TadantaChitra.Com | logo

১৪ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বাবা

প্রকাশিত : অক্টোবর ২০, ২০২১, ০৯:০৫

বাবা

সাদা কাফনের কাপড় পরিহিত মানুষটা এসে দাঁড়িয়েছে রাফিনের সামনে। কেবল মুখটা ব্যতীত পুরো শরীর সাদা কাপড়ে আবৃত লোকটার। এই মানুষটাকে রাফিন চেনে। এ যে তারই জন্মদাতা পিতা। লোকটা ধীর পায়ে হেঁটে এসে রাফিনের মুখোমুখি দাঁড়াল। হাত বাড়িয়ে রাফিনের মুখটা ছুঁয়ে দিল। রাফিনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আলতো করে চুমু খেল ওর কপালে। তারপর ধীরে ধীরে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল…

শোয়া থেকে ঝট করে উঠে বসল রাফিন। ড্রিম লাইটের আবছা আলোয় তাকালো এদিক সেদিক। পাশে তার স্ত্রী অবন্তী ও একমাত্র মেয়ে রূশা বেঘোরে ঘুমোচ্ছে। পুরো রুমে এই তিনজন ছাড়া আর কেউ নেই।

রাফিনের শরীর থেকে দরদর করে ঘাম ঝড়ছে। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। হাত বাড়িয়ে টেবিল ল্যাম্পটা জ্বালাল। বেড সাইড টেবিলে রাখা জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে ঢকঢক করে খেয়ে ফেলল গ্লাসের পানিটুকু। রাফিন ঘড়ির দিকে তাকাল। রাত দেড়টা বাজে। বাবাকে নিয়ে হঠাৎ এমন একটা স্বপ্ন কেন দেখল সে? বুকের ভেতরটা হুহু করে উঠল রাফিনের। বাবা, কেমন আছেন তিনি? ভালো আছেন তো? এই সাধারণ প্রশ্নের উত্তরটা জানা নেই রাফিনের। বাকি রাতটুকুতে চোখের উপর আর ঘুম ভড় করল না রাফিনের।

পরদিন বিকেলেই ব্যাগপ্যাক গুছিয়ে স্ত্রী সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে লঞ্চে উঠল রাফিন। রওনা হলো ভোলার উদ্দেশ্যে। যেখানে ছোট্ট একটা গ্রামে আছে তার বাবা, তার জন্মদাতা।

..

প্রায় নয় বছর পর আজ নিজ গ্রামে ফিরছে ডাঃ রাফিন। বাবার দেওয়া নাম আব্দুর রহিম। বড় হওয়ার পর এই নামটা তার ভালো লাগেনি। তার মনে হয়েছিল নামটা ক্ষ্যাত। তাই নিজেই নিজের নাম পাল্টে রেখেছিল রাফিন।

ছাত্র হিসেবে তুখোড় মেধাবী ছিল রাফিন। গ্রামের স্কুল, কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি তে জিপিএ-৫ পেয়ে পাশ করেছিল সে। একটিমাত্র ছেলে রাফিনকে নিয়ে তার নিম্ন মধ্যবিত্ত বাবা সগির আলীর ছিল আকাশচুম্বী স্বপ্ন। তাঁর ইচ্ছে ছিল ছেলেকে তিনি ডাক্তারি পড়াবেন। তার ছেলে একদিন দেশের নামকরা বড় একজন ডাক্তার হিসেবে খ্যাতি লাভ করবে, এই প্রত্যাশা তাঁর। এই ইচ্ছেটা কেবল সগির আলীর একার ইচ্ছে ছিল না। রাফিনও স্বপ্ন দেখত ডাক্তার হবার।

এইচএসসি’র পর ঢাকা মেডিকেল কলেজে চান্স পায় রাফিন। এ খবরে রাফিনের চাইতে বেশি খুশী হয়েছেন সগির আলী। খুশিতে কেঁদে ফেলেছেন তিনি। এলাকার সবাইকে মিষ্টিমুখ করিয়েছেন। রাফিন ঢাকা যাওয়ার সময় কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছিল সগির আলীর। কিন্তু সেই কষ্টটা বুকে চেপে রেখে হাসিমুখে রাফিনকে বিদায় দিয়েছেন তিনি। তার ছেলে ডাক্তার হয়ে ফিরে আসবে, নিজেকে এই সান্ত্বনা দিয়ে ছেলের দূরে যাওয়ার কষ্টটা চাপা দেওয়ার বৃথা চেষ্টা করেছেন সগির আলী।

