা নদীর ডুবো চর কেটে বালু লুটে নেয়ার মূল হোতা হচ্ছেন-ভোলা জেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক জহুরুল ইসলাম নকীব ও তার আপন ভাতিজা আনোয়ার হোসেন শামীম মোরাদার।

সূত্রমতে, মেঘনায় একক আধিপত্য ও বালু লুট করে শামীম মোরাদারই কমপক্ষে পাঁচশত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আর জহুরুল ইসলাম নকীবের পেটে চরকাটা বালু বিক্রির কতশত কোটি টাকা জমেছে তার হিসেব হয়তো তিনি নিজেও দিতে পারবেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভোলার মেঘনা নদীর আলোচিত বালুদস্যুদের গডফাদারখ্যাত শামীম মোরাদার স্থানীয় কাচিয়া ইউনিয়নের একটি প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। নদীতে লুটপাট, টেন্ডারবাজী, ভূমিদস্যুবৃত্তি আর তদবীরবাজীসহ অসংখ্য অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ায় স্কুলে সময় দিতে পারতেন না তিনি। ফলে কর্মস্থলে হাজির না হয়েও খাতায় উপস্থিতির স্বাক্ষর করতেন শামীম। কালক্রমে অসৎ পথের রোজগাড়ে বিশাল বিত্ত্ববৈভবের মালিক হয়ে পড়ায় চাকুরী ছেড়ে দেন তিনি। এরপর পেশাগতভাবেই শুরু করেন বালুদস্যুবৃত্তিসহ নানাধরণের সিরিজ ক্রাইম।পুরো জেলাব্যাপী অপরাধের জাল ছড়িয়ে দেন শামীম মোরাদার। গঠন করেন, বিশাল স্বশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী । এসকল অস্ত্রধারী ক্যাডাররা শামীমের নির্দেশে ভোলার জনপদে প্রতিদিন দাঙ্গাহাঙ্গামা, লুন্ঠন ও ভয়ঙ্কর অপরাধসহ নিরীহদের বিরুদ্ধে নিপিড়নের রাজত্ত্ব চালায়। ভোলার মেঘনা পাড়ের মাছ ব্যবসায়ী, জেলে ও মাঝি- মাল্লাদের কাছে নকীব ও শামীম মোরাদার হচ্ছেন এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভোলার সরকারী-বেসরকারী প্রতিটি দপ্তরে শামীমের নির্দেশ না মানলে সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃস্টি করা হয়। লঞ্চঘাট, খেয়াঘাট, মাছঘাট, ফেরীঘাট নিয়ন্ত্রন এমনকি সড়ক পথে পরিবহন চলতে গেলেও নকীব-শামীমকে চাঁদা দিতে হয় বলে ভূক্তভোগীদের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ঢাকা থেকে মালবাহী কার্গো জাহাজগুলো ভোলার মেঘনা নদীর শাহবাজপুর চ্যানেল দিয়ে চট্রগ্রামে যাওয়ার পথে শামীমের লেলিয়ে দেয়া নৌ- দস্যুরা সেগুলোর গতিরোধ করে তাতে ব্যাপকহারে চাঁদাবাজী ও লুন্ঠন চালানোর ঘটনা মেঘনা পাড়ের জনপদের সকলেরই জানা।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি প্রাইমারী স্কুলের সামান্য বেতনের এই শিক্ষক তার চাকুরী ছেড়ে দেয়ার পর থেকেই যেন আলাদ্বীনের আশ্চর্য প্রদ্বীপ পেয়ে বসেন। দলের কোন পদ-পদবী না থাকলেও শামীম মোরাদার ভোলার আওয়ামীলীগের কাছে আবির্ভূত হয়ে উঠেন শক্তিধর মূকুহটহীন সম্রাট হিসেবে। জেলা শহর ভোলার গাজীপুর রোডের যেখানে সাংসদ তোফায়েল আহমেদের বাসভবন ঠিক তার পূর্বপার্শ্বেই নির্মিত প্রাসাদসম আলীশান পাঁচতলা বাড়ীতে বাস করেন আনোয়ার হেসেন শামীম মোরাদার। তিনি চলাচল করেন, কোটি টাকা মূল্যের লাক্সারিয়াস গাড়ীতে। রাজধানী ঢাকার অভিজাত কয়েকটি এলাকায় নকীব ও শামীমের বেশ কয়েকটি বিলাস বহুল বাড়ী ও ফ্ল্যাট রয়েছে বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে তথ্য রয়েছে। সাংসদ তোফায়েল আহমেদের বাড়ীর পশ্চিম পার্শ্বে জহুরুল ইসলাম নকীবের বিলাসবহুল বাড়ী বিদ্যমান। তিনি ভোলায় চড়েন দামী পাজেরো গাড়ীতে। ফ্যামিলি থাকেন ঢাকার ধানমন্ডিতে। তাদের জন্যও সেখানে নানা ব্র্যান্ডের কোটি টাকা মূল্যের কয়েকটি গাড়ী রয়েছে। জানা গেছে, ভোলার যে পরিবারটি’র একসময় নূন আনতে পান্থা ফুড়াতো সেই পরিবারের সদস্যরা এখন শত শত কোটি টাকার মালিক হওয়ার উৎস্য কি তা ভোলাবাসীর অজানা নয়।

