TadantaChitra.Com | logo

৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাঃ আবদুল গনির বিরুদ্ধে অবৈধ শিক্ষক সমন্বয় বদলির মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশিত : জুলাই ২৩, ২০২৩, ০৭:২৭

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাঃ আবদুল গনির বিরুদ্ধে অবৈধ শিক্ষক সমন্বয় বদলির মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাঃ আবদুল গনির অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি অভিযোগ তদন্তে টাকার বিনিময়ে তদন্ত কর্মকর্তা সাতক্ষীরা জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে ইয়াসমিন করিমী কর্তৃক দায়সারা প্রতিবেদন দাখিল করার ফলে শিক্ষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে অবনতি হতে চলেছে। এদিকে আবদুল গনির হুংকার শিক্ষক সমাজকে আরো বেশি ভীতসন্ত্রস্ত করে তুলেছে। তিনি সবাইকে দেখে নেওয়ার হুমকি ধামকি দিচ্ছেন।

এমনকি বিভাগীয় মামলার ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ যার সাথে যেভাবে কথা বললে ভয় পায় সে ধরণের বাক্য বিনিময় করছেন।শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা ও স্টাফদের নিয়ে মূহুর্মূহ মিটিংসিটিংয়ের ব্যবস্থা করছেন।তাদেরকে ভালো ভালো নাস্তা দিয়ে এক হয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন। শিক্ষা অফিসের সকলে একাট্টা হয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেখে গেছেন। ক্লাস্টারের অনেক সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার গনির নির্দেশ মোতাবেক শিক্ষকদের পাকড়াও করতে শুরু করেছে। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আকস্মিক পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। ছোট খাট সূক্ষ্মাতিসূক্ষ দোষ ত্রুটি ও অনিয়ম খুঁজে বের করা হচ্ছে। শিক্ষকগণ ত্রাসের মধ্যে দিনাতিপাত করেছেন। এরফলে শিক্ষকগণ পাঠদানে মনোনিবেশ করতে পারছেন না।

এদিকে হোসনে ইয়াসমিন করিমী তার দায়সারা প্রতিবেদনে শিক্ষকদের গ্রুপিংয়ের বিষয় তুলে ধরেছেন ; দালাল শ্রেণির ১০জন শিক্ষকের ১টি গ্রুপ এবং সাধারণ শিক্ষকদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করার অপচেষ্টা করেছেন মাত্র। ফলে গনির ছত্রছায়ায় যেসকল দালাল শিক্ষক আছেন তারা আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছেন। কোন শিক্ষককের সাথে কোন প্রকার মনোমালিন্য বা লেনদেনে ঝামেলা থাকলে গনিকে দিয়ে হুমকি ও মিথ্যা মৌখিক অভিযোগ করে সে সকল শিক্ষককে শাসানো শুরু হয়েছে। নিরীহ শিক্ষকগণ চরম বিপাকে আছেন। সাতক্ষীরা সদরের শিক্ষকবৃন্দ অতীতে এ ধরনের অরাজক পরিস্থিতির সম্মূখীন হয় নাই। শিক্ষকবৃন্দ ক্লাসে পাঠদানে গেলে ত্রাসে থাকছেন। কখন জানি আবদুল গনি এসে তাদের সাথে খারাপ আচরণ শুরু করেন। বর্তমানে শিক্ষার পরিবেশ নাই বললে চলে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকবৃন্দ জানান, আবদুল গনিকে অন্যত্র বদলির মাধ্যমে সঠিক তদন্তে মহাপরিচালক ও সচিব মহোদয় অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন বলে তাদের বিশ্বাস। এজন্য তারা উর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তার কঠোর ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কারণ গনি এখানে কর্মরত থাকলে তদন্ত বাধাগ্রস্ত করে তার প্রমাণ তদন্ত কর্মকর্তা সাতক্ষীরা জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে ইয়াসমিন করিমী কর্তৃক টাকার বিনিময়ে দায়সারা প্রতিবেদন দাখিল। প্রমাণ পাওয়ার পরও গনির বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট শিক্ষকদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি আবদুল গনির বদলির সুপারিশ করেন নি। বরং তিনি আবদুল গনিকে নিয়ে সকাল, দুপুর, বিকেল এমনকি সন্ধ্যায়ও নাস্তা-খাবারসহ চাইনিজ খেয়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসি রুমের দরজা বন্ধ করে দু’জনে অজানা আলাপচারিতায় লিপ্ত থেকেছেন। আবদুল গণি অফিসে গেলে তার রুমে সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু হেনা মোস্তফা কামাল (জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পাশাপাশি দু’টি গেস্টরুমে দু’জন কয়েক বছর ধরে থাকছেন) ব্যতীত অন্য কোন স্টাফের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে। বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক।

