TadantaChitra.Com | logo

২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ৭ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

দক্ষিণ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা

প্রকাশিত : নভেম্বর ২৯, ২০১৯, ০৮:০০

দক্ষিণ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা

ঢাকা: অনেকটা বিতর্কের মধ্যেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের সপ্তম সম্মেলনের পরে ক্যাসিনোকাণ্ড, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে অভিযুক্ত সংগঠনটির নেতারা যখন গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভুগছেন। তখন এদিকে, ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে চলছে আলোচনা-উন্মাদনা।

ঠিক তদরুপ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সবচেয়ে সমালোচিত ব্যক্তি ক্যাসিনো সম্রাটের জায়গায় কে আসছে সম্মেলনের পরেই দলের মধ্যে এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। কে হচ্ছেন দক্ষিণ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এমন জায়গায় আসতে দলের মধ্যে চলছে লবিং লাইন। দক্ষিণ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন কমিটিতে আসার জন্য চাদাঁবাজি, ক্যাসিনো, টেন্ডারবাজেরাও পিছিয়ে নেই।

সারাদেশে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, ও ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগ ওঠে দলটির কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলেরাও সমালোচনায় রয়েছে সেখানে রাজধানীর মতো এমন জায়গায় যারা আসবে তারা কি সমালোচনায় পড়বে কি না এমন প্রশ্ন এ সংগঠনেরর নেতাকর্মীদের মনে। এজন্য তারা ক্লিন ইমেজের মানুষ চাই যুবলীগের দক্ষিণেও উত্তরে।

যুবলীগরে এমন দায়িত্ব জায়গা থেকে ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটসহ কেন্দ্রীয় ও নগর পর্যায়ের কয়েকজন নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া ওইসব নেতা কেন্দ্রীয় অনেক নেতার নাম বলেছেন। ফলে সংগঠনটির ভাবমূর্তি অনেকটা ক্ষুণ্ন হয়েছে।

নেতাকর্মীদের দাবি তারা ঢাকা মহানগরে ক্লিন ইমেজের নেতা চান। যারা দলের প্রতি র্দীঘদিন অভিমান করে রয়েছেন। অথবা যারা আ.লীগ পরিবারের বাইরে যাবে না এবং বিভিন্ন অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত হবে না, এমন নেতা চান ঢাকা মহানগরীতে তারা।

এজন্য সংগঠনটির তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন, যুবলীগের বর্তমান কর্মকাণ্ডে তারা হতাশ। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যুবলীগ কর্মী পরিচয় দিতেও এখন তাদের বাধে। তাই তারা চান, সম্মেলন যেহেতু হয়েছে বিশেষ করে দক্ষিণ যুবলীগে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যোগ্যদের সামনে আনা উচিত। অথবা সাবেক ছাত্রলীগের নেতাদের সামনে আনা উচিত তাহলে যুবলীগ আর বদনামের ভাগিদার হবে না এমনটাই মনে করেন তারা।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের এক নেতা বলেন, আমাদের সংগঠনের ঐতিহ্য আছে। কিন্তু কিছু দুষ্টু মানুষ সংগঠনকে কলুষিত করেছে। সম্রাট ভাইয়ের আশপাশে যারা ছিল তারা প্রায় সকলেই ক্যাসিনো অপরাধের সাথে যুক্ত। এদের বাদ দিয়ে দক্ষিণ যুবলীগের কমিটি হওয়া উচিত বলে মনে করি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক এক নেতা বলেন, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি দেখভাল করেছেন, তাই আমরা আশা করি তিনি এবার এমন ক্লিন ইমেজের মানুষের হাতে দক্ষিণ যুবলীগের দায়িত্ব তুলে দিবেন। যার হাতে দলের এ দায়িত্ব দেবেন তিনি হবেন সত্যিকারের যুবক। যার নেতৃত্বে আবারও দক্ষিণ যুবলীগ ফিরে পাব আমাদের হারানো গৌরব। এমন এক ক্লিন ইমেজের মানুষকে আমরা দক্ষিনে চাই।

সংগঠনটির বেশ কয়েকজন আ.লীগ পরিবারের সন্তানেরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ যুবলীগের এমন একজন দায়িত্ব পালন করুক যিনি আবারও যুবলীগের সম্মান ফিরিয়ে আনতে পারবেন। এজন্য যারা ছাত্রলীগের নেতা অথবা র্দীঘদিন ধরে দলের প্রতি অভিমান করে বসে আছে তাদের এ পদে আশা উচিত বলে তারা মনে করেন।

যুবলীগের সাবেক নীতিনির্ধারকেরা মনে করেন, যুবলীগ হলো এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংগঠন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ সংগঠন আবার ও জনপ্রিয় সংগঠনে পরিণত হবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাধারণ পদে আলোচনায় রয়েছেন, যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সারোয়ার হোসেন বাবু, জি এম এ গাফ্ফার তালুকদারসহ বেশ কয়েকজন এদের মধ্যে যারা আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন তারা হলেন-

