জলাবদ্ধতায় অচল রাজধানী, যানবাহন বিকল সড়কে

লেখক: সাব এডিটর
প্রকাশ: ৫ সেকেন্ড আগে

নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণে রোববার (১২ জুলাই) কার্যত অচল হয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা। রাতভর বৃষ্টির পর সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত বর্ষণে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি—সবখানেই সৃষ্টি হয় তীব্র জলাবদ্ধতা। ফলে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী এবং জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া নাগরিকদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, মোহাম্মদপুর, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট, ইসিবি চত্বর, মালিবাগ, শান্তিনগর, সায়েদাবাদ, আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেটমুখী নতুন সড়ক, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকা, শনির আখড়া, বংশাল, নাজিমউদ্দিন রোড, ধানমন্ডি, মিরপুর-১৩, কালশী, হাতিরঝিলের একাংশ, গুলশান লেকপাড়, কালাচাঁদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। অনেক স্থানে প্রধান সড়কের পাশাপাশি আবাসিক এলাকার অলিগলিও পানিতে তলিয়ে যায়।

জলাবদ্ধতার কারণে সড়কে চলাচলকারী বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের অনেকগুলো বিকল হয়ে পড়ে। কয়েকটি এলাকায় পানিতে ডুবে সিএনজি অটোরিকশার ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে চালকদের যান ঠেলে নিতে দেখা যায়। পানি বেশি থাকায় অনেক রাস্তায় রিকশা ও ভ্যানও চলাচল করতে পারেনি। বিভিন্ন দোকানে পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা মালামাল দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।

মিরপুরের বাসিন্দা ও বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফুল ইসলাম বলেন, সকালে অফিসে বের হয়ে মনে হয়েছে সড়ক নয়, যেন খাল পার হচ্ছেন। কোথায় ম্যানহোল বা গর্ত রয়েছে তা বোঝার উপায় ছিল না। কাপড়-জুতা ভিজে যাওয়ার পাশাপাশি প্রতিবারের মতো এবারও একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

বিজয় সরণি ও তেজগাঁও হয়ে হাতিরঝিল এলাকায় চলাচলকারী সিএনজিচালক জাহিদুর রহমান জানান, রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলি পানিতে ডুবে ছিল। অনেক গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ায় চালকদের সেগুলো ঠেলে সরিয়ে নিতে হয়েছে। তার ভাষায়, দিনের বেশিরভাগ সময়ই ঢাকার প্রায় সব সড়কে জলাবদ্ধতা ছিল।

টানা বর্ষণের ফলে নিচু এলাকা, বাসাবাড়ির প্রবেশপথ এবং দোকানপাটের সামনের অংশও পানিতে ডুবে যায়। অনেক স্থানে নর্দমার পানি উপচে সড়কে মিশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে সর্বশেষ ছয় ঘণ্টায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মাসের সর্বোচ্চ। সংস্থাটি জানিয়েছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, টানা ভারী বর্ষণের কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভোর থেকেই সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান গুলশান, বনানী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে এবং জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের সড়কসহ বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত ১৬ বছরে জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় এবং ওয়াসা থেকে খাল ও নালার দায়িত্ব দুই সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হলেও রাজধানীর দীর্ঘদিনের সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্ষা শুরু হলেই নগরবাসীকে একই দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ঢাকার জলাবদ্ধতার পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। ক্যাচপিট আবর্জনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া, ড্রেনে পলি জমে পানি চলাচল ব্যাহত হওয়া, খাল দখল ও ভরাট, অকেজো পাম্পিং স্টেশন এবং নদ-নদীর পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হতে পারছে না।

তাদের মতে, ক্যাচপিট থেকে ড্রেন, ড্রেন থেকে খাল এবং খাল হয়ে নদীতে পানি যাওয়ার পুরো ব্যবস্থাই বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতি বর্ষায় একই সংকট ফিরে আসে। দীর্ঘদিন ধরে নানা পরিকল্পনা ও বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও সমস্যার মূল কারণ দূর না হওয়ায় রাজধানীবাসীর ভোগান্তি কমছে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন...

  • আবহাওয়া অধিদপ্তর
  • জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ
  • ড্রেনেজ ব্যবস্থা
  • ঢাকা বৃষ্টি
  • ঢাকা সিটি কর্পোরেশন
  • ঢাকার জলাবদ্ধতা
  • ঢাকার যানজট
  • নগর জলাবদ্ধতা
  • নগর দুর্ভোগ
  • ভারী বর্ষণ
  • মৌসুমি বৃষ্টি
  • রাজধানীতে জলাবদ্ধতা
  • রাজধানীর সড়ক