TadantaChitra.Com | logo

২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ৭ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

আলোচনায় এক রহস্যময় নারী! প্রতিষ্ঠান নয় জামায়েতের আখড়া!

প্রকাশিত : জুন ০১, ২০১৯, ১৯:৪৫

আলোচনায় এক রহস্যময় নারী! প্রতিষ্ঠান নয় জামায়েতের আখড়া!

সুযোগ বুঝে দল পাল্টানোই তার পেশা! জামায়েতের এজেন্ট হিসেবে আওয়ামী লীগে! ছিলেন ঢাকা মহানগর মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি। সেই সময় নিয়মিত যাতায়েত ছিল খালেদা জিয়ার বাস ভবনে। এরপর বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে নব্য আওয়ামী লীগের খাতায় নাম লেখান এবং নেত্রী হিসেবে পরিচয়ও দেন, প্রদানমন্ত্রীর সাথে বিভিন্ন দেশে সফরসঙ্গি হিসেবে যান তিনি। মাঝে মাঝে এরশাদ সাহেব তো আছেই।

তদন্ত চিত্রঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কুটক্তিকারী ও ইসলাম অবমাননাকারী সেফাতুল্লা সেফু’র সাথে যোগসাজ করে ইসলাম বিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে জয়যাত্রা’র ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও অনুমোদহীন জয়যাত্রা টিভি’র মালিক কথিত মাদার তেরেসা হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সেফাতুল্লা সেফু’র সাথে মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে কথা বলার একটি ভিডিও এ প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। সেই ভিডিওতে দেখা যায় ইসলাম বিরোধী সেফাতুল্লা সেফু’র কাছে টাকা চান কথিত মাদার তেরেসা খ্যাত হেলেনা জাহাঙ্গীর। এছাড়াও সেফাতুল্লা’র অন্য এক কথার প্রসঙ্গে হেলেনা জাহাঙ্গীর তাকে ভালোবাসা দিবেন বলেও জানান। বিতর্কিত এ নারী বিরুদ্ধে সাপ্তাহিক তদন্ত চিত্র বর্ষ-২৫, সংখ্যা-২৪, তারিখ ২৫ মে ২০১৯ সালে “অনুমোদনহীন জয়যাত্রা টিভি’র ব্যানারে হেলেনা জাহাঙ্গীরের অন্যরকম মিশন” শিরোনামে একটি তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশ করলে দেশবাসী ও প্রবাসীদের কাছে তোপের মুখে পড়েন। নিজের অপকর্ম আড়াল করতে নিজের ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আরো বেকায়দা পড়ে পরবর্তীতে তা সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হন কথিত হেলেনা জাহাঙ্গীর। এরপর থেকেই পাগলা কুকুরের মত থেমে থাকেন নি হেলেনা জাহাঙ্গীর। একের পর এক বিভিন্ন ব্যাপারে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আরো বেশি বিতর্কের জন্ম দেন এ নারী। তার কমেন্টসে বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের মতামত প্রদান করলে এ নারী তাদের উপর ক্ষীপ্ত হয়ে কমেন্টস কারীদেরকে কুকুরের বাচ্চা বলেও গালিগালাজ করেন। সর্বশেষ এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানে সাথে ডুয়েট গান করার অফার পেয়েছেন বলে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আরো আলোচনায় আসেন। অনেকেই মনে করেন হেলেনা জাহাঙ্গীর বিতর্কিত এমন স্ট্যাটাস দিয়ে আলোচনায় থাকতে চান সব সময়। এছাড়াও কথিত এ সমাজ সেবীকা সম্প্রতি একটি ইফতার অনুষ্ঠানে কয়েকজন নারী নিরে গান পরিবেশন করেও ইসলামকে অবমাননা করেছেন। অবশ্যই তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে পরে তার ফেইসবুকে দুঃখ প্রকাশ করেন।