সগির আলী প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা পাঠাতেন রাফিনকে। সগির আলীর সঞ্চিত টাকা পয়সা না থাকলেও পৈত্রিক সূত্রে অনেক জমির মালিক হয়েছিলেন তিনি। এক এক করে সেই সব জমি বিক্রি করে ছেলের পড়াশুনার টাকা পাঠাতেন। আফসোসও করতেন না সেই জমিগুলো নিয়ে। ছেলে তার ডাক্তার হবে এর চাইতে বড় আর কিছুই হতে পারে না।

কয়েক বছর পর রাফিন ডাক্তারি পাশ করে চেম্বারে বসে। সগির আলী ততদিনে নিঃস্ব। তার জমিজমা সব বিক্রি করে দিয়েছেন। রাফিন প্রথমবার বাবার কাছে টাকা পাঠিয়েছিল পনেরো হাজার। টাকা টা হাতে পেয়ে সগির আলীর সে কি খুশী! তার ছেলের ইনকামের টাকা তার হাতে। টাকার অঙ্কটা মাত্র পনেরো হাজার হলেও সগির আলীর কাছে পনেরো কোটি সম।

মেডিকেলে পড়াকালীন ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়ুয়া সুন্দরী মেয়ে অবন্তীর সাথে প্রণয় ঘটে রাফিনের। ডাক্তার হওয়ার বছর তিনেক পর বিয়ে করে ফেলে দুজন।

বিয়ে করার কয়েকদিন পর বিয়ের ব্যাপারে সগির আলীকে জানিয়েছিল রাফিন। তাকে না জানিয়ে রাফিন বিয়ে করেছে এটা শুনে খুব কষ্ট পেয়েছিলেন সগির আলী। কয়েকটা কটু কথাও শুনিয়েছেন ছেলেকে।

এরপর থেকে রাফিন আর তেমন যোগাযোগ রাখত না সগির আলীর সাথে। মাসে মাসে বাবার কাছে টাকা পাঠাত কেবল। টাকা পাঠানোই কেবল বাবার প্রতি রাফিনের দায়িত্ব ছিল। বৃদ্ধ বাবার খোঁজ খবর নেওয়ার ফুসরৎও যেন তার মিলত না।

দু বছর পর রাফিনের ঘরে আসে নতুন সদস্য। ফুটফুটে একটা মেয়ে জন্ম দেয় রাফিনের স্ত্রী। স্ত্রী- সন্তানকে নিয়ে রাফিন পুরোপুরি ব্যস্ত হয়ে পড়ল তার নিজের জীবনে। ধীরে ধীরে বাবার কাছে টাকা পাঠানোও বন্ধ করে দিল।

এরপর কেটে গেল আরো কয়েকটা বছর। ততদিনে বাবার সাথে যোগাযোগ, টাকা পাঠানো সবকিছুই বন্ধ হয়ে গেছে। বাবার খোঁজ খবরও নেয়নি একবারের জন্য। প্রায় ভুলেই বসেছে তার গ্রামের বাসিন্দা পিতার কথা।

কিন্তু গতকাল রাতের ওই অদ্ভুত স্বপ্নটা দেখার পর রাফিন আর ঠিক থাকতে পারেনি। বাবাকে দেখার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে সে। রাতের দুঃস্বপ্নটা রাফিনকে তাড়া করছে এখনো। যেই বাবা তাকে নিয়ে এত কষ্ট করল, সেই বাবাকে সে ভুলে গেল! কি করে পারল সে!

