TadantaChitra.Com | logo

৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মুকসুদপুরের স্বর্ণ চোরাকারবারির ডন রনি‘র সম্পদ পরিমাপে যাচ্ছে দুদক টিম…!

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১, ১৮:৩০

মুকসুদপুরের স্বর্ণ চোরাকারবারির ডন রনি‘র সম্পদ পরিমাপে যাচ্ছে দুদক টিম…!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ স্বর্ণ চোরাকারবারি, হুন্ডি ব্যবসা ও অর্থ পাচার মাফিয়া রনি আহমেদ ওরফে শেখ রনি’র অবৈধ সম্পদের বাস্তব চিত্র দেখতে সরেজমিনে যাচ্ছেন দুদক টিম। আজ দুদকের ডিএডি সাহিদুর রহমানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি টিম গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর থানার নওখন্ডা এলাকায় স্বর্ণ চোরাকারবারি, হুন্ডি ব্যবসা ও অর্থ পাচারের মাফিয়া রনি আহমেদ ওরফে শেখ রনি‘র “স্বর্ন ভবনে”র বাস্তব চিত্র পরিমাপ করতে যাবেন। এই টিমে গণপূর্ত বিভাগের স্ব স্ব বিভাগের প্রকৌশলীরা থাকবেন বলেও জানা গেছে। দুদকের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এমপির কাছের লোক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, বর্তমান থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম সিকদারের আস্তাভাজন হিসেবে পরিচয় দিয়ে স্বর্ণ চোরাকারবারি, হুন্ডি ব্যবসা ও অর্থ পাচার করেন রনি। জানা গেছে, ঠিকমত ভাত খাওয়ার চাল ছিল না, আজ তিনি স্থানীয় ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান হতে কোটি কোটি ফান্ড গঠন করেছেন। ইতিমধ্যে কয়েক কোটি টাকা বিভিন্ন স্থানে খরচ করেছেন এমন গুঞ্জণ এলাকায় সবার মুখে মুখে। তিনি যেমন আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাকারবারির মাফিয়া, তেমন এলাকাবাসীর কাছে সন্ত্রাসীদের মাফিয়া হিসেবে পরিচিত। তালের থেকে তীল হলেই সাধারণ মানুষের উপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়ক। এসব নিয়ে এলাকার লোকজন কথা বললেই দেয়া হয় মিথ্যা মামলা, করা হয় হামলাও। তার অত্যাচার থেকে পরিত্রাণ চেয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগিরা। এতে বলা হয়েছে, ট্যাক্সিচালক থেকে পুরো আন্তর্জাতিক পর্যায়ের স্বর্ণ চোরাকারবারি হয়েছেন রণি আহমেদ ওরফে শেখ রনি। অথচ সামাজিকভাবে তেমন কোনো পরিচিতি নেই তার, আছে অঢেল স¤পদ। ট্যাক্সি চালানোর আগে ঢাকার ফুটপাতে ফল বিক্রি করে জীবন চালাতেন। এরপর আন্তর্জাতিক এক চোরাকারবারির বাহক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে বড় চোরাকারবারি হয়ে উঠেন নিজেই।

সূত্র জানায়, হুন্ডি, অর্থ পাচার ও স্বর্ণ চোরাচালানের মাধ্যমে শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন রণি। নামে-বেনামে রয়েছে ওইসব সম্পদ। বাড়ি, গাড়ি, জমি, ফ্ল্যাট, ব্যাংকে জমানো অর্থ- কী নেই তার। স¤পদ রয়েছে তার বিদেশেও। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে স¤পদ অর্জন করছিলেন রণি; কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখে পড়েননি কখনও। রাজধানীর বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলে বসে সদর্পে চলাফেরা করে বেআইনি কার্যক্রম চালিয়েছেন তিনি। অবশেষে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ফাঁদে ধরা পড়েছেন বড় মাপের ওই চোরাকারবারি। হুন্ডি, বৈদেশিক মুদ্রা পাচার ও স্বর্ণ চোরাচালানের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার স¤পদের মালিক হওয়ার একটি অভিযোগ এরই মধ্যে জমা পড়েছে দুদকে। অনুসন্ধানের শুরুতেই রণির নামে-বেনামে শতকোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পেয়েছেন দুদক। ব্যাপক অনুসন্ধানে আরও স¤পদ পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুদক সূত্র জানায়, বিভিন্ন নামে রণির পরিচিতি রয়েছে। এবাদুল আলম, বাদল নামেও ডাকা হয় তাকে। ধূর্ত প্রকৃতির এই ব্যক্তির রয়েছে একাধিক মোবাইল নম্বরও। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের পশ্চিম নওখন্ডা গ্রামের সাধারণ পরিবারে জন্ম রণির। এসএসসি পরীক্ষায় তিনবার অকৃতকার্য হয়ে ১৯৯৪ সালে ঢাকায় এসে ফল বিক্রির কাজ শুরু করেন ফুটপাতে। তাতে মন বসেনি তার। কিছুদিন পর বেবিট্যাক্সি চালানো শুরু করেন ভাড়ায়। ওই সময় এক যাত্রীর সঙ্গে কথাবার্তা হয়। পরে ওই যাত্রীর মতিঝিলের অফিসে সাধারণ কর্মী হিসেবে চাকরি নেন তিনি। আশ্রয়দাতা ওই ব্যক্তি ছিলেন আন্তর্জাতিক চোরাকারবারি। দুদকে পেশ করা অভিযোগে নাম উল্লেখ করা হয়নি তার। ব্যাপক অনুসন্ধানে তার নামটিও বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দুদকের এক কর্মকর্তা।

