TadantaChitra.Com | logo

১১ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ভয়ানক প্রতারক চক্র

প্রকাশিত : মে ১৪, ২০২৩, ১৮:৫০

ভয়ানক প্রতারক চক্র

বিশেষ প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জে এক ভয়ানক প্রতারক চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই চক্র মানুষকে নানাভাবে ফুসলিয়ে টাকা আত্মসাত করে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শণ করে থাকে। সম্প্রতি এক সিনিয়র সাংবাদিকের সঙ্গে এরকম করায় মিডিয়া কর্মীদের নজরে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে প্রতারক চক্রটি নারায়ণগঞ্জ ছাড়িয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার ফাঁদ পাততে শুরু করে। এদের বসবাসের ঠিকানা নারায়ণগঞ্জের জালকুঁড়ির দেলপাড়াএলাকায়। অনুসন্ধানে প্রকাশ প্রতারক চক্রের মূল হোতা বৈশাখীর বসবাস কুতুবপুর ইউনিয়নের দেলপাড়া গ্রামের তাজ মসজিদের পাশে প্রবাসী জসিম উদ্দিনের বাড়ির দ্বিতীয় তলায়। একই এলাকার ব্যবসাযী তুষারের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকেন আরেক প্রতারক সীমা আক্তার। তারা অর্থ আত্মসাতের পর পুলিশের দারোগা মুনিরের দ্বারা মানুষকে ভীতি প্রদর্শণ করে থাকে।

জানা গেছে, প্রতারক চক্রের মূলহোতা বৈশাখী নারায়ণগঞ্জের দেলপাড়ায় বসবাস করেও ঢাকার গুলশান বারিধারা এলাকায় একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকুরী করে। তার স্বামীর নাম আরীফুজ্জামান কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।মৃত আরিফুজ্জামানের তার ভাই আবদুল মান্নান সরকারের আমলা ছিলেন। তাদের বাড়ি জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার বেল আমলা গ্রামে। আরিফুজ্জামানের বিয়ের আগে এক নারীর সঙ্গে অবৈধ মেলামেশার কারণে একটি মেয়ে জন্ম নেয়। তার নাম অঙ্গনা।বৈশাখীর আশুরা নামের এক মেয়ে ও আবির নামের একটি ছেলে রয়েছে। খারাপ চরিত্রের এই নারীর চেহারা কুচকুচে কালো হলেও নিজেকে ব্ল্যাক ডায়মন্ড দাবি করে। সুন্দর ভাষায় কথা বলতে পারায় পুরুষদের পটানোর সক্ষমতা রয়েছে তার। এই যোগ্যতা দিয়ে নানাভাবে ফুসলিয়ে, বিদেশে যাওয়ার জন্য ভূয়া মেডিকেল করে দেওয়া এবং বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করে দেওয়ার দোহাই দিয়ে অথবা জমি কিনে দেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর ভূক্তিভোগীর সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করে।সেইসাথে র‌্যাব পুলিশ পিবিআইয়ে অভিযোগ দেওয়াসহ মাস্তানদের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন দোহাই দিয়ে হামলা এবং নারী নির্যাতনের মামলা দেওয়ার হুমকি দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশাখী এক পুলিশের দারোগার সঙ্গে সে শারীরিক সম্পর্কে জড়ায়। দীর্ঘদিন সম্পর্ক চলে। দারোগার নাম মনির হোসেন। বৈশাখীর প্রতারণার সঙ্গি সে। এক সময় র‌্যাব-১০ এ কর্মরত ছিলো দাবি করা মনির বর্তমানে ফতুল্লার ইন্ডাট্রিয়াল পুলিশের এস আই হিসেবে কর্মরত।প্রতারণার টাকা দিয়ে স্ত্রী-সন্তান থাকার পরও এই দারোগা বৈশাখীকে কক্সবাজার গিয়ে একটি নামী দামি হোটেলে রাত্রী যাপন করে আসে। রাজধানীর পল্টনের হোটেল নিউইয়র্কে যাত্রী যাপন এবং হোটেল ৭১-এ দীর্ঘদিন পার্টির আয়োজন করে। এসময় তাকে দিয়ে বিভিন্নজনকে হুমকি দিয়ে প্রতারণা করে টাকা আদায় করে। সেই টাকায় তারা মৌজ মাস্তিতে খরচ করে। কিন্তু তার কাছ থেকে ফায়দা লুটার পর তার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়। পরে দারোগার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে তার সম্পর্কে বিচার দেয়। পরে মনিরকে নারায়ণগঞ্জের জালকুঁড়ি এলাকার ইন্ডাট্রিয়াল পুলিশে বদলি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই কর্মরত রয়েছ। মুনির দারোগা এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বৈশাখীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, এক সময় সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে তাদের যোগাযোগ নেই। তবে বৈশাখী মনিরকে চিনেন না বলে দাবি করেন। তবে মনিরের সঙ্গে বৈশাখীর সম্পর্কের কথা অনেকজন জানে। এমনকি অফিসের বস পর্যন্ত জানে। এসংক্রান্ত রেকর্ড এই প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।