লঞ্চের কেবিনের ভেতর ঘুমাচ্ছে অবন্তী ও রূশা। কেবিনের সামনে লঞ্চের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে রাফিন। তার দৃষ্টি শূণ্যে। আজ আকাশটা মেঘলা। পুরো আকাশে একটা তারারও অস্তিত্ব নেই। চাঁদটাও মলিন। থেকে থেকে মেঘ ডাকছে। বৃষ্টি হবে বোধহয়। সেদিকে তাকিয়ে রাফিন ভাবছে, এতগুলো বছর পর বাবার সামনে যেয়ে কি বলবে সে? দেখা হলেই কি বাবার পায়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে? তার বাবা তো নরম মনের মানুষ। সে যদি পায়ে ধরে ক্ষমা চায় তাহলে কি বাবা তাকে ক্ষমা করে দেবে না? নিশ্চয়ই দেবে। ওই মানুষটা কখনো তার উপর রেগে থাকতে পারে না। নিশ্চয়ই তাকে ক্ষমা করে দেবে। দরকার হলে যতক্ষণ বাবা তাকে ক্ষমা না করে ততক্ষণ পর্যন্ত বাবার পা ধরে বসে থাকবে রাফিন।

ভোর পাঁচটার দিকে লঞ্চঘাটে লঞ্চ ভিড়ল। সেই পরিচিত লঞ্চঘাট, পরিচিত রাস্তাঘাট। তবে পরিবর্তনও হয়েছে অনেককিছু।

স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে একটা সিএনজি তে উঠল রাফিন। যাত্রা করল ভেদুরিয়া গ্রামের উদ্দেশ্যে। যে গ্রামে সে জন্ম নিয়েছে, যে গ্রামের মাটির সোঁদা গন্ধ শরীরে নিয়ে তার শৈশব কেটেছে; কেটেছে কৈশর।

গ্রামে ঢুকতেই একের পর এক চোখে পড়ছে পরিচিত সব মুখ। রাফিন আগ বাড়িয়ে সবার সাথে কথা বলছে। কিন্তু গ্রামের লোকজন তার সাথে কথা বলার তেমন কোনো আগ্রহ’ই দেখাচ্ছে না। অনেকে তাকে এড়িয়ে চলছে। আবার কেউ কেউ তার দিকে তাকাচ্ছে তীক্ষ্ণ চোখে। রাফিন বুঝতে পারছে না গ্রামবাসীর এহেন আচরণের কারণ কি!

বাড়ির মধ্যে ঢুকতেই রাফিনের বুকটা ধক্ করে উঠল। এর কারণটা রাফিনের জানা নেই। রাফিন অবাক হলো, তাদের সেই টিনশেডের ঘরটা এখন আর নেই। সেখানে আছে সিমেন্টের তৈরি একতলা একটা বাসা।

কাঁখে কলস নিয়ে পুকুড়পাড় থেকে ফিরছে অবন্তীর চেয়ে কমবয়েসী একটা মেয়ে। বাসার সামনে অচেনা আগন্তুক দেখে মেয়েটি ভ্রু কুঁচকে আঞ্চলিক ভাষায় বলল, “আপনারা কারা? কাগো বাইত আইছেন?”

রাফিন গলা খাঁকাড়ি দিয়ে বলল, “আমি রাফিন। এরা আমার স্ত্রী ও মেয়ে। আচ্ছা, এই বাড়িটা তো সগির আলীর। উনি কোথায়? উনি কি বাসায় আছে?”

প্রশ্নটা শুনে মেয়েটি অবাক দৃষ্টিতে তাকাল রাফিনের দিকে। যেন এহেন অদ্ভুত প্রশ্ন সে জীবনেও কোনোদিন শোনেনি। মেয়েটির অদ্ভুত দৃষ্টির কারণ রাফিনের বোধগম্য হলো না।

মেয়েটি কিছু বলার আগেই ভেতর থেকে একটা মোটা পুরুষালী কণ্ঠ ভেসে এলো।

“কারা আইছে, নূরজাহান।”

মেয়েটি শাড়ির আঁচল মাথায় টেনে বলল, “চিনি না আব্বা। সগির জ্যাঠার কথা জিগায়।”

ততক্ষণে লোকটা ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। রাফিন পেছন ফিরে দেখল লোকটাকে। দু কদম এগিয়ে হাসিমুখে বলল, “আসসালামু আলাইকুম কাশেম চাচা। কেমন আছেন?”