সূত্রমতে, দুর্ণীতি, অন্যায়-অত্যাচার ও সীমাহীন জুলুমবাজী করে অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক বনে যাওয়ায় নকীব-শামীমের বিরুদ্ধে দুদকে বছরখানেক আগে অভিযোগ হলেও সেই ফাইলটি আদৌ আলোর মূখ দেখবে কি-না এমন প্রশ্নও রয়েছে ভোলার সূ-শীল ব্যাক্তিদের মাঝে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুদকে দায়েরকৃত এ দুই চাচা-ভাতিজার আমলনামার ফাইলটি বহু আগেই তারা মাটি চাঁপা দিয়েছেন। বলে বেড়াচ্ছেন, দুদক তাদেরকে নির্দোষ আর নিষ্পাপের সার্টিফিকেট দিয়েছেন। ফলে তাদের বিরুদ্ধে আর কেউ কোন অভিযোগ দিলেও তাদের কিছুই হবে না।

নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদী হতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১ লা ডিসেম্বর জনৈক শেখ ফরিদ নামের এক ব্যক্তি জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। (যার নাম্বার-১১১২৪)। ওই রিটে ভোলার তৎকালীন জেলা প্রশাসক সেলিম রেজা, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাকসুদুর রহমান, ম্যাজিষ্ট্রেট আশিকুর রহমান ও ভোলা সদর মডেল থানার তৎকালীন ওসি মোবাশ্বের আলীকে বিবাদী করা হয়। রিট পিটিশনের বিষয়বস্তু নিয়ে বিচারপতি ফরিদ উদ্দিন ও বিচারপতি এমডি রেজাউল হাসানের দ্বৈত বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানী শেষে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আদেশ প্রদান করেন।

২০১৫ সালের ২৮ আগষ্ট ওই আদেশটি ভোলা-লক্ষ্মীপুর ও বরিশাল এলাকার নদ-নদীগুলোর জন্য বলবৎ থাকবে বলেও হাইকোর্ট নির্দেশনা জারি করেন। তখন ভোলার জেলা প্রশাসকসহ বিবাদীগন উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞামতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলেও হাইকোর্টকে অবহিত করেন। কিন্তু সেই সময়কার জেলা প্রশাসকের বদলির পর পরই শামীম- নকীব বাহিনী ফের মেঘনার বুক চিড়ে বালু কাটার মহোৎসব শুরু করেন। যা এখনো অব্যহত আছে। স্থানীয়দের মতে, ভোলার এসমস্ত বালুদস্যুদের কাছে হাইকোর্ট-সুপ্রীমকোর্ট ডেপমকেয়ার।

