TadantaChitra.Com | logo

১১ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ফায়ার সার্ভিসের বেপরোয়া সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন!

প্রকাশিত : নভেম্বর ২৮, ২০২৩, ১৬:২৩

ফায়ার সার্ভিসের বেপরোয়া সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন!

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের (ওয়্যারহাউজ ও ফায়ার প্রিভেনশন) সহকারী পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেনের ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়ম যেনো লাগামহীন। তার এসব অপকর্ম নিয়ে এর আগে সংবাদ প্রকাশ করে হলে নতুন মহাপরিচালক এসেই তাকে বদলী করে দেন। এরপর টাঙ্গাইল বদলী হয়ে শুরু করেন টাকার প্রদীপ খ্যাত চেয়ার ওয়্যারহাউজ ও ফায়ার প্রিভেনশনে আসতে। এখানে আসতে বেশকিছু টাকাও খরচ করেন তিনি। জানা গেছে, অধিদপ্তরের নিয়োগ, বদলী ও টেন্ডারবানিজ্য খ্যাত “দরবারে” মোটা অংকের টাকা দিয়ে মহাপরিচালক কে দিয়ে মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠিয়ে বদলীর অনুমোদন করিয়ে আনেন। এখানে যেনো টাকার খনি, সত্যি বাস্তবে তা-ই। দরবারের পীর সাহেব এর চাহিদা মতো কেউ টাকা না দিতে পারলেই এখানের যেকোনো কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। আবার অন্য কেউ চাহিদা মতো টাকা দিলেই সে অযোগ্য হলেও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়ন করেন তথাকথিত দরবারের পীর! টাকার লেনদেন না হলে বছর না ঘুরতেই মহা দুর্নীতিবাজ আনোয়ার হোসেনকে একই স্থানে আবার বদলী করা কথা নয়। অধিদপ্তরের অনেকেই বলেন, আসলেই কার নিযন্ত্রণে যে আমরা কাজ করি নিজেরাই জানি না। তবে তারা প্রকাশ্য কিছু বললেই দূরবর্তী স্থানে বদলী করা হয়। ইতিপূর্বে গণহারে বেশ কিছু যোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে কারণ ছাড়াই বদলী করা হয়েছে। তাঁদের স্থানে টাকার বিনিময়ে বদলী করা হয় অসাধু, দুর্নীতিবাজ ও অযোগ্য কর্মকর্তাদেরকে।

অভিযোগ রয়েছে, সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন এর কাছে বহুতল ভবন মালিকরা অসহায় হয়ে পরেছে। তার টেবিলে চলে কোটি কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য। দীর্ঘদিন ধরে একই চেয়ারে আঁকড়ে আছেন তিনি, মাঝখানে বদলি হলেও কর্তৃপক্ষকে ভেলকি দেখিয়ে আবারো ফিরে শুরু করেছেন অনিয়মের রাজত্ব। অধিদপ্তরের অনেকেই বলেন, আনোয়ার হোসেনের কাছে এই চেয়ায় কোটি টাকা আয়ের মেশিন।

রাজধানী ঢাকার বহুতল ভবন বিল্ডিং নির্মাণের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ছাড়পত্রের প্রয়োজন বিধিতে থাকলেও মানা হচ্ছে না তার কানাকড়িও। যেকোনো বিল্ডিং সাত তলার উপরে করতে হলে তাদের প্রত্যেকেরই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের অনুমোদন অর্থাৎ ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক নিতে হবে। আর এই ছাড়পত্র প্রদানের দায়িত্বে রয়েছে মোঃ আনোয়ার হোসেন, সহকারী পরিচালক ওয়্যারহাউস ও ফায়ার প্রিভেনশন।

অভিযোগ রয়েছে, যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেন তাদের প্রত্যেকেই মোঃ আনোয়ার হোসেনকে তিন থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ঘুষ প্রদান করতে হয়। ঘুষের টাকা দেয়া না হলে মাসের পর মাস ঘুরতে হয় ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য, তারপরও মেলেনা কাঙ্খিত ছাড়পত্র। অন্যদিকে সেফটি প্লান বিদ্যমান ভবনের সেফটি প্ল্যান বাবদ ৩ থেকে ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ নেন এই মোঃ আনোয়ার হোসেন।

সুত্র জানায়, সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেনের বিশ্বস্ত ৩৩ টি কনসালটেন্সি ফার্ম এর মাধ্যমে এই ঘুষের টাকা নেয়া হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কনসালটেন্সি ফার্ম এর কর্মকর্তারা বলেন, কোন উপায় নেই এই কর্মকর্তাকে টাকা না দিলে কোন কাজই হবে না আপনি যত চেষ্টাই করেন না কেন। বাধ্য হয়েই আমাদেরকে এই টাকা মোঃ আনোয়ার হোসেনকে খুশি করতে দিতে হয়। এই কর্মকর্তা নিজেই মাঠে পরিদর্শনে বেরিয়ে যান। যদিও এর আগে কোন পরিচালক এভাবে পরিদর্শনে যাননি বা যাওয়ার কোন নজির নেই । ভাবটা এমন যে তিনি কাজের বিষয়ে বেশ সিরিয়াস। আসলে ওইসব কাজে যে ঘুষ নেওয়া হয়েছে সেটি কম হয়েছে কিনা তা দেখার জন্যই মাঠে যান। এতে বিরক্ত অনেক কনসালটেন্সি ফার্ম। ফায়ার রিপোর্ট বাবদ শতকরা ৫ টাকা কমিশন ছাড়া কোন রিপোর্ট প্রদান করেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ও ফায়ার সার্ভিস ও ডিফেন্স অধিদপ্তরের কর্মচারীগণ আনোয়ার হোসেনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। সেবা প্রার্থী ও কর্মচারীগণ বলেন মোঃ আনোয়ার হোসেন একজন সিনিয়র সহকারী পরিচালক হওয়ার পরও সিনিয়র ও জুনিয়র কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রায়ই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এই গালিগালাজ থেকে বাদ যায় না অধীনস্থ কেউ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক কর্মচারী বলেন, চাকরি করতে এসেছি মা-বাবা ভাই-বোনকে গালি শোনাতে নয়। অন্যায় করলে আমাকে বলা হোক কিন্তু এভাবে মা-বাবা তুলে কেন গালাগালি করবে। উপরোক্ত বিষয় ফায়ার সার্ভিস ও ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী সেবা প্রার্থী ও জুনিয়ার কর্মচারীগণ।

মোঃ আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন এই পথে থেকে কোটি কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে বলেছেন সম্পদের পাহাড়। পরিবারের লোকজনের নামে করেছেন সম্পদ ও নগদ অর্থ।

পরের প্রতিবেদনে থাকবে তথাকথিত দরবারের পীরের বিস্তারিত প্রতিবেদন৷


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

আজাদ টাওয়ার ৪৭৬/সি-২, ডিআইটি রোড ৭ম তলা, মালিবাগ রেলগেইট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২ , ০১৯৩৪৩৪১৬১৮

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

Web Design & Developed By
A

তদন্ত চিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।