এ বিষয়ে গাজী সারোয়ার হোসেন বাবু জানিয়েছে, ছাত্রলীগের ত্যাগী অবদান রয়েছে এ সংগঠনে। তিনি বলেন, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ বিরোধীদল থাকাকালীন যারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে সাহসী ভূমিকা রেখেছে অতীতের সেই কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নেয়া দরকার। তিনি বলেন, একই সঙ্গে যারা নেতৃত্বে আসবেন তারা যেন অবশ্যই আওয়ামী পরিবারের সন্তান।

খন্দকার আরিফুজ্জামান, বলেন, রাজপথে দুর্দিনে কর্মী, যারা শেখ হাসিনার সব আন্দোলন সংগ্রামে ত্যাগী এবং নিবেদিত প্রাণ ছিলেন তারা যেন যুবলীগের আসে সেই প্রত্যাশা করি। পরিচ্ছন্ন রাজনীতির সূচনা করতে চাই যুবলীগের নেতৃত্ব পেলে। যুবলীগের ঐতিহ্য ফেরাতে সৎ নেতৃত্বের বিকল্প নেই।

এই পদের সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক উপ দুর্যোগ ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক সোহাগ- নাজমুল কমিটির গাফ্ফার তালুকদার। গাফ্ফার ছাত্রলীগের একজন অভিমানী ও ত্যাগী ছাত্রনেতা। যেটা বারবারই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন অভিমানের দলে ফিরাতে হবে এবং তাদের জায়গা দিতে হবে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে আলোচিত গাফ্ফার তালুকদার বলেন, যোগ্যদের সামনে আনা উচিত।আমি এই পদে আসতে চাই বিষয়টি এমন নয়। আমি ছাত্রলীগ করে যুবলীগের রাজনীতিতে এসেছি। যুবলীগের যেখানে আমাকে রাখে সেখানেই আমি থকবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের যুবলীগের নীতিনির্ধারকদের এ সিধান্ত অনুযায়ী দক্ষিণ যুবলীগের কমিটি হবে।তবে এতো টুকু বলতে চাই যাদের পিছনে ছাত্রলীগের রাজনৈতিক পোস্ট আছে তারা এ পদে আসলে দক্ষিণ যুবলীগ নয়, সারাদেশের যুবলীগ সুনামের সহিত কাজ করে যাবে। দুর্দিনে যারা দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, ছাত্রলীগের ত্যাগী অবদান রয়েছে নেতৃত্ব তারা আসলে যুবলীগ হবে অনুসরণীয় এক সংগঠন।

আলোচিত এ নেতা বলেন, যুবলীগের দক্ষিণে বিশেষ করে আওয়ামী লীগ বিরোধীদল থাকাকালীন যারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে সাহসী ভূমিকা রেখেছে অতীতের সেই কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নেয়া দরকার। একই সঙ্গে যারা নেতৃত্বে আসবেন তারা যেন অবশ্যই আওয়ামী পরিবারের সন্তান হক এটা আমার কাম্য। জননেত্রী শেখ হাসিনা যে নেতৃত্ব উপহার দেবেন, সেভাবে সংগঠনের জন্য শতভাগ উজাড় করে কাজ করে যেতে চাই।

জানা গেছে, বতমার্ন যুবলীগের নীতিনির্ধারনকেরা ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের এই পদে আনান জন্য দলের র্শীর্ষ নেতাদের কাছে সুপারিশ করবেন। নীতিনির্ধারনকেরা আরো জানিয়েছেন আমরা চাই যারা যুবলীগ করেছে ছাত্রলীগ ব্যাকগ্রাউন্ড আছে এমন নেতা দিয়ে যুবলীগের কমিটি হোক। কারণ ঢাকা মহানগর যুবলীগ শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট।

প্রসঙ্গত, যুবলীগের সবচেয়ে ইমেজ সংকটসহ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযানের শুরুতে গ্রেপ্তার হন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এরপর একই কমিটির সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী (সম্রাট) ও সহ সভাপতি এনামুল হক (আরমান) গ্রেপ্তার হন। অভিযানের মধ্যে উঠে আসে আরো অনেক নেতার নামও। এরপর যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। একাধিক নেতা সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হন। যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতার দুর্নীতির অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। যুবলীগের চেয়ারম্যানকে বাদ দিয়েই সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করা হয়েছে।

নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি নাম এসেছে যুবলীগের দক্ষিণ শাখার নেতাদের। তবে অতীত ঝেড়ে ফেলে নতুন সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ক্লিন ইমেজের নেতারা এ পদ পাবেন বলে বিশ্বাস করছেন নেতা-কর্মীরা। ২৩ নভেম্বর যুবলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের পরে যুবলীগের দু-পদে নির্ধারিত থাকলেও এখনো উত্তর-দক্ষিণের কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা হতে পারতো কিন্তু এমনটা হয়নি। এটা নিয়েই যুবলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

 

তদন্ত চিত্র/জিয়া


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৯৭২৬৪৯৬১২, ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

error: Content is protected !!