এর আগেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আমির হোসেন এবং মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের ইউসুফ নামের দুই ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে তাদের নানাভাবে ভীতি প্রদর্শণ করে। এর মধ্যে ইউসুফের টাকা র‌্যাব দিয়ে উদ্ধার করে। মনিরকে ব্যবহার করে তার অফিসের বসের কাছ থেকেও ২ লাখ ৪০হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিয়োগ রয়েছে। বৈশাখীর প্রতারণা এবং বিভিন্ন জনের সঙ্গে শারিরীক সম্পর্কে জড়ানোর বিষয়ে তার ভাশুর আবদুল মান্নানের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, বৈশাখীর সঙ্গে তারা ভাইয়ের বিয়ের সময় থেকেই পারিবারিক জেলাসি রয়েছে। তার অপকর্মের দায় তিনি নিবেন না বলেও জানান আবদুল মান্নান।

বৈশাখীর বড় বোন সীমা আক্তারও একই কায়দায় বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ পাওযা গেছে। কখনও জমি বিক্রি করার কথা বলে কখনও এনজিও থেকে টাকা নিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা করে আসছে বৈশাখীর বোন সীমা আক্তার। স্বামী-সন্তান রেখেও সীমা আক্তারের বিরুদ্ধেও বিভিন্নজনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। সাগর নামে তার স্বামী বিদেশে অবস্থান করছে। শোনা যায় সাগরকে ডিভোর্স দেওয়ার পরও তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে খরচ করে। এরপরও দিনাজপুরে বাড়ি রানা নামের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে পরক্রীয় সম্পর্ক রয়েছে তার। কিছুদিন আগে তার তিন মেয়েকে নিয়ে দিনাজপুরের স্বপ্নপুরি ঘুরে আসে সীমা আক্তার। তারা দুই বোনের চক্রের সঙ্গে রয়েছে তার ভাই স্বপন ও ভাইয়ের স্ত্রী ফারজানা। তারা দুইবোন কোন সমস্যায় পড়লে ভাই ভাইয়ের বউ এবং বড়বোন সামনে চলে আসে এবং একযোগে আক্রমণ করে ভয়ভীতি প্রদর্শণ করে ভুক্তভোগীদের। এছাড়াও সীমা আক্তারের দেলপাড়ার একজন বড়লোক জমি ব্যবসায়ীর সঙ্গে এটিসপিটিস সম্পর্ক রয়েছে বলে এলাকায় চাউড় আছে। (চলবে)##


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

আজাদ টাওয়ার ৪৭৬/সি-২, ডিআইটি রোড ৭ম তলা, মালিবাগ রেলগেইট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২ , ০১৯৩৪৩৪১৬১৮

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

Web Design & Developed By
A

তদন্ত চিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।