TadantaChitra.Com | logo

৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ভালুকা মডেল থানার এএসআই পাইলট ভৌমিকের বিরুদ্ধে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় ও নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৩, ০৫:২৯

ভালুকা মডেল থানার এএসআই পাইলট ভৌমিকের বিরুদ্ধে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় ও নির্যাতনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে অসহায় মানুষ কে আটক করে, মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় ও নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী একাধিক ব্যক্তি।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, হয়রানি থেকে রেহাই পেতে টাকা দিতে হয় এই এএসআই পাইলট কে। অনেক সময় টাকা দিয়েও মুক্তি মিলে না এই কর্মকর্তার কাছ থেকে।

কী বলছেন অভিযোগকারীরা:

এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করা ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন ভুক্তভোগী তাদের হয়রানি হওয়ার ঘটনা বনর্না করেছেন এই প্রতিবেদকের সঙ্গে এবং ইতিমধ্যে কয়েকজন ভুক্তভোগী এএসআই পাইলট ভৌমিকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আইজিপি (পুলিশ হেডকোয়ার্টার), ডিআইজি (ময়মনসিংহ) ও জেলা পুলিশ সুপার (ময়মনসিংহ) বরাবর।

ভালুকা থানার পাড়াগাঁও এলাকার আসাদুজ্জামান সেলিম অভিযোগ করে বলেন, গত ২৯/০৪/২৩ইং তারিখে ভালুকা মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ বরাবর জমিজমা সংক্রান্তে একটি অভিযোগ দায়ের করি। উক্ত অভিযোগের তদন্তভার এএসআই/ পাইলট ভৌমিকের উপর দেওয়া হয়। পাইলট ভৌমিক সরজমিনে তদন্তে এসে, তদন্ত শেষে আমার নিকট ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। পড়ে অনেক অনুরোধ করে ৪০০০ টাকা দিলে চলে যাবার সময় জমির কাগজপত্র থানায় নিয়ে আসতে বলেন।

পরের দিন জমির কাগজপত্র থানায় নিয়ে গেলে কাগজপত্র দেখে এএসআই /পাইলট ভৌমিক বলেন যে জমিতে অনেক ভেজাল আছে এক (১)লক্ষ টাকা দিলে আমি কাজ করে দিবো। এক (১) লক্ষ টাকা না হলে আমার কাছে আর আইসো না। আসাদুজ্জামান সেলিম ও সুজন মিয়া অনেক অনুরোধ করলে ৬০ হাজার টাকায় রফাদফা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে দশ (১০) হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

দুই দিন পর একাধিকবার মোবাইল ফোনে ফোন দিলে পাইলট ভৌমিক ফোন রিসিভ করে বলেন যে, আমি খুব ব্যস্ত আছি। পরের দিন থানায় গেলে পাইলট স্যার সরাসরি বলেন যে বাকি ৪০ হাজার টাকা নিয়ে আসো। পরে আমি কাজটা সমাধান করে দিব না হলে আমি পারবো না। আমি কোন বিচার না পেয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আইজিপি বরাবর, ডিআইজি ময়মনসিংহ বরাবর এএসআই পাইলট ভৌমিকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। পাইলট ভৌমিক অভিযোগের কথা জানতে পেরে আমার দোকানে এসে আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে গেছে।

ত্রিশাল থানার পোড়াবাড়ি গ্রামের মো: জাকির হোসেন (পিতা: জসিম উদ্দীন) এই প্রতিবেদক কে বলেন, আমি বর্তমানে সিডস্টোর নজরুল মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকি। গত ০১/০৮/২৩ ইং তারিখ রাত অনুমানিক সাড়ে ১০ টার সময় পাওনা টাকা আনতে গেলে এএসআই পাইলট ভৌমিকের সোর্স আসাদ মিয়া আমাকে ধরিয়ে দেয়। পরে এএসআই পাইলট আমাকে হেরোইন ব্যবসায়ী বলে থানায় এনে সারারাত হাজতখানায় আটকে রাখেন। পরের দিন দুপুরে ৩০ হাজার টাকা দিলে আমাকে ছেড়ে দেয়। এ বিষয়ে মো: জাকির হোসেন গত ২০/০৮/২৩ তারিখে ডিআইজি ময়মনসিংহ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ডিআইজি মহোদা এডিশনাল এসপি মোরশেদা মহোদয় কে তদন্তের দায়িত্ব দেন। অভিযোগের কথা পাইলট জানতে পেরে জাকির হোসেনকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন। জাকির হোসেন তিন দিন বাড়িতে ঢুকতে পারেনি। পরে আবার ডিআইজি অফিসে গিয়ে জাকির হোসেন হাজির হলে মোরশেদা স্যার বলেন তুমি যাও আমি দেখছি যার তদন্ত এখনো চলমান।

