TadantaChitra.Com | logo

৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মাদক চোরাচালান চাঁদাবাজির টাকায় কোটিপতি সোর্স জুয়েল কুমিল্লার আতংক…!

প্রকাশিত : আগস্ট ১৫, ২০২১, ১৫:০৩

মাদক চোরাচালান চাঁদাবাজির টাকায় কোটিপতি সোর্স জুয়েল কুমিল্লার আতংক…!

বিশেষ প্রতিবেদক, কুমিল্লাঃ ভারত সীমান্তবর্তী কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের সোর্স জুয়েল কুমিল্লার আতংক। স্বল্প সময় পুঁজি বিহীন কোটি বনে যাওয়া নিয়ে নানান ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে তারই এলাকায়। দরিদ্র কৃষক মফু মিয়ার ছেলে জুয়েলের ইশারা ও তাকে বখড়া দেয়া ছাড়া মাদক কারবারি চোরাচালানীরা কোন মালই সীমান্তের এপাড়ে আনতে পারে না বলে জানিয়েছেন সীমান্তের অন্তত ১০ জন লাইনম্যান ও চোরাকারবারে যুক্ত ব্যক্তি। জুয়েলকে চাঁদা ও মাসোহারা দিয়েই ব্যবসা করতে হয় তাদের। ডিবি পুলিশের গাড়ি চালক থেকে রাতারাতি কোটিপতি ও বাড়ি গাড়ির মালিক বনে যাওয়া সোর্স জুয়েলের আয়ের মূল উৎসই চাঁদা আদায় ও মাদক, চোরাচালান।

সূত্র জানায়, কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে দুটো গাড়ি ভাড়া দিয়ে নিজে চালাতেন একটি। বিদেশে সুবিধা করতে না পেরে দেশে এসে গাড়ি চালাতে শুরু করেন জুয়েল। ডিবির বিভিন্ন টিমের সাথে থেকে মাত্র কয়েক বছরেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার পেছনে রয়েছে মাদকের বিশাল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ। জুয়েলের নেতৃত্বে কয়েকজন সহযোগীর সহায়তায় কুমিল্লায় গড়ে তুলেছে মাদক ও চোরাচালানের বিশাল এক সিন্ডিকেট। চৌদ্দগ্রাম থেকে শুরু করে কসবার সীমান্ত পর্যন্ত প্রতিটি মাদক ও চোরাচালান রুটে জুয়েলের রয়েছে নিজস্ব আলাদা সোর্স। সোর্সের কাজ পাশাপাশি গাড়ি চালানোর সুবাদে ডিবি পুলিশের সাথে সখ্যতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছে অবৈধ ভাবে। অল্প কয়েকদিনেই বনে গেছে টাকার কুমির। সীমান্তে চাঁদাবাজি, মাদক কারবারি ও সাধারন মানুষকে ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে টাকা আদায়, মাদক বাণিজ্য, চোরাচালান সহ অন্তহীন অভিযোগ জুয়েলের বিরুদ্ধে। চাঁদাবাজি টাকায় একটি গাড়ি থেকে এখন প্রায় ১৩/১৪ টি দামি হাইএইচ, প্রাইভেট কার, মাইক্রো নোহা গাড়ির মালিক জুয়েল নগরীর কালিয়াজুড়ি এলাকায় করেছে দুই দুইটি বহুতল ভবন। নামে বেনামে কিনেছে একাধিক জমি ও প্লট। এসব কালো টাকা সাদা করতে সদর দক্ষিণ উপজেলায় গড়ে তুলেছে ডেইরী ফার্ম।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সোর্স জুয়েলের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ সহ বিভিন্ন জেলায় ৮টি মাদক মামলা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নিজেকে পুলিশ, ডিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোক পরিচয় দিয়ে গাড়ির সামনে স্টিকার লাগিয়ে নিজ গাড়িতে ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিল পাচার করে থাকে ঢাকা সহ আশেপাশের জেলা ও উপজেলায়। এভাবে বিভিন্ন সময় মাদক পাচার করতে গিয়ে তার গাড়ি সহ ড্রাইভারও আটক হয়েছে কয়েকবার। রংপুর, রাজশাহী সীমান্ত থেকেও তার কয়েকটি গাড়িতে করে মাদক পাচার করা হয়।