আবদুল গনির অর্ধকোটি টাকার দুর্নীতি তদন্তে তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলাতিতে গনি আরো বেশি বেপরোয়া আচরণ করছেন। শিক্ষকদের সাথে চরম খারাপ ব্যবহার করছে শুরু করেছেন। “সাতক্ষীরা লোক অত্যন্ত খারাপ; এদের সাথে চলা যায় না” মর্মে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন। ফলে শিক্ষকবৃন্দ তাদের হাতে থাকা প্রমাণাদি একএক করে প্রকাশ করতে চলেছেন। কারণ এবার যে অভিযোগ উঠেছে তার থেকে আবদুল গনি বের হতে পারবেন কিনা অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। ২০২১ সালের ব্যাক ডেটে আনুমানিক ২০-২৫টি বিদ্যালয়ের (যার হিসাব আবদুল গনি ব্যতীত অন্য কারো নেই) শিক্ষক সমন্বয় বদলির মাধ্যমে কোটি টাকারও বেশি আত্মসাতের অভিযোগ উঠে এসেছে।

আগরদাড়ি সপ্রাবি হতে উত্তর কাটিয়া সপ্রাবি, মাহমুদপুর সপ্রাবি হতে কামালনগর সপ্রাবি, গোদাঘাটা সপ্রাবি হতে সিলভার জুবিলী মডেল সপ্রাবি, বাঁশঘাটা সপ্রাবি হতে বাটকেখালী সপ্রাবি, মাছখোলা সপ্রাবি হতে সাতানী সপ্রাবি এর শিক্ষক ও শূন্যপদ সমন্বয়কৃত বিদ্যালয়ের নাম উল্লেখযোগ্যভাবে শোনা যাচ্ছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে ০৪ মার্চ ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে জারিকৃত ৩৮. ০০৮. ০২২. ০০.৷ ০০. ০০২. ২০১১-১৩১ সংখ্যক স্মারকে উল্লিখিত ধারা ৬.০ অনুযায়ী “জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাঁর নিজ অধিক্ষেত্রে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে একই উপজেলার বিদ্যালয় সমূহের মধ্যে শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক ছাত্র সংখ্যার অনুপাত শিক্ষকদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করার প্রয়োজনে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে আলোচনা, পর্যালোচনা ও সুপারিশের আলোকে বিদ্যালয় ভিত্তিক শিক্ষক সমন্বয় ও বিদ্যালয়ওয়ারী শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংখ্যা নির্ধারণ করে তা উল্লেখ পূর্বক আদেশ জারি করবেন”। একই ধারার ৬.৪ উপধারায় শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক ছাত্র সংখ্যার অনুপাত ১:৪০ এর উল্লেখ রয়েছে। অথচ সমন্বয় বদলির ক্ষেত্রে নীতিমালাকে উপেক্ষা করে আবদুল গনির মনগড়া নীতিমালার প্রতিফলন ঘটিয়ে শিক্ষক সমন্বয় বদলি করতে দেখা গেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কোন আদেশ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং ক্লাস্টার পর্যায়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট পৌঁছে দেওয়া হয় নাই। এমনকি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকও আদেশ কাউকে দেখাচ্ছেন না। সংযুক্তির নামে শিক্ষকদের কাঙ্ক্ষিত বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়। তারপর তাদেরকে সমন্বয়ের আদেশ প্রদান করা হয়েছে অত্যন্ত সন্তর্পণে। শুধু ৬.৪ নয় বরং ৬.৩ উপধারাকেও সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করা হয়েছে।কারণ ৬.