TadantaChitra.Com | logo

২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ৯ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

মৃত মা’কে হত্যার অভিযোগ এনে ভাইকে ফাঁসানোর চেষ্টা!

প্রকাশিত : নভেম্বর ০৪, ২০১৯, ১৭:৩১

মৃত মা’কে হত্যার অভিযোগ এনে ভাইকে ফাঁসানোর চেষ্টা!

# পুলিশের ইন্ধন, ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ও স্বজনরা

শরণখোলা প্রতিনিধিঃ নব্বইয়েরও বেশি বয়সী জবেদা খাতুনের মৃত্যু হয় বার্ধক্যজনিত কারণে। সে প্রায় ছয় মাস আগের ঘটনা। খুলনার আড়াই শ’ শয্যা হাসপাতলে জবেদার মৃত্যুশয্যায় তখন খলিল গাজী বাদে আর সব সন্তানরা উপস্থিত ছিলেন। ‘মায়ের প্রতি কোন কর্তব্যবোধ ছিল না বলেই পাশে ছিলেন না খলিল’ এমনটাই বক্তব্য পরিবারের। সেই খলিল গাজীই মায়ের মৃত্যুর ২২ দিন পর আনেন মা’কে হত্যার অভিযোগ। তাও আবার নিজেরই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। যার পেছনে রয়েছে বাগেরহাটের শরণখোলা থানার এক কর্মকর্তার ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে গ্রামের আরও অনেককে মামলায় জড়ানোর কারণে ‘অতিষ্ট’ গ্রামবাসী তার ওপরে ক্ষুব্ধ। অতিষ্ট স্বজনরাও।

জবেদার মেজো মেয়ে খালেদা জানান, তার মা মারা যাওয়ার বছর তিনেক ধরে তার শরণখোলার বাড়িতে থাকতেন। ৩০ বছর ধরে হাঁফানিসহ নানা অসুস্থতা ছিল মায়ের। বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে খুলনার আড়াই শ’ শয্যা হাসপাতলে ভর্তি করাই। এর মধ্যে আমার ভাইবোনদের খবর দিই। মায়ের পাশে সব ভাইবোনরা এসে দাঁড়ালেও খলিল গাজী’র ভাই আসেননি। তিনিই আমার আরেক ভাই লতিফ গাজীর নামে মিথ্যা মামলা করেছে।

হাসপাতাল সরবরাহকৃত জবেদার মৃত্যুসন থেকে জানা যায়, এপ্রিলের ২৯ তারিখ ইন্তেকাল করেন জবেদা খাতুন (৯০)। হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. অনল রায় মৃত্যুসনদে কারণ উল্লেখ করেন ‘হাইপোভলিউম শক’, যা বার্ধক্যের কারণেও ঘটে থাকে। কিন্তু দাফনের ২২ দিনের মাথায় শরণখোলা থানার ওসি তদন্ত মফিজুর রহমানের ইন্ধনে খলিল গাজী তার মেজ ভাই লতিফ গাজী ও তার পরিবারকে ফাঁসাতে মৃত মায়ের হত্যার অভিযোগ আনেন বলে দাবি করেন ওই পরিবার ও অন্যান্য স্বজনেরা।

তারা ও গ্রামবাসী খলিল গাজীকে ‘মামলাবাজ’ মন্তব্য করে জানান, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তিনি ওই এলাকায় বিভিন্নজনের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিকের মতো মামলা করেছেন। মামলা করে তিনি আবার টাকার বিনিময়ে আপোষ করেন। এটা তার আরেক ধরণের ব্যবসা। তাছাড়া মোহরী পেশায় থাকলেও পুলিশের ওই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজসে এলাকায় ইয়াবা ও মাদকের ব্যবসা করেন বলে এলাকাসূত্রে জানা যায়।

লতিফ গাজী জানান, চাকরি পাওয়ার আগে খলিলকে আমরা নানাভাবে সহায়তা করেছি। নিজের জমিতে থাকতেও দিয়েছি। কিন্তু তার অপকর্মের কারণে ওই জায়গা ছেড়ে দিতে বললে আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বাবার রেখে যাওয়া ভিটে-বাড়িটি দাবি করে বলেছে, সম্পত্তি তার নামে লিখে দিলে মামলাটি তুলে নেবে।

খলিলের লন্ডন প্রবাসী ভাই মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশে ফিরলে চোখ উপরে ফেলবেন বলে খলিলের ভাই হুমকি দিয়েছেন। যা আমি একাধিক ইমেইলের মাধ্যমে বাগেরহাটের এসপিকে জানিয়েছি। কিন্তু এবিষয়ে এসপি অফিস থেকে কোন উত্তর পাইনি। অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে পেরে আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়েছেন এসআই মফিজুর।

এবিষয়ে শরণখোলা থানার এসআই মফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে ফোন করা হলে তিনি ‘সাংবাদিক’ শুনেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

রয়েন্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন, খলিল গাজী প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিষয়টি আগেই জানতে পেরেছি। গ্রাম্য আদালতের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছি।’

খলিল গাজী তার বিষয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মাকে বহুদিন ধরে আটকে রেখে সম্পত্তি লিখে নেওয়া হয়েছে। পরে মায়ের অসুস্থতার কথা বলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আমার সেজো বোন খালেদার ভাষ্য মতে, রক্ত দেওয়ার পরই মা যেন কেমন কেমন করতে শুরু করে, এরপরই তার মৃত্যু হয়। এতে আমার সন্দেহ হয়েছে। এজন্যই আমি অভিযোগ দায়ের করি।

পুলিশের সঙ্গে ‘গোপন আঁতাতের’ বিষয়ে খলিল বলেন, এগুলো মিথ্যা কথা। আমাকে আমার ভাই মামলা দিয়েছিল। এজন্য আমি গ্রামে যেতে পারতাম না। চাচাতো ভাইয়ের কাছ থেকে মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি থানার ওসিকে কল করে বলি, আমার মাকে কি আমি দেখতে পারবো না? তখন তিনি আমাকে বলেন, কিছু সময় দেখে সড়ে পরো। তারপর আমি মাকে দেখতে যাই।’ মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার নামে যদি এ ধরণের অভিযোগ থানায় থাকে তাহলে পুলিশ নিশ্চিয় তার তদন্ত করবে।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৯৭২৬৪৯৬১২, ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

error: Content is protected !!