অভিযোগে বলা হয়, অল্প সময়েই ওই চোরাকারবারির ভালো বোঝাপড়া হয়ে ওঠে রণি। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায় চোরাচালানের কাজে অবৈধ পণ্য বহনকারী হিসেবে ব্যবহার করা হয় তাকে। বেশ কিছু দিনের মধ্যে অবৈধ উপায়ে অর্জিত টাকায় ভরে যায় তার পকেট। এরপর ১২০/এ নম্বর মতিঝিলের আরএস ভবনে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে সিএসবি ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুর নামে অফিস খোলেন। এরপর মগ্ন হয়ে পড়েন হুন্ডি, বৈদেশিক মুদ্রা পাচার ও স্বর্ণ চোরাচালানে। এক পর্যায়ে মতিঝিলের অফিস ছেড়ে উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ২নং রোডের ৩নং প্লটের এক ভবনের এ-৩ নং ফ্ল্যাটে অফিস চালু করেন। জানা গেছে, গত বছর ২০ ফেব্রæয়ারি রণিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় দুদকের নোটিশ পাঠানো হলে সেটি গ্রহণ করেন তার এক ভাই। নির্দিষ্ট সময়ে রণি রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হননি। রণির চার ভাই সাইফুল ইসলাম, কামরুল হাসান, পিকুল শেখ, শেখ আহমেদ ওরফে শামীম আহমেদ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের ডাকা হলে হাজির হয়েছিলেন তারা। রণির নামে-বেনামে থাকা বিপুল পরিমাণ স¤পদের কথা স্বীকার করেছেন তারা, সে সময় রনি সিঙ্গাপুরে অবস্থান করেছিলেন, তারা তাও জানিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, স্বর্ণ চোরাকারবারি চক্রের মূল হোতা রনি আহমেদ ওরফে বাদলের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুরের পশ্চিম নওখন্ড গ্রামে। তার পিতার নাম আয়নাল হক। আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবার হওয়ায় রনি ওরফে বাদল কাজের উদ্দেশ্যে বেশ কয়েক বছর আগে ঢাকায় আসে। প্রথমে সে মতিঝিল এলাকায় হকার ছিল। একপর্যায়ে সে হুন্ডি ও বৈদেশিক মুদ্রা পাচারকারী চক্রের সাথে যুক্ত হয়। এভাবে সে স্বর্ণ চোরাকারবারি দলেও যুক্ত হয়। বিভিন্ন সময় নাম পরিবর্তন করে (এনআইডি হওয়ার আগে) একাধিক পাসপোর্ট বানিয়ে চোরাচালান চক্রের বহনকারী হিসেবে বিদেশে আসা যাওয়া শুরু করে। বিভিন্ন কৌশলে বিদেশ থেকে অবৈধভাবে স্বর্ণ আনা শুরু করে। একপর্যায়ে সে নিজেই স্বর্ণ চোরাচালানের একটি চক্র গড়ে তোলে। আপন ভাই সাইফুল ইসলাম, কামরুল হাসান, পিকুল শেখ, শেখ আহমেদ ওরফে শামীম আহমেদ, ভগ্নিপতি কাজী হাবিবুর রহমান, খালাতো ভাই বাবুল আক্তার, চাচাতো ভাই ফায়েক শেখ ওরফে এমরান, দূর স¤পর্কের আত্মীয় রাজীব মিনাসহ আরো কিছু লোকজন নিয়ে সে এই চোরাকারবারি সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। প্রথমে সে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে অবস্থানকারী বাংলাদেশী লোকজনকে টার্গেট করে। তাদের হাত করে রনি তার বাহিনী নিয়ে প্রথমে হুন্ডি ও বৈদেশিক মুদ্রা পাচার কাজ শুরু করে। মতিঝিলের আরএস ভবনে সিএসবি ট্যার্ভেল নাম দিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার ও স্বর্ণ চোরাচালানের কাজ করে।
সূত্র জানায়, রনি ওরফে বাদল মুদ্রা পাচার ও স্বর্ণ চোরাকারবারি করে বিপুল অবৈধ স¤পদ গড়ে তুলেছে। নিজ জেলা গোপালগঞ্জ ও ঢাকায় রয়েছে শত কোটি টাকার স¤পদ। এ ছাড়া আত্মীয় স্বজনের নামে ব্যাংকে রয়েছে কোটি কোটি টাকা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র আরো জানায়, স্বর্ণ চোরাকারবারি রনির একাধিক সদস্য অবৈধপথে আনা স্বর্ণসহ একাধিকবার বিমানবন্দরে ধরা পড়ে। আটককৃত প্রত্যেকেই তাদের মূল হোতা রনি ওরফে বাদল বলে কাস্টমস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে স্বীকার করেছে। কিন্তু তারা কিছু দিন পরই জামিনে বের হয়ে আবার একই কাজে যুক্ত হচ্ছে। এই চক্রের দুই সদস্য রনির খালাতো ভাই বাবুল আক্তার ও চাচাতো ভাই ফায়েক শেখ ওরফে এমরান সম্প্রতি পৃথক ঘটনায় বিমানবন্দরে স্বর্ণসহ ধরা পড়ে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, গত ২০১৮ সালে ১৯ ডিসেম্বর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে ঢাকাগামী একটি ফ্লাইটের যাত্রী এস এম বাবুল আক্তারকে অবৈধভাবে আনা প্রায় ৩৫ লাখ টাকার স্বর্ণসহ আটক করা হয়। ৬ পিস ওই স্বর্ণের বার সে কৌশলে পায়ুপথে বহন করে নিয়ে এসেছিল। এ ঘটনায় কাস্টমস কর্মকর্তা তৌফিক আহমেদ বিমানবন্দর থানায় চোরাচালান আইনে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় পুলিশ বাবুল আক্তারকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। অপর এক ঘটনায় অবৈধ স্বর্ণসহ ধরা পড়ে চাচাতো ভাই ফায়েক শেখ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের এই স্বর্ণ চোরাচালানের মূল হোতা রনি ওরফে বাদল বলে স্বীকার করে। অপর ঘটনায় গত ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিঙ্গাপুরগামী যাত্রী আবু সাইদ মাসুমকে সাড়ে ৩ লাখ সৌদি রিয়ালসহ আটক করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। বিপুল এই টাকা সে অবৈধভাবে সিঙ্গাপুরে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মুদ্রাপাচার আইনে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে মাসুমের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল এই চক্রের সাথে জড়িত সদস্য কামরুল হাসানকে গ্রেফতার করে। পুলিশ তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় সে পুলিশকে এই চক্রের মূল হোতা রনি বলে জানায়। এমনকি গ্রেফতারকৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও প্রদান করেছে। এ দিকে চোরাচালান চক্রের বিভিন্ন সদস্য গ্রেফতার হলেও মূল হোতা রনি ওরফে বাদল রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী প্রতিটি মামলায় রনির নাম চলে এলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে খুঁজে পাচ্ছে না।