অভিযোগ উঠেছে, ইসলাম বিরোধী সেফাতুল্লাহ সেফু’র কাছ থেকে টাকা এনে তার জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন ও জয়যাত্রা টিভির আড়ালে জামায়েত শিবিরের কার্যালয় বানিয়েছেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। সরকারকৃত রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডে বন্ধ হওয়া দিগন্ত ও ইসলামী টিভির লোকজন দিয়ে চালাচ্ছেন জয়যাত্রা টিভি। তার এ প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ লোকই জামায়েতের রাজনীতির সাথে জড়িত বলেও একটি সূত্র দাবী করছে। এদের মধ্যে জামায়েত রাজনীতি’র সাথে রয়েছেন, আশ্রাফ হোসেন শাহাদাৎ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিবিরের ক্যাডার ও ইসলামী টিভি’র প্রতিনিধি ফারুক, ইসলামী টিভি ও আল-দাওয়া টিভি নামক প্রতিষ্ঠানের ব্রডকাস্ট, ইসলামী টিভি’র এমপিআর ম্যান মান্না, ইসলামী ও দিগন্ত টিভি’র প্রযোজক এ জে বিদ্যান ও সাজ, ইটিভি থেকে জামায়েত কানেকশনের অভিযোগ চাকুরি হারানো তাবিদ, হেলেনার জয়যাত্রা টিভি’র সিইও ও গাজীপুরের সাধারন মানুষের আতঙ্ক ও গাজীপুর এলাকার শীর্ষ চাঁদাবাজখ্যাত সানাউল্লাহ নুরি। সম্প্রতি এ চাঁদাবাজকে পুলিশ চাঁদাবাজির মামলা ও নারী ঘটিত মামলায় জেল হাজতে পাঠান। এরপর জেল থেকে বের হয়ে সেই চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত সানাউল্লাহ নুরি।
জিরো থেকে কোটিপতি হেলেনার রহস্য!: প্রতারণা দেশ-বিদেশে। নারায়নগঞ্জে গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে কাজ করতেন স্বামী জাহাঙ্গীর আলম। সুন্দরী স্ত্রী হেলেনাকে নিয়ে থাকতেন ভাড়া বাসায়। হঠাৎই কোটিপতি বনে গেলেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। রাজধানীর গুলশান, নিকেতন, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, বসুন্ধরা সহ ৩২টি বাড়ির মালিক। দেশের গন্ডি পেরিয়ে মালয়েশিয়া ও অস্টেলিয়ায় কিনেছেন বাড়ি, রয়েছে কোটি টাকার ব্যবসা। তবুও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরে পড়েনি এই হেলেনা। দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা চলছে। সরকারী অনুমোদন ছাড়াই অনলাইন টিভি খুলে স্যাটেলাইট চ্যানেলের নামে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। জয়যাত্রা নামের একটি অনুমোদনহীন চ্যানেলের মালিক সেজে প্রবাসীদের টার্গেট করে প্রতারণা করেছেন বলেও জানা গেছে। জিরো থেকে কোটিপতি হবার নেপথ্যে রাঘববোয়ালদের সাথে হেলেনা জাহাঙ্গীরের রুপেভরা সখ্যতা। ছোট ছোট আবাসিক হোটেলে যাতায়াত ছিল। শুরুর দিকে রুপের জালে টাকা ইনকাম, এরপর হঠাৎই কোটিপতি হেলেনা। রহস্যময় হেলেনা জাহাঙ্গীর নিজেকে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আছে দাবি করলেও অনুসন্ধানে বেশ কয়েকটি ছবিসহ তথ্য প্রমাণ বের হয়েছে। পৃথক ছবিতে আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও জাতীয় পার্টির জিএম কাদেরের সাথে হেলেনা জাহাঙ্গীর। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথেও রয়েছে সরাসরি যোগাযোগ। সেই সুবাদে বগুড়াতেও প্রেম খেলা খেলেছেন এই নারী। তারেকের সাথে লন্ডনে এক বৈঠকে উপস্থিত থাকারও প্রমাণ পেয়েছে অনুসন্ধানী টিম। দেশজুড়ে বহুল সমালোচিত ডিআইজি মিজান সহ দেশের প্রায় সবকটি রাজনৈতিক দলের কথিত রাঘববোয়াল নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে হেলেনার। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ছত্রছায়া দিয়ে কর্তাদের নাম ব্যবহার করে কোটি টাকা বখরা নিয়েছে। ডিআইজি মিজানের সাথে সখ্যতাকালে নিজের গাড়ীতে পুলিশ স্টিকার লাগিয়ে চলতেন, সেই প্রমাণও এখন অনুসন্ধানী টিমের কাছে। ডিআইজি মিজানের ইনকামের পথও ছিল হেলেনার রুপযৌবন। মিজানের পরিকল্পনা মতে, প্রাক্তন এক মন্ত্রীকে রুপের জালে ফাঁসিয়ে ফেলে। এরপর সেই মন্ত্রীকে ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা ইনকামের সুযোগ নিয়েছে হেলেনা জাহাঙ্গীর। বিএনপি সরকার আমলে সিলভার সেলিম, মামুন সহ অনেকের সাথে সখ্যতার মাধ্যমেও গড়েছে স¤পদ। আড়ালে আছে অনেক রহস্য, সেসব খুঁজে বের করছে অনুসন্ধানী টিম। জয়যাত্রাসহ নামে বেনামে বিভিন্ন ফাউন্ডেশন গড়ে প্রবাসীদের কাছ প্রতারণা করে টাকা নেয়াই হেলেনার মুল ব্যবসা।
