TadantaChitra.Com | logo

২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ৭ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

জি কে শামীমকে নায়িকা পাঠাতেন জায়েদ খান!

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯, ১৮:৫৫

জি কে শামীমকে নায়িকা পাঠাতেন জায়েদ খান!

তদন্ত চিত্রঃ অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ক্যাসিনোতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ধরা পড়েছেন ক্যাসিনো মালিকরা। তবে সে অভিযানের ধাক্কা এসে লেগেছে সিনেমা পাড়াতেও। উচ্চারিত হচ্ছে চলচ্চিত্র জগতের অভিনেত্রীদের নাম।

চলচ্চিত্র সূত্র জানায়, ঠিকাদার কিং খ্যাত জি কে শামীমকে চলচ্চিত্র জগতের আলোচিত-সমালোচিত নায়িকা ছাড়াও নব্য নায়িকা বনে যাওয়া মেয়েদেরকেও পাঠাতেন জায়েদ খান। তবে সবার নাম আলোচনায় আসলেও জায়েদ খান বরাবরই অধরা। তার কথা যে নব্য নায়িকা না শুনতেন তার উপর শারীরিক ও মানষিক নির্যাতনের খড়গ চালাতেন জায়েদ খান। চলচ্চিত্র শিল্প সমিতির সভাপতি’র সাধারণ সম্পাদক বনে গিয়েই তিনি বিভিন্ন স্বল্পদৈর্ঘ্য ও পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবির উঠতি নায়িকাদের বড় বড় রাঘববোয়ালদের নিকঠ পাঠাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের।

জানা গেছে, তার আপন ভাই পুলিশ পরিদর্শক শহিদুল। তিনি ডিএমপিতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত। বর্তমানে শাহজানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। নামে নামে জমে টানে’ কথার বাস্তবতা এ পুলিশ কর্তার বেলায় হুবহুব মিল রয়েছে। সাবেক পুলিশের আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক৷ এই আইজিপি’র নাম আর জায়েদ খানের নাম এক হওয়াতে ভাইকে আইজিপি বলেই পরিচয় দিতেন বিভিন্ন মহলে। তবে সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হকের সাথেও জায়েদ খানের সম্পর্ক ছিল সু-মধুর।

অভিযোগ রয়েছে, বিপাশা নামের এক অশ্লীল নায়িকার সাথে জায়েদ খান সাবেক আইজিপি শহিদুল হকের পরিচয় করিয়ে দেন। সেই সূত্র ধরেই সাবেক এই আইজিপি ওই নায়িকার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। এছাড়াও জায়েদ খানের কথায় অন্য এক নায়িকাকে সাবেক পুলিশের এ কর্তা গুলশানে একটি ফ্ল্যাটও কিনে দেন। এই পুলিশ অফিসের শাসনামলে পিরোজপুর এলাকায় পুলিশের পাহাড়ায় এক হিন্দু পরিবারের একটি ক্লিনিকও দখল করে নেন জায়েদ খান ও তার ভাই।

হিন্দু পরিবারের অভিযোগ, এ নিয়ে মামলা মোকদ্দমা করলে ক্লিনিকের মালিক বিজয় কৃষ্ণ হাওলাদারকে রাজধানী শহর থেকে বেশ দূরের স্থান ঝিনাইদাহ রেল লাইনের পাশে পেলে দেন এ চক্রটি। বর্তমানে এই পরিবারের সদস্য গীতা রানী মজুমদার ও বিজয় কৃষ্ণ হাওলাদার এক ধরনের বন্দি জীবন যাপন করছেন।

সূত্র জানায়, পুলিশের হাতে আটক ক্যাসিনো মালিক ও টেন্ডারবাজ জি কে শামীম গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, টেন্ডার পেতে চলচ্চিত্রের নায়িকাদের ব্যবহার করতেন তিনি! আর এগুলো সাপ্লাই দিতেন চলচ্চিত্র শিল্প সমিতির সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। এতেই নড়েচড়ে বসেছে চলচ্চিত্র অঙ্গন।