লোকটার নাম কাশেম আলী। রাফিনের চাচা। আপন চাচা নয়, সগির আলীর ফুফাত ভাই হন তিনি।

কাশেম আলী পান চিবোতে চিবোতে ভালো মত রাফিনের দিকে তাকালেন। তারপর বললেন, “তুই রহিম না? সগির ভাইর পোলা?”

“জ্বি চাচা। আমাকে চিনতে পারছেন না!”

“চিনমু কেমনে? তুই তে এক্কেরে সাহেব হয়া গেছস।”

তারপর কাঁখে কলসি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বললেন, “তুমি খাঁড়ায়া রইছ ক্যান বৌমা? ঘরে যাও।”

“জে আব্বা।”

মেয়েটা দ্রুত পায়ে বাসার ভেতরে চলে গেল। কাশেম আলী ফিচিক করে পানের পিক ফেলে অবন্তী ও রূশার দিকে তাকিয়ে বললেন, “এরা কারা?”

রাফিন বলল, “আমার স্ত্রী অবন্তী। আর মেয়ে রূশা।”

“ওহ। তা তুই এত বছর পর গেরামে আইলি কি মনে কইরা?”

“ইয়ে চাচা, এই বাড়িটা তো আমাদের ছিল।”

“আছিল। তোরে পড়াইতে গিয়া তর বাপে শ্যাষ সম্বল ভিডার জমিডাও বেইচা দিছে। আমি কিনছি এই জায়গাডা।”

রাফিন অবাক হলো৷ তার বাবা ভিটের জমিটাও বিক্রি করে দিল! কই সগির আলী তো তাকে কখনো বলেনি! অবশ্য বলবেই বা কীভাবে! রাফিন শুধু টাকা চাইতো। এই টাকা গুলো বাবা কোথা থেকে দেয় সেটা সে জানতে চায়নি কখনোই।

কাশেম আলী নিজের মত করে বলে যাচ্ছেন, “সগির ভাইরে কত কইছি, পোলারে অতো শিক্ষিত বানানের কাম নাই। তারে ডাক্তারি না পড়ায়া কামে লাগায়া দ্যান। আমার পোলাডিরেও তো ফাইভ পর্যন্ত পড়ায়া আমার লগে কামে লাগায় দিছি। কিন্তু ভাই তো কতা হুনেনাই। পোলারে লয়া হের কত স্বপ্ন আছিল। পোলার পড়ালেহার লাইগ্যা থাহার জায়গা ডা পর্যন্ত বেঁইচা দিছে৷ আর হেই পোলায় করল কি? বাপের খোঁজডা পর্যন্ত নিল না। থুথু ফালাই এমন পোলার মুখে।”

রাফিনের মাথা নিচু। চোখ ঝাঁপসা তার। চোখের কার্ণিশে এসে জমা হয়েছে নোনাজল। কাশেম আলীর কথার প্রতিউত্তরে কিছু বলার জন্য তার শব্দভাণ্ডারে যথেষ্ট শব্দ মজুদ নেই। অনেকক্ষণ পর সে মুখ তুলল। জড়ানো গলায় বলল, “আব্বা কোথায়, চাচা?”

কাশেম আলী কয়েক সেকেণ্ড তাকিয়ে রইলেন রাফিনের দিকে। তারপর বললেন, “বাপের খোঁজ চাস? আয় আমার লগে।”

কাশেম আলী পুকুরপাড়ের দিকে এগোলেন। পেছনে পা বাড়াল রাফিন। কাশেম আলী পুকুরের পাড় ধরে হাঁটতে হাঁটতে ওপাড়ে যাচ্ছেন। রাফিন তাঁর পেছনে যেতে যেতে ভাবছে, কাশেম চাচা পুকুরের ওপাড়ে যাচ্ছেন কেন? পুকুরের ওপাড়ে তো কবরস্থান। অজানা আশঙ্কায় বুক কেঁপে উঠল রাফিনের। নিঃশব্দে হেঁটে গেল কাশেম আলীর পেছনে।