মহিলা দলের নেত্রী এখন আ’লীগের ঘাড়ে!
সূত্রে জানায়, রাজধানীর অভিজাত এলাকা মিরপুর-১১ ভাড়া অফিস নিয়ে সরকারী অনুমোদনবিহীন জয়যযত্রা টেলিভিশন অফিস খুলে দেশে ও বিদেশে প্রতিনিধি ও ব্যুরো অফিস দেয়ার নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারনা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই প্রতারনা সাথে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন হেলেন জাহাঙ্গীর নামের এক রহস্যময়ী নারী। অভিযোগ উঠেছে মহিলা দলের ঢাকা মহানগর কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হেলেন জাহাঙ্গীর ২০১৪ সালের আগে সরকারী বিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত হয়ে আলোচনায় আসেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার পুত্রবধু জোবায়দা রহমানের বান্ধবী হেলেন জাহাঙ্গীর খালেদা জিয়ার বনানীর বাসভবনে থেকে জামায়াতের এজেন্ট হিসেবে বিএনপির পক্ষে সরকার বিরোধী কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন। এনিয়ে বিএনপির মির্জা আব্বাস গ্রুপের  অনুসারী মহিলা দলের সদস্যদের হাতে লঞ্চিত হয়ে ২০১৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর। তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে দুদিন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান। সেখানেই তারেক জিয়ার এক অনুসারির মধ্যস্থতায় তিনি দেশে এসে নিজের অবস্থান বদলে ফেলেন। আওয়ামীলীগের কয়েক নেতার সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে নিজেকে আওয়ামী ঘড়নার শিল্পপতি হিসেবে প্রচারনা চালাতে থাকেন। কৌশলী হেলেন জাহাঙ্গীর নিজেকে নিরাপদ রাখতে মিডিয়ার পরিচয় দিয়ে একটি এ্যাক্রিটিটেশন কার্ড সংগ্রহ করে তা নিজের ফেসবুকে শেয়ার করে সাংবাদিক নেতাদের নজরে আসেন। এনিয়ে ফেসবুকে ব্যপক সমালোচনা করেন সাংবাদিক নেতারা। বিভিন্ন প্রথম শ্রেনীর অনলাইন নিউজ পোর্টালে ও পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ পায়। সাংবাদিকরা বলেন, সাংবাদিকের পরিচয়পত্র কিভাবে একজন অসাংবাদিক পেয়ে থাকে। এনিয়ে সর্বত্র আলোচনা চলতে থাকলে কৌশলী হেলেন জাহাঙ্গীর সরকারী অনুমোদন না নিয়েই জয়যাত্রা টিভি নামে একটি সংবাদ ভিত্তিক স্যাটেলাইট টিভির মালিক বলে নিজেকে প্রচারনা চালান তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে। এই আইডিতে দেশবিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিজের পরিচালিত টেলিভিশন জয়যাত্রাটিভির সাংবাদিক ও ব্যুরোপ্রধান করে সমাজে প্রতিষ্টিত করে দেবার নাম করে প্রতারনা চালাতে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে অনুমোদনহীন এই অনলাইলে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে সাংবাদিকতার বাইরের বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত। সরকার বিরোধী, সন্ত্রাস ও দুবৃত্তদের হাতে সাংবাদিকতার আইডি কার্ড তুলে দিচ্ছেন হেলেন জাহাঙ্গীর এমন সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সরকারী বিভিন্ন সংস্থা তদন্তে নেমেছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন হোটেলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জয়যাত্রাটিভির প্রতিনিধির ব্যানারে জামায়াত শিবিরের সদস্যদের নিয়ে তিনি প্রতিনিধি সম্মেলন করছেন বলেও অনুসন্ধানে জানা গেছে।