৩ উপধারায় বলা আছে- “বিভাগীয় উপপরিচালক বিষয়টি যাচাইবাছাই করে মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর এ ধরনের বদলির প্রস্তাব প্রেরণ করবেন”। শিক্ষক বদলি হয়েছে ঠিকই কিন্তু নীতিমালার আলোকে নয়। বরং অর্থের বিবেচ্য বিষয়ে যাকে দেওয়া প্রয়োজন তাকেই বদলি করা হয়েছে। যে স্কুলে শিক্ষকের চাহিদা সে স্কুলে পাঠানো হয়েছে।এখানে সরকার ঘোষিত নীতিমালাকে সম্পূর্ণ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে আবদুল গনি তার নিজ অধিক্ষেত্রে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সহযোগিতা নিয়ে স্বৈরাচারী রাজার ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু তাকে ( আবদুল গনিকে) কি আদৌ বিচারের আওতায় আনা সম্ভব! এ ধরনের বিস্ময় প্রকাশ করেছে অনেকে। কারণ কি জানতে চাইলে তারা বলেন, ০৮/০৫/২০২৩ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত তদন্তে তদন্ত কর্মকর্তা সাতক্ষীরা জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে ইয়াসমিন করিমী কর্তৃক টাকার বিনিময়ে দায়সারা প্রতিবেদন দাখিল করার ফলে আমাদের আস্থার জায়গা অত্যন্ত দূর্বল হয়ে গেছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে আমাদের কিছুই বলার নেই। ন্যায় বিচার পাওয়ার স্বার্থে মহাপরিচালক ও সচিব মহোদয় তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত আবদুল গনিকে অন্যত্র বদলিসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস; যদিও আমাদের আস্থার জায়গাটা একটু নড়বড়ে হয়ে গেছে। তবু শিক্ষকবৃন্দ হারানো বিশ্বাসকে ফিরে পাওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে শিক্ষক সমন্বয় বদলির ফলে যে সকল শিক্ষক বদলি হয়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত স্কুলে পদসহ নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকে হতাশায় দিনতিপাত করছেন। কারণ সফটওয়ার ভিত্তিক হওয়ায় তাদের কারো কারো নাম অধিদপ্তরের সফটওয়ারে নেই বা পূর্বের স্কুলে রয়ে গেছে। ফলে সমন্বয়ের আদেশ প্রাপ্ত শিক্ষকগণ আবদুল গনির দ্বারস্থ হলেও কোন কাজ হচ্ছে না।অধিদপ্তরে ফোন করে তাদের নামের তালিকা লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন আবদুল গনি। এ বিষয়ে আবদুল গনি আরেক দফা টাকা দাবি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন। শিক্ষকগণ আর টাকা দিতে পারছেন না। কোন কোন বদলিকৃত শিক্ষকের নিকট চা খাওয়ার নাম করে টাকা চাচ্ছেন। আবার ৫-১০হাজার টাকা দিলেও নিচ্ছেন না। দাবি ১.৫-২ লক্ষ। ফলে আবদুল গনির মধ্যেও হতাশা কাজ করছে।

এ বিষয়ে আবদুল গনির সাথে কথা সাথে কথা বলতে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

কাব্যকস সুপার মার্কেট, ৩ ডি কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫।

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২, ০১৬০০০১৪০৪০

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com, tchitranews@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

Web Design & Developed By
A

তদন্ত চিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।