TadantaChitra.Com | logo

২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ১৬ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বিনা অপরাধে ২২ দিন কারাবাস জামাই-শ্বশুরের

প্রকাশিত : জানুয়ারি ২৭, ২০২২, ০৬:০৯

বিনা অপরাধে ২২ দিন কারাবাস জামাই-শ্বশুরের

তদন্ত চিত্রঃ ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের সিল ও বিচারকের স্বাক্ষরযুক্ত ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানায় জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর সাখিদারপাড়া গ্রামের দুই বাসিন্দা বিনা অপরাধে ২২ দিন কারাগারে ছিলেন।

তারা হলেন, শফিউল ইসলাম ও মঞ্জরুল ইসলাম। ওই দুইজন সর্ম্পকে জামাই-শ্বশুর। ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।

জয়পুরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জয়পুরহাট অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ ঘটনাটি তদন্ত করে জয়পুরহাট পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরির্দশককে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এরমধ্যে গোয়েন্দা পুলিশ ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানায় কারাগারে থাকার ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় কে বা কারা জড়িত তা খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও গ্রামবাসীরা।

ভুক্তভোগী শফিউল ইসলাম ও মঞ্জুরুল ইসলামের ভাষ্যমতে, গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে তারা খাওয়া শেষে নিজ-নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে ক্ষেতলাল থানার পুলিশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে তাদের জামাই-শ্বশুরের বাড়ি ঘেরাও করে রাখেন। হঠাৎ করেই পুলিশ এভাবে অভিযান চালানোয় তারাসহ দুটি পরিবারের লোকজন ভরকে যান। পুলিশ তাদের জামাই-শ্বশুরের নামে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত-২ এর সিল ও বিচারের স্বাক্ষরযুক্ত গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখান। পরদিন ২৯ ডিসেম্বর ক্ষেতলাল থানা পুলিশ তাদের দুইজনকে আদালতের হাজির করে।

আইনজীবীর মাধ্যমে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর ইসলামের আদালতে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের জয়পুরহাট কারাগারে পাঠিয়ে দেন। জয়পুরহাট কারাগার থেকে গত ৭ জানুয়ারি তাদের কেরাণীগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়। কেরাণীগঞ্জ কারাগার থেকে গত ১৮ জানুয়ারি ছাড়া পান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত-২ এর পিটিশন মামলায় শফিউল ইসলাম ও মঞ্জুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। ওই আদালতে মামলার বাদী তাহমিনা রহমান। পিতা- আব্দুর রহমান তালুকদার, স্থায়ী ঠিকানা- হাঁপানিয়া, উপজেলা- গৌরনদী, জেলা- বরিশাল।

এ মামলার এজাহারে তার স্বামী এস.এম. আব্দুস সামাদ বকুলকে আসামি করা হয়। জয়পুরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল বিচারকের কাছে খণ্ড নথি পাঠানো হয়। ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মামলার নথি পর্যালোচনা করে শফিউল ইসলাম ও মঞ্জুরুল ইসলাম নামে কেউ এ মামলার আসামি নেই এবং তাদের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জাল ও ভুয়া বলে আদেশের অনুলিপি জয়পুরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠান। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর আলম ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানায় কারাগারে আটক থাকা শফিউল ইসলাম ও মঞ্জুরুল ইসলামকে অব্যাহতি দেন। একইসঙ্গে জাল ও ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রস্তুত করার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

ক্ষেতলাল থানার ওসি নীরেন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা অনুসারে শফিউল ইসলাম ও মঞ্জুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গ্রেফতারি পরোয়ানা যেভাবে ইস্যু করা হয় তার সবই ছিল।

জয়পুরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ গ্রেফতারি পরোয়ানায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছিল। পরে ওই দুই ব্যক্তির গ্রেফতারি পরোয়ানা ভুয়া বলে নিশ্চিত হয়ে আদালত তাদের দুইজনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এ ঘটনাটি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

আজাদ টাওয়ার ৪৭৬/সি-২, ডিআইটি রোড ৭ম তলা, মালিবাগ রেলগেইট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

Web Design & Developed By
A

তদন্ত চিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।