এদিকে ভোলার মেঘনা-তেতুলিয়ায় জেগে উঠা ডুবো চর কেটে বালু লুটের ফলে দেশের সম্ভাবনাময়ী এজেলাটি মেঘনার ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা। অব্যহত নদীর ভাঙ্গনে এখানকার মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বালুদস্যুদের সন্ত্রাসের ফলে একসময়কার বিশাল আয়তনের ভোলা এখন দিনদিন ছোট হয়ে আসছে। বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট, চলছে ভাঙ্গা-গড়ার খেলা। বালুদস্যুদের বিরামহীন তান্ডবে নদী ভাঙ্গা মানুষগুলো তাদের বাপ-দাদার ভিটে বাড়ী হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে এখন শুধু আল্লাহকে ডাকছেন। তারা তাদের পার্শ্বে নেতা-নেত্রী কিম্বা কোন কর্তা ব্যাক্তিদের সাহায্যের হাত বাড়াতে দেখতে পান না বলে দূঃখভরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

অনেকেই মন্তব্য করে বলেন, যেসব ডাকসাইডে নেতারা জনতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে জ্বালামম্ময়ী ভাষন দিয়ে ভোলাকে সিঙ্গাপুর বানানোর স্বপ্ন দেখান, তাদের লোকেরাই যদি ভোলার মানচিত্র গিলে খেয়ে ফেলেন তাহলে সেই নেতা কোন জেলাকে সিঙ্গাপুর বানাবেন?

তথ্যমতে, ভোলার মেঘনা নদীর বুকে জেগে উঠা কাঁচিয়া ইউনিয়নের সূ- বিশাল মাঝের চর, রামদেবপুর ও বড়াইপুরসহ চাষযোগ্য বহু চরের শত শত একর জমি দখল করে এ চক্রটি ভূমিহীন মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা বখড়া তুলে নিজেদের ভান্ডার বোঝাই করে ফেলেছেন ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।

অপরদিকে এসব বিষয়গুলো স্থানীয় সাংসদ তোফায়েল আহমেদের নখদর্পনে থাকলেও এরা যে পুরো জেলার মাটি-ই গিলে খাচ্ছেন তা হয়তো সাংসদ জানতেন না। গত ২০ জুলাই শামীমের ক্যাডাররা ভোলা সদরের তুলাতুলি মাছঘাটে হামলা ও লুটতরাজ শেষে সেখানকার ঘাটের ইজারাদার এবং মাছ আড়তের মালিক আসলাম গোলদারকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। আহত আসলামকে আশংকাজনক অবস্থায় প্রথমে ভোলা সদর হাসপাতাল পরে বরিশাল সেবাচিমে রেফার করেন চিকিৎসক। দলীয় লোকজন হওয়ায় ভোলার পুলিশ সেখানকার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন। অবশেষে সাবেক মন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ তোফায়েল আহমেদ ঘটনার আদ্যোপান্ত জানতে পারেন। এসমস্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি জেলা প্রশাসক ও এসপিকে নির্দেশ দেন।

সম্প্রতি মেঘনায় দস্যুতা নিধনে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট আবি আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে ভোলার মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে ১৯ জন বালুদস্যুকে ড্রেজার এবং ভলগেটসহ আটক করা হয়। যদিও বালুদস্যুদের সেই গডফাদার বিশেষ কায়দায় ম্যানেজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার বাহিনীর দূর্বৃত্তদের ছাড়িয়ে আনেন। ওই ঘটনাটি তখন ভোলার টক অব দ্যা টাউনে রুপ নেয়।