চোরাকারবারি সিন্ডিকেট গঠন : চার ভাই সাইফুল ইসলাম, কামরুল হাসান, পিকুল শেখ, শেখ আহমেদ ওরফে শামীম আহমেদ, ভগ্নিপতি কাজী হাবিবুর রহমান, খালাতো ভাই বাবুল আক্তার, দূর স¤পর্কীয় ভাগ্নে রাজীব মিনা ও চাচাতো ভাই ফায়েক শেখ ওরফে এমরানকে নিয়ে চোরাকারবারি সিন্ডিকেট তৈরি করেছিলেন রণি। সম্প্রতি চোরাচালানসহ তাদের অবৈধ তৎপরতা জানাজানি হওয়ার পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সিন্ডিকেটের সদস্যরা। দুদকে দাখিল করা অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদেশ থেকে স্বর্ণ দেশে আনার সময় একটি মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল অফিসার আইয়ুব আলীর সহায়তা নিতেন। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে স্বর্ণ আনার সময় স্বর্ণ রাখা লাগেজসহ রণিকে ভিআইপি গেট দিয়ে পার করে দিতেন ওই প্রটোকল অফিসার। কখনও ৮০-৯০ কেজি পর্যন্ত স্বর্ণ লাগেজে রাখা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, অনুসন্ধানে ওই প্রটোকল কর্মকর্তাকেও খুঁজে বের করা যাবে।

সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা : অভিযোগে বলা হয়, রণির নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেটের সদস্যরা সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায় কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেছিল, তারা ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠালে ফি হিসেবে বড় একটি অংশ কেটে রাখা হয়। এ অবস্থায় তাদের মাধ্যমে টাকা পাঠালে কোনো খরচ লাগবে না। তাদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে ওইসব শ্রমিক তাদের বেতন-ভাতার টাকা তুলে দেন ওই সিন্ডিকেটের হাতে।

স্বর্ণ পাচার : শ্রমিকদের কাছ থেকে নেওয়া ওই টাকায় অবৈধ উপায়ে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া থেকে স্বর্ণ ক্রয় করে বাংলাদেশে আনা হতো। পরে তা ভারতে পাচার করে বিক্রি করা হতো চড়া দামে। এ অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অর্থে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার শ্রমিকদের পরিবারের কাছে পাঠানো টাকা হস্তান্তর করা হয়। জানা গেছে, আন্তর্জাতিক চোরাকারবারিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ স¤পর্ক গড়ে ওঠে রণির।

স্বর্ণ ভবন : অবৈধ অর্থে রণি তার গ্রামের বাড়িতে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে “স্বর্ণ ভবন” নামে তিন তলা একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ছয়তলার ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে এ বাড়িটির।

আরও বাড়ি আরও সম্পদ : রাজধানীর নিকটবর্তী আশুলিয়া থানার মৈস্তাপাড়া এলাকায় পাঁচ কোটি টাকা খরচ করে পাঁচতলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক বাড়ি নির্মাণ করেছেন রণি। রাজধানীর উত্তরার ১৩নং সেক্টরের ২নং রোডের ৩নং প্লটের এক ভবনের ২ হাজার ২৫০ বর্গফুটের এ-৩ নম্বর ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছে আড়াই কোটি টাকায়। ভাটারা থানায় ছায়ানীড় নামের ভবনের তৃতীয় তলার ১ হাজার ১০০ বর্গফুটের ২-ডি নম্বর ফ্ল্যাটের মূল্য ৮৮ লাখ টাকা। স্ত্রী তাহেরা আহমেদের নামে উত্তরার ১২নং সেক্টরের ১০নং রোডের ২১নং প্লটের ৩ কাঠা জমিতে বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। আফতাবনগরে পাঁচ কাঠার একটি প্লট ও পল্লবীতে পাঁচ কাঠা জমি কেনা হয়েছে কোটি টাকায়। ঢাকার মিরপুরের আরামবাগে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের লে-আউট প্ল্যানের বি-বøকের বি-৪২ নম্বর প্লটের ওপর নির্মিত ভবনের ১ হাজার ২০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে বেনামে। যার মূল্য ৬০ লাখ টাকা। আশুলিয়ায় রয়েছে আরও কয়েকটি প্লট।

গোপালগঞ্জে সম্পদ : গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ২০টি দলিলের মাধ্যমে কয়েক বিঘা জমি কেনা হয়েছে, যার বাজার মূল্য পাঁচ কোটি টাকা। দলিলগুলোতে রণির পেশা হিসেবে কৃষি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রারকে ম্যানেজ করে জমির শ্রেণি ভিটিকে নাল উল্লেখ করে ও প্রকৃত মূল্যের পরিবর্তে কম মূল্য উল্লেখ করে সরকারের মোটা অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

প্রাইভেটকার : চল্লিশ লাখ টাকায় কেনা রণির প্রাইভেটকারের নম্বর ঢাকা-মেট্রো গ-২০৪১৫৩। ভাই পিকুল শেখকে গাড়ি কিনে দিয়েছেন ৪৮ লাখ টাকায়। গাড়ি নম্বর ঢাকা গ-৩৪৩৯৪৬।

ব্যাংক হিসাব : অভিযোগে বলা হয়, একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকে রণির একটি হিসাবে লেনদেনে দেখা যায় ওই হিসাবে এক বছরে ৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। মা রহিমা বেগমের ব্যাংক হিসাবে কয়েক মাসে লেনদেন হয় ৯০ লাখ টাকা। রণির মালিকানাধীন সিএসবি ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরের নামে সাউথ ইস্ট ব্যাংকের একটি হিসাবে ৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার লেনদেনের হিসাব মিলেছে। মা রহিমা বেগমের নামে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের টেকেরহাট শাখার একটি হিসাবে ৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

সিঙ্গাপুরে ফ্ল্যাট : অভিযোগে বলা হয়, মোটা অঙ্কের টাকায় সিঙ্গাপুরে বিলাসবহুল একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন রণি। দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন বলেও জানা গেছে। ইমেগ্রেশন পুলিশ তার পাসপোর্ট টি ব্লক করলেও তিনি কয়েকবার এই পাসপোর্টে বিভিন্ন দেশে যাতায়েত করেছেন।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্ত চিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।