এছাড়াও তার নানা অপকর্মের বিষয়ে প্রতিবাদ করায় এবং মাদক ব্যবসার তথ্য প্রকাশ করায় বিভিন্ন সময় প্রশাসন দিয়ে তুলে নেয়া, মোটা অংকের টাকা আদায়, মিথ্যা মামলায় হয়রানি, পুলিশ ও ডিবি সেজে মাদক কারবারিদের মাদক নিজেই আত্মসাৎ সহ কয়েক ডজন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সোর্স জুয়েলের হাতে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন এমন বেশকিছু সাধারণ মানুষ ও মাদক কারবারিদের কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জুয়েল নিজেকে কখনো পুলিশ কখনো ডিবি কখনো বা সোর্স পরিচয় দিয়ে মাদক ব্যবসা সহ চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নির্বিঘ্নে মাদক কারবার ও চাঁদাবাজি করলেও হয়রানি ও মামলা হামলা গুমের ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। জেলা গোয়েন্দা পুলিশে ভাড়ায় দেয়া তার একাধিক গাড়ি রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত দিনে মাদক কারবারিদের ক্রসফায়ার শুরু হলে বেশকিছু মাদক কারবারিকে তালিকায় নাম আছে জানিয়ে তাদেরকে ক্রসফারের ভয় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জুয়েল। জেলা থেকে পোস্টিং হলেও তার সাথে সখ্যতা, ব্যবসা এবং বিভিন্ন লেনদেন রয়েছে প্রশাসনের অসাধু কয়েকজন কর্মকর্তার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিরা জানায়, গত বছর তার বিরুদ্ধে চারটি মাদক মামলা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় মাদক সহ আটক হলেও অদৃশ্য কারণে ছাড়া পেয়ে যায় জুয়েল। ধূর্ত জুয়েল সিন্ডিকেটে রয়েছে ২০ জনের অধিক সহকারী। যারা বেশি ভাগ সোর্স হিসেবে পরিচিত কুমিল্লায়। আর তাই তাদের ভয়ে কেউ কথাও বলতে পারে না। জানা যায়, জুয়েল চট্টগ্রাম ও রাজধানী ঢাকার অভিজাত বার ও মিডিয়া পল্লীতে মাদকদ্রব্য সরবারহ করে থাকে।

গোপন বিশ্বস্ত সূত্রগুলো জানায়, বিভিন্ন সময় পরিত্যাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মাদক ও গোপনে মোটা অংকের চুক্তিতে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া আসামী থেকে উদ্ধারকৃত মাদক জুয়েলের মাধ্যমেই বিক্রি করা হয় জেলার বাইরে। এসব থেকেও মোটা অংকের ভাগ পায় জুয়েল।

প্রবাস থেকে রিক্ত হস্তে ফিরে এসে এক সময় ভাড়ায় অন্যের গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা জুয়েল রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার বিষয়টি এলাকায় ওপেন সিক্রেট হলেও তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস কারো নেই। হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া জুয়েল ভুক্তভোগীদের কাছে এক আতংকের নাম। এলাকায় তার কথা মত না চললে মিথ্যা মামলায় হয়রানি ও নির্যাতনের ভয় আতংকিত থাকে অনেকেই। এছাড়া, গ্রামের সহজ সরল ছেলেদের চাকরী দেয়ার কথা বলে তাদের দিয়ে বিশাল মাদকের চালান দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পাঠানোর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সদরের বসন্তপুর গ্রামের জাহানারা আক্তার নামে এক নারী জানান, আমার ছেলে মো.আরিফ হোসেন পড়াশোনার পাশাপাশি অটো রিকসা চালাত এলাকায়। এইচএসসি করার পর আমার সতিনের ছেলে আওয়ালের কথায় চাকরি করতে গিয়ে জুয়েলের মাদক পাচারের সাথে জড়িয়ে পড়ে। এরপর দীর্ঘদিন ছেলের কোন খোঁজ পাইনি। এক বছর পর জানতে পারি আমার ছেলে জেলে আছে। জুয়েলের দেওয়া এক লাখের অধিক পিস ইয়াবা সহ তাকে ঢাকায় আটক করে পুলিশ । আমার পড়াশোনা জানা ছেলেটি আজ দীর্ঘ চার বছর ধরে জেল খাটছে, শুধু জুয়েলের কারনে। ছেলের মুক্তি ও ক্ষতিপূরণ সহ জুয়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা পুলিশ সুপার সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান ভুক্তভোগী সেই মা।

এসব বিষয়ে জানতে জুয়লের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি একজন খামার ব্যবসায়ী, আমার নিজের ডেইরী ফার্ম আছে। এছাড়াও গাড়ির ব্যবসা করি, ডিবিতেও আমার গাড়ি দিয়ে রেখেছি। মাদক কারবারি ও প্রশাসনের কিছু সোর্স আমার পেছনে লেগেছে। এসবই আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত। আমি মাদক ব্যবসা করি না।

সোর্স জুয়েলের বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে জানতে চাইলে বারবার ফোন দিলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেন নাই।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্ত চিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।