এদিকে গত ১৮ জুলাই চিহ্নিত ক্যাডাররা মোটর সাইকেল শো-ডাউন করে স্থানীয় তুলাতুলি মাছঘাটে হামলা, ভাংচুর ও লুটতরাজের ঘটনা ঘটায়। ক্যাডাররা ঘাটের ইজারাদার আসলাম গোলদারের মাছের গদিতে হামলা চালিয়ে ক্যাশবাক্স ভেঙ্গে সাড়ে তিন লাখ টাকা লুটে নেয় বলে আসলাম অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, ওইদিন বিকেল সাড়ে ৬ টার দিকে এলাকার চিহ্নিত ক্যাডার নোমান পাটওয়ারীর নেতৃত্বে টিটু, মনির মেম্বার, তরিক গোলদার, জিসান, সাইফুল্লাহ, লিটন, বুদ্ধি মাঝি, বাবু, কামাল ডাক্তার, ভূট্রু মাঝি, মঞ্জুর আলম খই,লাভলু, আমিনুল ইসলাম, লালু মাঝি, সফিক, সুমন মাঝি, সাহাবুদ্দিন ও তাজউদ্দিনসহ প্রায় ৩০/৪০ জনের দূর্বৃত্তদল মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে ঘাট এলাকায় ত্রাস চালায়। এসময় তাদের অধিকাংশের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, হকিস্টিক ও ধাড়ালো অস্ত্র শোভা পায় বলে গ্রামবাসী জানিয়েছেন। মাছের গদিতে হামলার পর অস্ত্রধারীরা সেখানে ঝুলানো ভলগেট শ্রমিক সংগঠনের একটি সাইনবোর্ড ভেঙে নিয়ে যায়।

মাছ ঘাটের ব্যবসায়িরা জানান, একই সন্ত্রাসীরা ২০ জুলাই ধনিয়া ইউনিয়ন ৩ নংওয়ার্ডস্থ মোস্তফা ডাক্তার বাড়ীর সামনে একা পেয়ে মাছ ব্যবসায়ী আসলাম গোলদারকে লাঠি, রড ও হকিস্টিক দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম কবে। লোমহর্ষক এমন তান্ডবের খবর জানতে পেরে ভোলা সদর আসনের এমপি তোফায়েল আহমেদের নির্দেশে এসকল ক্যাডারদের বিরুদ্ধে ভেলা সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের হয়। (যার নং জিআর -৪৪/২১)। সন্ত্রাসী হামলায় আহত ব্যবসায়ী আসলাম গোলদারের বাবা মোঃ আবুল বাসার নিজাম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

ভোলা সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এনায়েত হোসেন জানান, সাংসদ তোফায়েল আহমেদের নির্দেশে মামলা হয়েছে।
সাংসদের উদ্বৃতি দিয়ে ওসি এনায়েত হোসেন গণমাধ্যমকে আরো জানান, সাংসদ তোফায়েল আহমেদ স্যার ভোলার মেঘনার জলদস্যু ও বালুদস্যুদের নিধন করতে জিরো টলারেন্স বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। সেই আলোকে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে খুব শীঘ্রই ভোলায় সন্ত্রাস বিরোধী কম্বিং অপারেশন শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওসি এনায়েত হোসেন।

ভোলার সাধারন জেলে ও নদীর মাছঘাটসহ জনগনের আতংক এসকল সন্ত্রাসীরা এখনো তাদের অপকর্ম চালাচ্ছে বলে প্রতিনিয়ত অভিযোগ আসছে। এসমস্ত দূর্বৃত্তদের ভয়ে ভোলার মানুষ চরম আতঙ্ক, উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার মধ্যে দিন-রাত কাটাচ্ছেন।

অপরদিকে মেঘনায় দস্যুপনা সন্ত্রাস আর নানা অপকর্মে অভিযুক্ত আ’লীগ নেতা জহুরুল ইসলাম নকীব ও তার ভাতিজা আনোয়ার হোসেন শামীম’র সাথে কথা হলে তারা এসমস্ত ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবী করেন। তারা বলেন, আমরা সকলের কাছে জনপ্রিয় বলেই অনেকের ঈর্ষার কারন হয়েছি। তাদের দাবী, ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হবেনা।

অন্যদিকে এদের সন্ত্রাস আর দস্যুপনার বিরুদ্ধে বর্ষিয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ সত্যিকারার্থে আদৌ কি কোন ব্যাবস্থা নিবেন? এমন প্রশ্নো এখন ভোলার নির্যাতিত সকলের মূখে মূখে। তারা এ সাংসদের সন্ত্রাস বিরোধী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে তার উক্ত অভিযানের বাস্তব রুপ দেখতে চান।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্ত চিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।