TadantaChitra.Com | logo

২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ১৬ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ফায়ার সার্ভিসের স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষায় কোটি টাকার বাণিজ্য, আনোয়ারের সেফটি প্লান অনুমোদনে দুর্নীতি!

প্রকাশিত : মে ১৩, ২০২২, ০৯:০৭

ফায়ার সার্ভিসের স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষায় কোটি টাকার বাণিজ্য, আনোয়ারের সেফটি প্লান অনুমোদনে দুর্নীতি!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে ‘ফায়ারফাইটার’ নিয়োগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অনুমোদন ও আবেদনকারীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষার সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকে। অতীতের নিয়োগে এমনই ছিল। ভবিষ্যতেও এরকম হওয়ার কথা। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম ঘটাতে চেয়েছিল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ফায়ার ফাইটার নিয়োগ কমিটি। তবে নিয়োগ কমিটির সভাপতি পরিচালক (প্রশাঃ ও অর্থ) এখনো তাঁর কর্মস্থলে যোগদান-ই করেন নাই। তাঁর আগেই নিয়োগের জন্য প্রজ্ঞাপন জারী করেছেন দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (প্রশাঃ ও অর্থ) লেঃ কর্ণেল মোঃ রেজাউল করিম ও সদস্য সচিব উপপরিচালক (প্রশাঃ ও অর্থ) ওহিদুল ইসলাম। গত ৩১ অক্টোবর ২১ ইং তারিখ জারীকৃত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দীর্ঘদিন করোনার মহামারী পরিস্থিতি দেখিয়ে বন্ধ রাখার পর হঠাৎ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই আবেদনকারীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাইয়ের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেই কয়েক কোটি টাকা হাতিয়েছেন একটি চক্র। এই চক্রের সাথে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জড়িত রয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, খোদ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ ওহিদুল ইসলাম অর্থের বিনিময়ে ফায়ার ফাইটার নিয়োগ দেওয়ার দালাল চক্রের সাথে যোগসাজশ করে ফায়ার ফাইটার নিয়োগ সংক্রান্ত শারীরিক যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষার সময় ও স্থান দিয়ে গত ২১ এপ্রিল ২০২২ ইং তারিখে প্রজ্ঞাপন জারি করেন। এদিকে তাঁর এ প্রজ্ঞাপন জারির আগে বা এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিভাগীয় নিয়োগ কমিটির সভাপতি, পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) অত্র অফিসে যোগদান করেন নাই। আবার মহাপরিচালক বদলী হওয়াতে নতুন মহাপরিচালক আসবে জেনেই তড়িঘড়ি করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন বলে অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে। সদ্য সাবেক পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ও মহাপরিচালক এর বদলী হয়েছে। চলতি মাসের ২০ তারিখ নতুন মহাপরিচালক যোগদান করার কথা রয়েছে। এদিকে আজ-কাল নতুন পদায়নকৃত পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) যোগদান করবে করবে শোনা গেলেও বাস্তবে কবে যোগদান করবে তা কেউ জানে না। তবে খুব শীগ্রই যোগদান করবেন বলে অধিদপ্তরের একটি সুত্র জানিয়েছে।

সুত্র জানায়, চলতি মাসের ১১ তারিখ থেকে ১৮ তারিখ পর্যন্ত বিভাগ ভিত্তিক ফায়ার ফাইটার পদে শারীরিক যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষা সময় ও স্থান ঘোষণা করা হয়। এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পাশাপাশি প্রার্থীর মোবাইল ফোনে টেলিটক থেকে এসএমএস পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে পুর্বাঞ্চল ফায়ার সার্ভিসের মাঠে উপস্থিত থাকতে বলা হয়। কিন্তু এর ঠিক দুইদিন আগেই আবার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শারীরিক যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষা স্থগিত করেন ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তর।

অভিযোগ উঠেছে, শারীরিক যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেই উপপরিচালক (প্রশাঃ ও অর্থ) মোঃ ওহিদুল ইসলাম তার সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় এক হাজার ফায়ার ফাইটার পদের প্রার্থী থেকে জন প্রতি ১০-১৫ লক্ষ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব টাকা দেওয়া প্রার্থীরা শারীরিক যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষা স্থগিত হওয়াতে হতাশায় ভুগছেন। পুনরায় মাঠে শারীরিক যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষা হলে ওহিদুল ইসলাম তাদেরকে নিয়োগ দিতে পারবেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে। এর মধ্যে উপপরিচালক (প্রশাঃ ও অর্থ) ওহিদুল ইসলাম দিনে অধিদপ্তরের বেশিরভাগ সময় না থাকলেও সন্ধ্যার পর পরই এসব নিয়ে দরবার করতে কাকরাইল একটি অফিসে বসেন। তাঁর বাড়ী বগুড়া হওয়াতে উত্তরবঙ্গের অনেকেই নিয়োগ পাওয়ার আশায় ১৫ লক্ষ টাকা করে দিয়ে এখন মাথায় হাত পরেছে। যেহেতু নিয়োগ পেতে ঘুষ দেওয়া টাকার কোন প্রমাণ নাই, সেহেতু পরে এ টাকা তুলতে পারবেন কি না তা নিয়েও ভাবছেন অনেক অভিভাবক।