যদিও গণমাধ্যমে কোনও নায়িকার নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে আকার ইঙ্গিতে কিছু নাম উঠে আসছে। বাংলা সিনেমার অভিনেত্রী রত্না, এ প্রজন্মের নায়িকা মিষ্টি জান্নাত, রাহা তানহা খান ও শিরিন শীলার নাম এখন ঘুরে ঘুরে উচ্চারিত হচ্ছে অনেকের মুখে।

তবে তাদের মধ্যে রত্না, মিষ্টি জান্নাত ও রাহা তানহা খান আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছেন, তারা কেউ জি কে শামীম নামে কাউকে চেনেন না। অন্যদিকে মিষ্টি জান্নাত একটি বেসরকারি টেলিভিশনে স্বীকার করেছেন তিনি জি কে শামীমের কথা মত বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে দেখা করতেন।

রত্না বলেন, ‘প্রতিবেদনে আমার নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে যেসব বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তা কিছুটা আমার সঙ্গে মিলে যায়। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় আমি সিনেমায় এসেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি। এরকম বেশ কিছু তথ্য মিলে যাচ্ছে। তাই অনেকে মনে করছেন আমি সেই। আমি জি কে শামীম নামে কাউকে চিনি না।

তিনি আরও বলেন, আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, আমি কোনো রকম অবৈধ কাজে কখনো জড়িত ছিলাম না। কেউ যদি প্রমাণ দিতে পারেন তাহলে যে শাস্তি দেওয়া হবে আমি মাথা পেতে নেবো। আমি আমার জায়গা থেকে সৎ। সততার সঙ্গে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছি।

রত্না জানান, প্রকাশিত প্রতিবেদনে যাদের নাম ইঙ্গিত করা হয়েছে তাদেরও উচিত এটা নিয়ে স্টেটমেন্ট দেওয়া, যদি তারা সৎ থাকেন। তাতে করে তদন্তে সত্যটা বেরিয়ে আসবে।

মডেল ও অভিনেত্রী রাহা তানহা খানের মতে, নিজেদের দোষ ঢাকার জন্য অনেকেই নায়িকাদের নাম ব্যবহার করেন। তার ভাষ্য, কেউ কোথাও ধরা পড়লে সেখানে নায়িকার নাম জুড়িয়ে দেন। এটা এর আগেও হয়েছে। এটা একদম ঠিক না। ধরুন আমি একজনকে চিনি, পরে যদি সে অপরাধ করে পুলিশের হাতে ধরা পরে এবং আমার নাম বলে তাহলে আমি কি অপরাধী হয়ে গেলাম? নায়িকা হওয়ায় অনেক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ থাকতে পারে। সেলফি তুলতে পারি। তাই বলে সেই লোকের অপরাধের দায় আমার না।

এসময় তিনি জি কে শামীমকে চেনেন না বলে জানান। রাহা বলেন, জি কে শামীম নামে আমি কখনো কাউকে চিনতাম না। নামই শুনিনি কোনোদিন। যদি চিনতাম তাহলে বলতে পারতাম। এখন যদি কেউ আমার নাম জড়িয়ে দেয় তাহলে আমার কিইবা করার থাকে!

তিনি আরও বলেন, আমাদের পেছনে অনেক কোটিপতি ব্যক্তিরা ঘোরে। ঘুরতেই পারে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য জি কে শামীমের মতো দালালের প্রয়োজন হয় না। গণমাধ্যমে যে খবর এসেছে সেটা ভিত্তিহীন। আমি কখনো কারও অবৈধ কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না।

এ বিষয়ে শিরীন শিলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

অন্যদিকে এ বিষয় নিয়ে জায়েদ খানকে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৯৭২৬৪৯৬১২, ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

error: Content is protected !!