TadantaChitra.Com | logo

৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

চরফ্যাশন-মনপুরার উন্নয়নে পর্দার আড়ালের বীরপুরুষ মেজবাহ উদ্দিন !

প্রকাশিত : মার্চ ১২, ২০২৩, ১৬:৪৬

চরফ্যাশন-মনপুরার উন্নয়নে পর্দার আড়ালের বীরপুরুষ মেজবাহ উদ্দিন !

তদন্ত চিত্রঃ চাকুরীর বয়স ৫৯ বছর হওয়ায় গত ১লা জানুয়ারী যুব ও ক্রীড়া সচিব থেকে অবসর গ্রহন করেন ভোলার চরফ্যাশনের কৃতি সন্তান মেজবাহ উদ্দিন। এরপরই ৪ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তিনি দেখা করলে তাকে সরাসরি রাজনীতিতে যোগদান করে ভোলা-৪ আসনের চরফ্যাসন ও মনপুরার উপজেলার সাধারন মানুষের পাশে দাড়ারনোর পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর থেকেই বরাবরের মতো ওই দুই উপজেলার অসহায় মানুষদের সাহায্য সহযোগিতার পাশাপাশি সকল ধরনের সেবামূল কার্যক্রম বাড়িয়ে দেন তিনি। এদিকে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চরফ্যাশন ও মনপুরার উন্নয়নে তারা খুশি। কিন্তু পছন্দের নেতা না পেয়ে তারা অনেকটাই হতাশ। কোন কোন নেতার দাম্ভিকতা তাদেরকে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকতে বাধ্য করেছে।

এ অবস্থায় তারা এমন একজন নেতা খুঁজে পেতে চান যিনি অত্যন্ত তাদের সাথে সদাচরণ করবেন। সাবেক সচিব মেজবাহ উদ্দিনের মাঝে তারা এমনটাই খুজে পেয়েছেন। তার মতো সদালাপি, নিরঅহংকার, মানব প্রেমিক, পরোপকারী মানুষ রাজনীতিতে থাকলে চরফ্যাশনের মানুষ অনেকটাই স্বস্তিতে থাকবেন। এরই মধ্যে তিনি চরফ্যাসনে আলহাজ্ব মৌলভী বজলুর রহমান নামে হাফেজিয়া মাদরাসা, এতিম খানা ও সাবেরা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। অসহায়দের গৃহ নির্মান ও শীতার্তদের মাঝে শীত বস্র বিতরন সহ বিভিন্ন সমাজসেবা মুলক কাজ করে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। এছাড়া দুই উপজেলার প্রায় ৫ হাজার বেকার যুবককে বিভিন্ন পদে চাকরি করার সুযোগ করে দিয়েছেন। দক্ষিন আইচায় সাবেরা খাতুন নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করে চরাঞ্চলে নারীদের মাঝে শিক্ষার প্রসার ঘটিয়েছেন। দুই উপজেলার বহু শিক্ষা প্রতিষঠান এমপি ভুক্তি করণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তার সহযোগিতায় শত শত বেকার শিক্ষকদের কর্মসংস্থা হয়েছে।

এর বাহিরেও তিনি চট্রগ্রামের জেলা প্রসাশক থাকতে ভোলা সমিতি নামে চট্রগ্রামে স্থায়ী জমি বরাদ্ধ দিয়ে ভবন তৈরী করে ভোলাবাসীর প্রানে ঠাই করে নেন। চাকরি জীবনে মেজবাহ উদ্দিন ১২ জানুয়ারি ২০২২ তারিখ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সচিব পদে যোগদান করেন। তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারে ১১ ডিসেম্বর ১৯৯১ খ্রি: যোগদান করেন। কিশোরগঞ্জ জেলায় সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিনি তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় এক বছর এবং ঢাকা মহানগরীর তেজগাঁও সার্কেলে চার বছর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলায় তিন বছর এবং মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় দুই বছর সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর তিনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নাটোর পৌরসভায় এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে পাবনা জেলায় কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি জেলা প্রশাসক হিসেবে খুলনা জেলায় দুই বছর এবং চট্টগ্রাম জেলায় তিন বছর সাফল্য ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি কর্মকান্ডে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো ও নিশ্চিত করা, ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে ডিজিটাইলেজেশন করায় ২০১৬ সালে দেশের ‘সেরা জেলা প্রশাসক’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব হিসেবে প্রায় পাঁচ বছর কর্মরত ছিলেন। এ মন্ত্রণালয়ে যোগদানের পূর্বে তিনি সর্বশেষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও তিনি সরকারী দায়িত্বের অংশ হিসাবে দেশে-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হতে পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি ভারতের উত্তরাখন্ড প্রদেশের মুসৌরীতে অবস্থিত ন্যাশনাল সেন্টার ফর গুড গভর্নেন্স হতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।

এছাড়াও তিনি দক্ষতা উন্নয়নের জন্য আমেরিকার ডিউক ইউনিভার্সিটি হতে উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তিনি সরকারী দায়িত্বের অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, আমেরিকা, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। মেজবাহ উদ্দিন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসাবে পদাধিকার বলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান, বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ভাইস-চেয়ারম্যান, শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের নির্বাহী কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপির) পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১১তম বিসিএস অফিসার্স ফোরামের সভাপতি এবং বাংলাদেশ এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ছাত্র জীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে ছিলেন সক্রিয়।

বর্তমান আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাসিম ছাত্র জীবনে ঢাকা শেরেবাংলা কৃষি কলেজ (বিশ্ববিদ্যালয়) ভিপি থাকাকালীন ওই পরিষদেরই এজিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মেজবাহ উদ্দিন। এমনকি স্বৈরাচার এরশাদ পতনের আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিলো অন্যতম। এ ব্যাপারে সাবেক সচিব মেজবাহ উদ্দিনের কথা হলে তিনি বলেন, আমি রাজনীতি করার লোক, সরকারী চাকুরীতে থাকা অবস্থায় জাতির জনকের আদর্শ ও বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায়ই আমি কাজ করেছি। চাকুরী থেকে অবসর গ্রহনের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাকে কিছু দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। বর্তমানে আমি সেই লক্ষেই কাজ করে যাচ্ছি। আমি কাজের লোক।কাজ করা আমার নেশা এবং পেশা। নেত্রী আমাকে যে কাজ দিবেন আমি সততা ও নিষ্ঠার সাথেই তা পালন করবে ইনশাআল্লাহ।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

কাব্যকস সুপার মার্কেট, ৩ ডি কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫।

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২, ০১৬০০০১৪০৪০

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com, tchitranews@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

Web Design & Developed By
A

তদন্ত চিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।