আলোচনায় ছিল অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড:
বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) পরিচালক হেলেনা জাহাঙ্গীর হেলেনা ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে তথ্য অধিদফতরের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পেয়েছিলেন। এ নিয়ে সে সময় ব্যাপক সমালোচনা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে। এর কারণ তিনি নিজেই। ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে এই নারী উদ্যোক্তা উল্লেখ করেন, এই কার্ডের কার্যকারিতা সম্পর্কে তিনি নিজেই জানেন না! ২০১৭ সালের ৮ নভেম্বর পোস্ট করা তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি ছিল এমন, সময়ের ও ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘ আট মাস পর এসে কার্ড নিজ হাতে তুলে নিলাম। নিজে না এলে আসলে কোনও কাজ হয় না, সেটাই আজ প্রমাণিত হলো। তবে এখনও এই কার্ডের কার্যকারিতা স¤পর্কে আমি অবগত নই। কোনও এক শুভাকাক্সক্ষী করতে বললো, তাই করলাম। পত্রিকায় প্রতিনিয়ত লেখালেখি করি, বই লিখি। কখনও জানি না কোথায় কী লাগে। কোনটার কী কাজ। আমি ব্যবসায়ী, ব্যবসার কাজ ছাড়া কিছুই বুঝি না।
এ স্ট্যাটাস দেখে পেশাদার সাংবাদিকদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বছরের পর বছর সাংবাদিকতা করেও তথ্য অধিদফতরের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড না পাওয়া সাংবাদিকরা কমেন্টে জানতে চান, কিভাবে তিনি এই কার্ডধারী হলেন? প্রশ্নের তোপে তিনি নিজের পোস্ট স¤পাদনা করে লিখেছিলেন, সময়ের ও ব্যস্ততার কারণে এক মাস পর এসে কার্ড নিজ হাতে তুলে নিলাম। ভালো লাগলো। খুব গর্ববোধ করছি।
অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পাওয়ার কথা জানিয়ে দেওয়া এই স্ট্যাটাস সরিয়ে ফেলেছেন তোপের মুখে পড়ে সেদিনই হেলেনা জাহাঙ্গীর। এরপর সমালোচনার মুখে পড়ে ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর, বেলা ১২টার পরে হেলেনা ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে পাওয়া অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডের ছবিসহ পোস্টটি সরিয়ে ফেলেন। কিন্তু তার আগে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন থ্রেডে এখনও চলছে সমলোচনার ঝড়। সেদিন প্রবীণ সাংবাদিক কাজী আব্দুল হান্নান ফেসবুকে লিখেছেন, স্বাগতম তথ্য মন্ত্রণালয়কে! একজন ব্যবসায়ী ও লেখিকাকে সাংবাদিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে অ্যাক্রেডিটেশন দেওয়ার জন্য। সাধুবাদ অবশ্যই তাদের পাওনা।
হেলেনার ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে সাংবাদিক খোরশেদ আলম প্রশ্ন করেন, ব্যবসায়ী হয়ে কিভাবে তিনি অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পেলেন। প্রতিক্রিয়ায় তিনি তখন বলেন, অনলাইনের কোনও বেল (গ্রহণযোগ্যতা) আছে? এদিকে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড দেওয়ার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে বলে জানালেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। একসময় তিনি এই কার্ড দেওয়ার কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, “ফ্রিল্যান্সারদের এই কার্ড দিতে কী মানতে হবে নীতিমালায় তাও আছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত তথ্য অধিদফতরের পিআইওর সভাপতিত্বে যে কমিটি হয় তাতে একজন সাংবাদিক প্রতিনিধিও থাকেন। সেখানে ক্যাটাগরিক্যালি বলা আছে কোন প্রতিষ্ঠান কিসের ভিত্তিতে কয়টি কার্ড পাবে। প্রশ্ন হলো, সেই কমিটি এই ব্যবসায়ীকে কার্ড দেওয়ার যোগ্য মনে করলেন কেন? তিনি তো ব্যবসায়ী। হয়তো এখানে তথ্য বিভ্রান্তি আছে।” জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল আরও বলেন, দেখা যায় গণমাধ্যমের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে স¤পৃক্ত লোকজনও এই কার্ড নেন। পেশাগত কাজে যারা সরকারি প্রতিষ্ঠানে যাবেন এটি তাদের জন্য। ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিইও কিংবা সার্কুলেশন ম্যানেজার সাংবাদিক নন, কিন্তু এটি তাদেরও দেওয়া হচ্ছে। কার্ড দেওয়ার সময় এ দিকটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত ছিল কমিটির। সে সময় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা ফেসবুক কমেন্টে লিখেছেন, অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পাওয়ার জন্য ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকের নমুনা যদি এমন হয়, সত্যি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি হিসেবে আমি লজ্জিত। এরপর তার কার্ডটি বাতিল করেন তথ্য অধিদপ্তর। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে হেলেনা জাহাঙ্গীরের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে অবশ্যই তদন্ত চিত্রে সংবাদ প্রকাশ হলে হেলেনা জাহাঙ্গীর ফোন করে বলেন তার বিরুদ্ধে প্রতিদিন একটি করে সংবাদ প্রকাশ করতে এতে যত টাকা খরচ হয় সব টাকা হেলেনা জাহাঙ্গীর দিবে। অনুসন্ধান করায় এক সংবাদকর্মীকে লাখ টাকার বখরা অফার করে হেলেনা চক্র। অনুসন্ধান চলছে..বিস্তারিত তদন্ত চিত্রের প্রিন্টে পরবর্তী সংখ্যায়…..চলবে…


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৯৭২৬৪৯৬১২, ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

error: Content is protected !!