জানা গেছে, এই সিন্ডিকেট এর অন্যতম সদস্য সহকারী পরিচালক (ওয়্যার হাউজ) মোঃ আনোয়ার হোসেন ঢাকা ও কুমিল্লা জেলায় তার এলাকার অনেকের কাছ থেকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারের বার্ষিক আয়ের কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে সেফটি প্লান অনুমোদনের ক্ষেত্রে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ঝুকিপূর্ণ ভবনে সেফটি প্লান অনুমোদন করেন এমন অভিযোগও রয়েছে। এসব ভবনে জরুরি সিঁড়ি থাকার কথা থাকলেও দুর্নীতিবাজ আনোয়ার হোসেনের কারণে জরুরি সিঁড়ি করেছে না অনেক বহুতল বানিজ্যিক ভবন মালিক। এই ভবনে আগুন লাগলে দীর্ঘ সময় লাগে আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে। নারায়নগঞ্জ সেজান ফ্যাক্টরী ঘটনাও এমন ছিল। ফায়ার সার্ভিসের থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণ করার পর এমন কথা স্বীকারও করেছেন অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা। এ নিয়েও ফায়ার সার্ভিসে তোলপাড় হয়। পুরো রাজধানীজুড়ে এমন চিত্র। এসব ভবনে সেফটি প্লান অনুমোদন করতে যা যা প্রয়োজন তার ৫০%ও মানা হচ্ছে না। তবে ভবন মালিকরা এসব না মানলেও আনোয়ারকে টাকা দিলেই পাওয়া যায় ১০০% মানা হয়েছে এমন সার্টিফিকেট। তাই রাজধানী একের পর এক ঘটে চলছে অগ্নিকাণ্ডসহ ভয়াবহ দূর্ঘটনা। আরেক দিকে রাজধানীতে অনেক ঝুকিপূর্ণ ভবন থাকা সত্ত্বেও এগুলোকে সিলগালা না করে মাসে মাসে টাকার বিনিময়ে রাজধানী বাসীকে ঝুঁকিতে রেখে নিজের আখের গোছাচ্ছেন।

এ বিষয়ে সহকারী পরিচালক (ওয়্যার হাউজ) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, সেফটি প্লান অনুমোদন তাঁর একার সিদ্ধান্তে হয় না। একটি কমিটি রয়েছে। পরিচালক (অপারেশন) এই কমিটির সভাপতি। মিটিং করে যেটা পজিটিভ মনে হয় সেই ফাইল পরিচালক (অপারেশন) কে এগিয়ে দেওয়া হয়। নেগেটিভ যেটা সেটাও বাদ দিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান ওয়্যার হাউজ সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন। তবে তাঁর বক্তব্য আর বাস্তবতা ভিন্ন। কথার সাথে বাস্তবতার কোন মিল নাই। পরিচালক (অপারেশন) এর কাছে স্বাক্ষর করতে যেভাবে ফাইল দেওয়া হয় পরিচালক (অপারেশন) তাঁর পাঠানো কাগজপত্র দেখে স্বাক্ষর করে দেন। কমিটিকে ভুল তথ্য দিয়ে নিজের মতো করে স্বাক্ষর করিয়ে নেন সহকারী পরিচালক (ওয়্যার হাউজ) আনোয়ার হোসেন। তাঁর বিরুদ্ধে অনেক বাণিজ্যিক ভবনের ভুয়া কাগজ পত্র তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব কাজ করার কারণে ঠিকঠাক অফিসে বসেন না এ কর্মকর্তা। অধিদপ্তরের আনাচে-কানাচে দাঁড়িয়ে মানুষের সাথে টাকার কন্টাক্ট করেন তিনি। বিভিন্ন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করে দেখা যায়, বেশির ভাগ ফ্যাক্টরির জরুরি সিঁড়ি নাই, অথচ তাঁরাও সেফটি প্লান অনুমোদন করে নিয়েছে।

এদিকে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ওহিদুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই, তাই তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের বিভিন্ন অপকর্ম নিয়ে আরো বিস্তারিত দেখতে চোখ রাখুন পত্রিকায়।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

আজাদ টাওয়ার ৪৭৬/সি-২, ডিআইটি রোড ৭ম তলা, মালিবাগ রেলগেইট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

Web Design & Developed By
A

তদন্ত চিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।