
বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগে অনিয়ম, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে ধরে গণমাধ্যমের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচয় গোপন রাখা একাধিক সদস্য।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রকাশিত প্রায় ৪৮ জন সদস্যের দুটি বদলির আদেশে অনিয়ম হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বদলির কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টদের আবেদন উল্লেখ করা হলেও অভিযোগকারীদের দাবি, অনেক সদস্যই বদলির জন্য কোনো আবেদন করেননি। তাদের ভাষ্য, পছন্দের কর্মস্থলে বদলির জন্য অর্থের বিনিময়ে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, বদলি প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মো. মিজানুর রহমান বরিশালে দায়িত্ব পালনকালে ত্রাণসামগ্রী বিতরণে অনিয়ম এবং বরিশাল নদী ফায়ার স্টেশনের জ্বালানি সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের মুখে পড়েছিলেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; বরং পরবর্তীতে তিনি পদোন্নতি পান।
এছাড়া নিয়োগ বাণিজ্য, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা গ্রহণ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগকারীরা এসব বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের ভাষ্য, ফায়ার সার্ভিসে বদলি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে এবং সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার মন্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলোর সত্যতা, বদলি প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে কি না—তা কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
মো. মিজানুর রহমানের নিয়োগ বানিজ্য, বদলী বানিজ্য ও সাবেক স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের আমলে নানা অপকর্ম নিয়ে আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
