
একসময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ককে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে স্থিতিশীল কৌশলগত জোট হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গন ও গণমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং ইসরায়েলি নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর কিছু মন্তব্যকে ঘিরে ইসরায়েলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান কি আগের মতোই নিঃশর্ত সমর্থনের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
এদিকে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাট প্রাইমারির ফলাফলও এই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইসরায়েল নীতির সমালোচক হিসেবে পরিচিত কিছু প্রার্থীর জয়কে কেউ কেউ ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মনোভাবের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
ইসরায়েলের সাবেক কূটনীতিক ও নীতিনির্ধারকদের একাংশ বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে জনমত ও রাজনৈতিক বিতর্কে ইসরায়েল ইস্যুটি আগের তুলনায় বেশি বিভাজন তৈরি করছে। এর প্রভাব ভবিষ্যতে কংগ্রেসের অবস্থান, সামরিক সহায়তা এবং কূটনৈতিক সমর্থনের ওপর পড়তে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের আরেক অংশ মনে করেন, দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক এখনই বড় ধরনের ভাঙনের মুখে পড়েনি। অস্ত্র সহায়তা, জাতিসংঘে কূটনৈতিক সমর্থন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো এখনো শক্ত অবস্থানেই আছে।
ইসরায়েলের ভেতরে অনেকে আশঙ্কা করছেন, গাজা যুদ্ধকে ঘিরে আন্তর্জাতিক জনমত পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা গেছে, মার্কিন নাগরিকদের এক অংশের মধ্যে ইসরায়েল সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি আগের তুলনায় বেশি সমালোচনামূলক হয়েছে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী মহলে কিছু বিশ্লেষক বলছেন, ভবিষ্যতে ইসরায়েলকে তার কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা কৌশলে আরও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে হতে পারে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সম্পর্ক এখনো টিকে থাকলেও এর ভেতরে নতুন রাজনৈতিক ও জনমতগত চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যা ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে।
