TadantaChitra.Com | logo

৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

হযরত আহলু বাইত শরীফগ‌ণের মূল ব্যক্তিত্ত্ব ৮ জন আওলাদ আলাই‌হিমুস সালাম

প্রকাশিত : অক্টোবর ০২, ২০২১, ১২:০৯

হযরত আহলু বাইত শরীফগ‌ণের মূল ব্যক্তিত্ত্ব ৮ জন আওলাদ আলাই‌হিমুস সালাম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ৪ জন আবনাউ বা হযরত ছেলে সন্তান আলাইহিমুস সালাম এবং ৪ জন হযরত বানাতু বা কন্যা সন্তান আলাইহিন্নাস সালাম মোট ৮ জন উনারাই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। উনারা সরাসরি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংযুক্ত এবং সম্পৃক্ত। উনারাই হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মূল ব্যক্তিত্ব।

উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি ও আখেরী রসূল মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন, বাকি সব কিছু।

আজ (২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের এক আলোচনা সভায় রাজারবাগ দরবার শরীফের বক্তারা এই সব কথা ব‌লেন।

আলোচনা সভায় মহাসম্মানিত হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত ছেলে সন্তান আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত কন্যা সন্তান আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সু-মহান শান-মান ও মর্যাদা মুবারক নিয়ে আলোচনা করেন রাজারবাগ দরবার শরীফের প্রতিনিধিরা।

এই সময় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা মুহম্মদ আলমগীর হুসাইন এবং মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ গবেষণা কেন্দ্রের অন্যতম গবেষক মুহম্মদ আল আমীন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুফতী মুহম্মদ রূহুল আমীন তানভীর।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আখেরী রসূল নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আওলাদ হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শানে সর্বোচ্চ বিশুদ্ধ আক্বীদাহ ও হুসনে যন পোষণকরা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজে আইন।

বক্তারা ব‌লেন, পবিত্র কুরআন শরীফের সূরা আহযাবের ৩৩ নং আয়াত উল্লেখ করে বলেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পবিত্র থেকে পবিত্রতম করার মতো পবিত্রতম করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।” তাই, মহাসম্মানিত হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা এবং মহাসম্মানিত হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সমুন্নত শান-মান মুবারক নিয়ে সংশয় ও সন্দেহ করা, উনাদের সমালোচনা করা সুস্পষ্ট হারাম, কুফরী ও কবীরাহ গুণাহ এবং কঠিন লা’নতগ্রস্ত হওয়ার কারণ। মূলত, উনারাই হচ্ছেন ঈমান এবং জান্নাতের মালিক। উনাদের প্রতি ঈমান না আনলে ঈমানদার হওয়া যায়না। জান্নাতীও হওয়া যায়না। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ অনুসারে উনাদের মানহানীকারীর একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বলে দাবী করেন রাজারবাগ দরবার শরীফের বক্তারা।

এসময় বক্তারা, মহাসম্মানিত হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সু-মহান শান-মান ও মর্যাদা মুবারক সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রসারে মুজাদ্দিদে আ’যম, সুলতানুন নাছির, আহলে বাইতে রসূল, রাজধানীর রাজারবাগ শরীফের মহাসম্মানিত হযরত শায়েখ আলাইহিস সালাম উনার অবদান মুবারক ও কার্যক্রম তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, মুজাদ্দিদে আ’যম, সুলতানুন নাছির, আহলে বাইতে রসূল, হযরত শায়েখ আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মোট ৪ জন ও হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মোট ৪ জন। উনারাই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। উনারা সরাসরি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংযুক্ত এবং সম্পৃক্ত। উনারাই হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মূল ব্যক্তিত্ব। উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারকের মালিক হচ্ছেন উনারা।

হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে প্রথম সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম বলে সম্বোধন করতে হবে। উনাদের মধ্যে দ্বিতীয় সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত ত্বইয়্যিব আলাইহিস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুছ ছানী আলাইহিস সালাম বলে সম্বোধন করতে হবে।
উনাদের মধ্যে তৃতীয় সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত ত্বাহির আলাইহিস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম বলে সম্বোধন করতে হবে। উনাদের মধ্যে চতুর্থ সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম বলে সম্বোধন করতে হবে। উনারা সবাই শিশুকাল বয়স মুবারকে পবিত্র বিছালী (ইন্তেকাল) শান মুবারক প্রকাশ করেন বলে জানান রাজারবাগ দরবার শরীফের বক্তারা।

এছাড়াও বক্তারা বলেন, হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে প্রথম সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম বলে সম্বোধন করতে হবে। উনাদের মধ্যে দ্বিতীয় সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুক্বইয়্যাহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম বলে সম্বোধন করতে হবে। উনাদের মধ্যে তৃতীয় সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ্ আলাইহাস সালাম বলে সম্বোধন করতে হবে। উনাদের মধ্যে চতুর্থ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে আন নূরুর রবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম বলে সম্বোধন করতে হবে বলে জানান তারা।

রাজারবাগ দরবার শরীফে প্রতিনিধিরা বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা শূরা শরীফ উনার ২৩ নং পবিত্র আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন, “আমার মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, তোমাদের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তাযীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়া।”

আর ‘আল ফাতহুল কাবীর লিস সুয়ূত্বী’ কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা তোমাদের আওলাদ তথা সন্তান-সন্ততি, অধীনস্থদেরকে তিনটি বিষয়ে যথাযথ (আদব) শিক্ষা প্রদান করো ১. তোমাদের যিনি নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারক, ২. উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত মুহব্বত মুবারক ৩. সম্মানিত কুরআন শরীফ তিলাওয়াত।”

এই জন্যই মহাসম্মানিত হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মহাসম্মানিত হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পবিত্র জীবনী মুবারক নিয়ে গবেষণা করার জন্য কোটি কোটি স্বতন্ত্র গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক শ্রেণীতে এবং প্রতিটি সিলেবাসে উনাদের বিশুদ্ধ পবিত্র জীবনী মুবারক আবশ্যিকভাবে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। উনাদের প্রত্যেকের পবিত্র জীবনী মুবারক নিয়ে রাজারবাগ শরীফ হতে বহু সংখ্যক কিতাব প্রকাশিত হয়েছে। সবার উচিত সেই কিতাবগুলো সংগ্রহ করে পাঠ করা বলে জানিয়েছেন বক্তারা।

এই সময় বক্তারা আরো বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক সম্মানার্থে অনন্তকালব্যাপী জারীকৃত পবিত্র সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার মধ্যে বিশেষ আয়োজন হিসেবে গত ২৮শে মুহররম শরীফ ১৪৪৩ হিজরী, ৮ রবি’ ১৩৮৯ শামসী মুতাবিক ৬ সেপ্টেম্বর হতে রাজারবাগ দরবার শরীফে শুরু হয়েছে ৬৩ দিনব্যাপী বিশেষ মাহফিল। সেখানে মহাসম্মানিত হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মহাসম্মানিত হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী বা পবিত্র জীবনী মুবারক হতে প্রতিদিন আলোচনা-পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বেমেছাল বরকতময় মাহফিলে অংশগ্রহণ করা, মুসলিম উম্মাহ সকলের উচিত বলে দাবী করেছেন রাজারবাগ দরবার শরীফ।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্ত চিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।