ভুক্তভোগী সুজন মিয়া বলেন, আসাদুজ্জামান সেলিম বাদী হয়ে যে অভিযোগটি দায়ের করছিলো তার সাক্ষী ছিলাম। যার ফলে এএসআই পাইলট ভৌমিক গত ০১/০৯/২৩ ইং তারিখ রাত অনুমান সাড়ে ১০ টার সময় এলাকার চিহ্নিত মাস্তান ও বিএনপি নেতা মোঃ উজ্জল মিয়া ও মোঃ শফিকুল ইসলামসহ আরো দুই তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে পাঠায় আমাকে মারার জন্য।

তখন সীডস্টোর তালুকদার হোটেলের সামনে থেকে ওরা আমাকে মুখ ও কলার ধরে একটি গলিতে নিয়ে যায়। গলিতে নিয়ে এলোপাতাড়ি কিল ঘুসি ও অকাথ্য বাসায় গালিগালাজ করে। তারা এএসআই পাইলট ভৌমিকের নির্দেশে আমাকে মেরে আহত করেছে এবং ভবিষ্যতে পাইলট ভৌমিকের কোন ক্ষতি হলে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। পরে আমি পুলিশ সুপার ময়মনসিংহ বরাবর এএসআই পাইলট ভৌমিকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করি।

স্বপ্না আক্তার নামে এক ভুক্তভোগী এই প্রতিবেদক কে বলেন যে, আমার স্বামীঃ মোঃ কামরুল ইসলাম গত ১৫/০৮/২৩ ইং তারিখে সন্ধ্যা অনুমান ৬.৩০ ঘটিকায় সীডস্টোর বাজার হইতে অটোরিক্সা দিয়ে বাড়ীতে আসার সময় চেচুয়ার মোড়ে আসা মাত্রই একটি মোটর সাইকেল দ্রুতগতিতে এসে অটোরিক্সাটির গতিরোধ করে এবং আমার স্বামীকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে জোরজবরদস্তি করে নিয়ে যায় এএসআই পাইলট ভৌমিক ও চৌকিদার আলামিন। পরে সিএনজিতে থাকা এস আই/ চন্দন চন্দ্র সরকার কামরূলকে দেখামাত্রই এলোপাথাড়ি কিল ঘুষি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আজ রাতে তোকে ক্রসফায়ার দিব এই বলে হুমকি দিতে থাকে। এস আই চন্দন চন্দ্র সরকার এবং এএসআই পাইলট ভৌমিক আমার স্বামীকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ধরলেও বিভিন্ন জায়গায় ক্রসফায়ারে দিবে বলে ঘুরিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে। রাত ১১ টার দিকে আমরা থানায় হাজির হলে এক (১) লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে বলেন এএসআই পাইলট ভৌমিক ও এস আই চন্দন চন্দ্র সরকার। আমরা গরীব মানুষ এতো টাকা দিতে পারবো না বললে ৮০ হাজার টাকা নিয়ে আসতে বলে, না হলে ইয়াবা ও অস্ত্র মামলা দিয়ে জেলে পাঠাবো যাতে পাঁচ বছরের আগে জেল থেকে বের হতে না পারে বলে হুমকি দেয়। পরেরদিন থানায় গিয়ে তাদের সাথে দেখা করে বলি টাকা যোগাড় করতে পারি নি তাতে তারা রাগান্বিত হয়ে এসআই চন্দন চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে ২৫ পিস ইয়াবা মামলা দিয়ে আমার স্বামী কে কোর্টে পাঠায়। স্বপ্না আক্তার আরো বলেন, সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। শুধু আমরা ঘুষের টাকা দিতে পারি নি বলে। আমি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ডিআইজি ময়মনসিংহ, পুলিশ সুপার ময়মনসিংহ ও সার্কেল এসপি( গফরগাঁও) এবং ওসি ভালুকা মডেল থানা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেও কোন বিচার পায় নি, তাই বিজ্ঞ আদালতের দারস্থ হয়েছি, আমি আশাবাদী আদালতে আমি ন্যায় বিচার পাবো এবং কোর্টে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

