TadantaChitra.Com | logo

১২ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং

 

 

যেন কোনো পুরস্কার মানুষের কাজের গতি আরো বাড়িয়ে দেয়

প্রকাশিত : জানুয়ারি ০৬, ২০২০, ১৭:৪০

যেন কোনো পুরস্কার মানুষের কাজের গতি আরো বাড়িয়ে দেয়

ঢাকা: পুলিশ সপ্তাহ ২০২০-এ সেবা ক্যাটাগরিতে ‘প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম) সেবা’ পদক পেয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসান। রোববার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস্ মাঠে প্যারেডের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ শেষে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসানকে পদক পরিয়ে দেন তিনি।

সূত্রে জানা গেছে, হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন এবং নিজ দায়িত্বে আসামি গ্রেপ্তার করা, জালিয়াতি চক্র ও অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের গ্রেপ্তারের কারণে জনমনে স্বস্তি এবং বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হওয়াই (এই পদক) পুলিশের পক্ষ থেকে এ সম্মান পান তিনি। তাছাড়া হাই কোর্টের জামিন কেনাবেচার জালিয়াতি চক্র গ্রেপ্তারের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘পিপিএম (সেবা)’ পদকে ভূষিত করা হয়।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসান বলেন, যেন কোনো পুরস্কার মানুষের কাজের গতি আরো বাড়িয়ে দেয়। এজন্য আমার পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আমার সিনিয়র স্যারদের ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, এই দুবার হলো আমি পদক পেয়েছি যেকোনো পুরস্কার মানুষের কাজের উৎসাহ আরো বাড়িয়ে দেয়। এই পদক পাওয়ার পর আমার কাজের স্পৃহা আরো বাড়বে এবং বেড়েছে। আমি পুলিশের সুনাম ধরে রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

মো. আবুল হাসান বলেন, আমি প্রতিটা কাজ নিজ দায়িত্বে করে থাকি, সেটা ছোট হোক বা বড় হোক। পুলিশের সুনাম ধরে রাখতে দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য সবসময় ভালো কাজ করার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।

জানা গেছে, ২০০১ সালে এসআই হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন মো. আবুল হাসান। তার গ্রামের বাড়ি নড়াইল জেলায়। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কোতোয়ালি থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ডিএমপির শাহবাগ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আবুল হাসান রাজধানীর শাহবাগ থানায় যোগ দানের পর এ এলাকায় বড় একটি হত্য মামলার রহস্য উদঘাটন করেন। বেশ কিছু আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শহিদুল্লাহ হলের সামনে থেকে এই শিশুকে হত্যা করা হয়। এই মামলার রহস্য ছিল খুবই জটিল। ছোট বাচ্চারা ছিল এই মালালার আসামি। মামলার তদন্ত করতে করতে তিনি এ হত্যার প্রধান রহস্যময় গ্যাংদের গ্রেপ্তার করেন। এমন বিভিন্ন ধরনের রহস্যজনক মামলার উদঘাটন করেছেন তিনি। এজন্য তাকে তৎকালীন ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদও জানানো হয়।

পুলিশী সূত্রে জানা গেছে. আবুল হাসান দুবার পিপিএম (পদক) ছাড়াও বিভিন্ন সময় তার কাজের সাফ্যলের বিনিময়ে ডিএমপির পক্ষ থেকে পুরস্কার পেয়েছেন।

যেসব চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন করেছেন আবুল হাসান

কিশোর গ্যাং কর্তৃক হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন: গত ১৫ মার্চ শাহবাগ থানা এলাকায় আরিফ হোসেন (১৫) নামের এক যুবককে বুকের ডান পাশে চাকু দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায় অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন আসামি। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত আরিফ মারা যায়। ওসি আবুল হাসান মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করে ঘটনাস্থল ও আশপাশে অবস্থান করে তথ্য-প্রযুক্তির সহয়তায় এবং সোর্স নিয়োগ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছয় আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করেন।

অজ্ঞান পার্টি চক্র গ্রেপ্তার: গত ২৬ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা এক সিএনজিচালককে নেশজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে সিএনজি ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলেই একজনকে গ্রেপ্তার করে। আসামিরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নিউ মার্কেট থানা এলাকা থেকে সিএনজি ভাড়া করে চালককে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। নেশার পরিমাণ বেশী হওয়ায় আহত সিএনজিচালক হাসপাতালে মারা গেলে গ্রেফতারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং গোপন সোর্স নিয়োগ করে তিন দিনের মধ্যে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেন।

হাই কোর্টে জামিন কেনাবেচার জালিয়াতি চক্র গ্রেপ্তার: গত ১২ এপ্রিল ও ২৬ সেপ্টেম্বর তারিখে জালিয়াতি চক্র আদালত চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে ৫৫০ গ্রাম হেরোইনকে ৪৮ গ্রাম দেখিয়ে এবং ৮০০ পিস ইয়াবাকে ২০০ পিস ইয়াবা দেখিয়ে কাগজপত্র জাল করে আসল হিসেবে ব্যবহার করলে বিজ্ঞ সুপ্রিম কোর্ট আসামিদের জামিন দিয়ে দেন। পরবর্তীতে নিম্ন আদালতে কাগজপত্র জাল বলে প্রমাণিত হয়। নিম্ন আদালত সুপ্রিম কোর্টে আবেদনের প্রেক্ষিতে দুটি মামলা রুজু হয়। মামলা দায়েরের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি ব্যবহার করে মামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেন।

চাঞ্চল্যকর মামলা ছাড়াও তিনি চুরি হওয়া ৭৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মোহাম্মাদ মহসীন হলে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, নয় পিস ইয়াবা, ফেন্সিডিলসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করেন। গত ২৪ জুন, রাষ্ট্রবিরোধী পোস্টার, পেইন্ড্রাইভ, হার্ডডিস্ক ও সিপিইউসহ হিযবুত তাহরীরের চার জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেন।

উল্লেখ্য, পুলিশ সপ্তাহ-২০২০ উপলক্ষে ২০১৯ সালে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৪ জনকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ২০ জনকে ‘প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ২৮ জন পুলিশ সদস্যকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ এবং ৫৬ জনকে ‘প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা’ দেয়া হয়।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

error: Content is protected !!