TadantaChitra.Com | logo

১২ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

নাজমুল হাসানের স্বেচ্ছাচারিতা ও বিভিন্ন অপকর্মের নিরাপদ স্থান ছিল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন! পর্ব-১

প্রকাশিত : জুন ১৮, ২০২২, ২০:৪৪

নাজমুল হাসানের স্বেচ্ছাচারিতা ও বিভিন্ন অপকর্মের নিরাপদ স্থান ছিল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন! পর্ব-১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নাজমুল হাসানের স্বেচ্ছাচারিতা ও বিভিন্ন অপকর্মের নিরাপদ স্থান ছিল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন। তিনি পেশায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। বেতন-ভাতা যাই হোক গুলশানে রয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাটবাড়ি। উত্তরায় নির্মাণাধীন মার্কেটসহ বহুতল ভবন। প্রশ্ন উঠেছে একজন শিক্ষকের এত টাকার উৎস কোথায়। আমাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে তার দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার নানান তথ্য। ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন থেকে সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান তিনি। তার আইবিএফ এর চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতির পরে মুখ খুলতে শুরু করেছে অন্যায় ভাবে চাকরীচ্যুত কিছু কর্মকর্তা। তাঁর এসব অপকর্মে অনেক লোক না খেয়ে দিন যাপন করতে হত। বিভিন্ন ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতো না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চাকরীচ্যুত কর্মকর্তা বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই অন্যায় ভাবে আমাকে আমার পদ থেকে অব্যাহতি দিতে বাধ্য করা হয়। আমি কারণ জিজ্ঞেস করায় আমাকে মামলার হুমকি দেয়। শুধু আমি নয়’ তার অনুগত না হলে অনেকেই এই প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি হারাতে হয়েছে। আইবিএফ আর্তমানবতার সেবা ও সমাজ কল্যাণমূলক কাজের ব্রত নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও তিনি পারিবারিক ও আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করেছিল।

মিরপুর ইসলামী ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও মিরপুর মডেল স্কুলের অনেক শিক্ষককে অকারণে চাকরীচ্যুত করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও মডেল স্কুলের চাকরীচ্যুত কয়েকজন শিক্ষক বলেন, কোন কারন ছাড়াই আমাদেরকে চাকরীচ্যুত করা হয় এবং আমরা পাওনা বুঝে চাইলে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এমনকি ইসলামী ব্যাংক বালিকা মাদ্রাসা খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে বন্ধ করে দেয়।

২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত অনেককে নিয়মবহির্ভূত চাকরি দিয়েছেন। এসব নিয়োগের ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে অর্থ লেনদেনের এবং অনেককে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে চাকরীচ্যুত করেছে। অপ্রয়োজনীয়’ সংখ্যক মিটিং এর মাধ্যমে টাকা হরিলুট করেছে।

এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন এর বোর্ড সেক্রেটারি আব্দুর রহিমের কাছে অপ্রয়োজনীয়’ মিটিং এর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যা করেছি কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই করেছি। একদিনে কয়টি মিটিং দেখিয়ে টাকা নেয়া হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে অনুমতি নিয়ে সংখ্যা সম্পর্কে জানাতে পারবো। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া কোনো তথ্য দিতে পারবো না।

ডেভলপমেন্ট ফান্ডের নামে টাকা মিস ইউজ করেছে। ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন এফসি মিটিংয়ে পাস হত এক রকম কিন্তু চেয়ারম্যান কাজ করতো তার বিপরীত। এক কথায় নাজমুল হাসানের একক ক্ষমতায় ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন চলত। তার অনুগত দুজনকে নিয়মবহির্ভূত তিন-তিনটি প্রমোশন দিয়েছেন।

ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন এর একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন, তিনি এখনো ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে বহাল আছেন। যদি তিনি ইসলামী ব্যাংকে পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তাহলে ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন এর মতই ইসলামী ব্যাংকের করুণ পরিণতি হবে। এতে ইসলামী ব্যাংকের যুগ যুগ ধরে সুনাম ও ঐতিহ্য ভূলুণ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে জানতে নাজমুল হাসানকে বারবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি, তাই তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ কর্মকর্তার বিভিন্ন দুর্নীতি ও অপকর্ম নিয়ে আমাদের আরো অনুসন্ধান চলছে। তাঁকে ঘিরে নানা অভিযোগের বিস্তারিত সংবাদ পেতে অপেক্ষা করুণ। আমরা অনুসন্ধান শেষে ধারাবাহিক ভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করবো।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

আজাদ টাওয়ার ৪৭৬/সি-২, ডিআইটি রোড ৭ম তলা, মালিবাগ রেলগেইট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

Web Design & Developed By
A

তদন্ত চিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।