মেঘ ডাকছে গুড়ুম গুড়ুম শব্দে। ছাইরঙা মেঘে ঢেকে গেছে পুরো আকাশটা। অদূরেই কয়েকটা পাখি ডাকছে কিঁচিরমিচির শব্দে।

একটা কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন কাশেম আলী। রাফিনের দিকে তাকিয়ে বললেন, “বাপের লগে দেহা করবি! ওই যে ওই কবরে হুয়া রইছে তর বাপে। দেড় বছর আগেই কবরে চইল্যা গেছে।”

রাফিন কবরটার দিকে তাকাল। দেড় বছরের পুরনো কবর। রাফিন নিষ্পলক তাকিয়ে রইল কবরটার দিকে। কাশেম আলী বললেন, “”অনেকগুলি দিন অসুখে ভোগছে সগির ভাই। ব্যারামে কষ্ট পায়া শ্যাষ সময় তোরে দেখতে চাইছে। খালি একবার তোর মুখটা দেখতে চাইছে। তোরে আসনের লাইগ্যা খবরও পাডাইছিলাম। কিন্তু তুই তো আইলি না। চিকিসসার লাইগ্যা ট্যাকা পাডাইলি। তোর বাপে তো ট্যাকা চায়নায়। খালি তোরে একনজর দেখতে চাইছে। কিন্তু তুই তো আইলি না। আইবি কেমনে? তুই তো বড় ডাক্তার হইছোস। দুই হাতে ট্যাকা কামাস। গেরামের গরীব বাপেরে একবার দেহনের সময় কি আছে তোর? তোর বাপের মৃত্যুর খবর গেরামের অনেকেই তোরে পাডাইতে চাইছিল৷ আমি দেইনাই। বাপে বাঁইচ্যা থাকতেই যে পোলায় বাপের খোঁজ খবর নেয়না, বাপ বইলাও জিগায় না, বাপের মরণের খবরে হে আর কদ্দুর দুঃখ পাইব!”

রাফিন টের পাচ্ছে তার পা দুটো সমানতালে কাঁপছে। তার দৃষ্টি এখনো কবরটার উপর নিবদ্ধ। এই কবরে শুয়ে আছে তার সেই বাবা, যিনি ওর মুখে হাসি ফোটানোর জন্য ওর সব আবদার অনায়াসে মেটাতেন। এই কবরে শুয়ে আছে সেই বাবা, যিনি অল্প বয়সে মা হারা রাফিনকে দু হাতে আগলে রেখেছেন, ভালবাসা দিয়ে পূরণ করেছেন মায়ের অভাব। এই কবরে শুয়ে আছেন সেই বাবা, যিনি লালন পালন করে বড় করেছেন রাফিনকে। এই কবরে শুয়ে আছেন সেই বাবা, যিনি রাফিনকে ডাক্তার বানানোর জন্য নিজের ভিটের মাটিটুকুও বিক্রি করে দিয়েছেন। এই কবরে শুয়ে আছেন সেই বাবা, যিনি রাফিনকে একটা সুন্দর জীবন দিয়েছেন।

রাফিনের পা দুটে অসাড় হয়ে গেল৷ আচমকা ধপ করে বসে পড়ল বাবার কবরের পাশে। বাচ্চা ছেলের মতন চিৎকার করে কাঁদতে লাগল ‘বাবা বাবা’ করে। কিন্তু তাতে লাভ হলো না ছিটেফোঁটাও। বাবা তো আর ফিরে আসবেন না।

রাফিনের কান্না দেখে হঠাৎ আকাশটাও কেঁদে উঠল। ঝমঝম করে নামল বৃষ্টি। বৃষ্টির পানির সাথে রাফিনের চোখের পানি মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। এতক্ষণ রাফিনকে শক্ত করে কথা শোনালেও এ পর্যায়ে নিজেকে আর শক্ত রাখতে পারলেন না কাশেম আলী। রাফিনের আর্তনাদে কেঁদে ফেললেন তিনিও।

“সমাপ্ত”

লেখকঃ ফারজানা তানিশা, শিক্ষার্থী, ভোলা।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্ত চিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।