সীডস্টোর এলাকার রাসেল মিয়া এই প্রতিবেদক কে বলেন, গত ৩০/০৮/২৩ তারিখে গোয়ারি মুক্তি বাজার থেকে একটি অটোরিক্সা চুরি করার সময় উপস্থিত জনতা চোরকে হাতেনাতে ধরে ৯৯৯ কল দিলে থানা থেকে এএসআই পাইলট ভৌমিক এসে চোর এবং অটোরিক্সা থানায় নিয়ে যায়। অটোমালিক থানায় গিয়ে তার অটোরিক্সা সনাক্ত করলে এএসআই পাইলট ভৌমিক তার কাছে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। গরীব অটোমালিক এতো টাকা দিতে পারবে না বলে অপারগতা প্রকাশ করলে এএসআই পাইলট ভৌমিক তাকে হুমকি দিতে থাকে এবং আটোরিক্সা টি আদালতে পাঠিয়ে দিবে বলে জানায়৷ পরেরদিন ১/০৯/২৩ ইং তারিখে ১১ হাজার টাকা এএসআই পাইলট ভৌমিক কে দিলে অটোরিক্সা মালিক কে বুঝিয়ে দেন। এই তো মাত্র সাহসী কয়েকজনের গল্প এমন না বলা গল্পের সংখ্যা অনেক। যারা এই এএসআই পাইলট ভৌমিকের নির্যাতনের শিকার কিন্তু তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে নারাজ।

ময়মনসিংহের ভালুকা ঘুরে এমন আরো অসংখ্য ভুক্তভোগীর খোঁজ পেয়েছে এই প্রতিবেদক। যারা মানসিক, শারীরিক ও আর্থিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এই এএসআই পাইলট ভৌমিকের মাধ্যমে। আর মানুষকে নির্যাতন করে ঘুষের টাকায় বিলাসী জীবন যাপন করছে এএসআই পাইলট ভৌমিক। এসি থেকে শুরু করে কোন বিলাসবহুল পণ্যটা নেই এই পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে? পরিবারের জন্য কিনেছেন দামি প্রাইভেট কার। আইএফসি ব্যাংকে রেখেছেন ৩০ লাখ টাকার এফডিআর। নেত্রকোনা শহরে কিনেছেন ৪০ লক্ষ টাকা দিয়ে জায়গা। গ্রামের বাড়িতে কিনেছেন বিঘার বিঘা জমি যার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নেই। আর সবগুলো ই করেছেন অবৈধ ঘুষ বানিজ্যের টাকায়।

তবে এসব বিষয়ে ভালুকা থানার ওসি কামাল হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘অনেকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিয়েছে। তবে এগুলো সত্য নয়।’ পাইলট ভৌমিক একজন ভালো অফিসার হওয়ায় মাদককারবারিরা তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে দাবি করেন ওসি।

এদিকে এএসআইয়ের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করছেন পুলিশের অভ্যন্তরীণ শাখার পরিদর্শক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাইলট ভৌমিকের বিরুদ্ধে সুজন মিয়া ও স্বপ্না আক্তার নামে দুজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। এরইমধ্যে অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন পুলিশ সদরদপ্তরের পাঠিয়ে দেব।

অভিযোগের বিষয়ে এএসআই পাইলট ভৌমিক  বলেন, ‘এগুলো মিথ্যা অভিযোগ। আমার বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে হোক। আমার কাছেও সাক্ষী আছে।’

এবিষয়ে জানতে গফরগাঁও সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরোজা নাজনীন  বলেন, এএসআই পাইলট ভৌমিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত চলছে। আমরা তদন্তে যা পাব, ঊধ্বর্তনদের কাছে পাঠিয়ে দেব।’


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

কাব্যকস সুপার মার্কেট, ৩ ডি কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫।

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২, ০১৬০০০১৪০৪০

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com, tchitranews@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

Web Design & Developed By
A

তদন্ত চিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।