TadantaChitra.Com | logo

১২ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং

 

 

নাশকতাসহ প্রায় ডজনখানেক মামলার আসামী যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী!

প্রকাশিত : জানুয়ারি ০৮, ২০২০, ০৮:০৮

নাশকতাসহ প্রায় ডজনখানেক মামলার আসামী যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী!

স্টাফ রিপোর্টারঃ আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় ২০১৩ সালে বাসে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত একাধিক নাশকতা মামলার আসামি কবীর হোসেন সরকার। এছাড়াও হত্যাচেষ্টা, জমি ও ঝুট ব্যবসা দখল এবং চাঁদাবাজিসহ প্রায় ডজন খানেক মামলারও আসামি কবীর। তবুও প্রায় দুই বছর ধরে আসীন রয়েছেন আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে।

ঘটিয়েছেন নানা বিতর্কিত কাণ্ড, পদদলিত করেছেন দলীয় ভাবমূর্তি। আগামিতেও না কি বিতর্কিত এই নেতা মামলার বোঝা মাথায় নিয়েই থানা যুবলীগের শীর্ষপদে নেতৃত্ব দেবেন বলে রটেছে গুঞ্জন। বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে তার প্রচারণামূলক ফেস্টুন ও যুবলীগ সেন্ট্রালেও চালাচ্ছেন জোড় লবিং।
তবে সম্প্রতি নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এনেছেন পরিবর্তন। একই সাথে তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনে অনুপ্রবেশকারীরা যাতে ঠাঁই না পায় এজন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

আর প্রধানমন্ত্রীর এমন কঠোর পদক্ষেপকে স্বাধুবাদ জানিয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও নেতা নির্বাচনে সভানেত্রীর নির্দেশনা সঠিক ভাবে পালন করা হবে বলে আশাবাদী তৃণমূলের নেতাকর্মীদের।

এদিকে আওয়ামী সভানেত্রীর নির্দেশনাকে বাস্তবায়ন করতে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন ভিত্তিক নেতা নির্বাচনেও ব্যাপক যাচাই-বাছাইকরা হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবীর হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে আশুলিয়া ও সীমান্তবর্তী জেলা গাজীপুরে রয়েছে নাশকতাসহ প্রায় ডজনখানেক মামলা। ২০১৩ সালে আশুলিয়ার নরসিংহপুরে বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি নাশকতা মামলাটি (নং-৬২) দায়ের হয়। একই বছর তার বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা (নং-৫২) দায়ের করা হয় এই থানায়। এছাড়া ২০০৯ সালে মামলা (নং-৫১), ২০১০ সালে মামলা (নং-১১) ও ২০১৪ সালে মামলা (নং-৩৫) সহ বেশ কয়েকটি মামলা আশুলিয়া থানায় নথিভুক্ত রয়েছে।

আহ্বায়কের পদ পাওয়ার পর বিতর্কিত এই নেতার বিভিন্ন অপকর্মের স্বীকার ভুক্তভোগীরা গাজীপুরের কাশিমপুর ও আশুলিয়া থানায় পৃথক আরো চারটি মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে ২০১৯ সালে হত্যাচেষ্টা ও চুরির অভিযোগে আবিদ সরকার লিমন যুবলীগের এই নেতাকে প্রধান আসামি করে কাশিমপুর থানায় মামলা (নং-১৫) দায়ের করেন। ২০১৮ সালে স্থানীয় এমপি ডা. এনামুর রহমানের নির্বাচনী প্রচারণায় এক আওয়ামী লীগ নেতার ওপর হামলার ঘটনায় কবীরের সরকারের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা (নং-৫০) দায়ের করা হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে আশুলিয়া থানায় দখল মামলা ও গাজীপুরে ২০১৭ সালে মামলা (নং-৫৪) আরো একটি মামলা রয়েছে।

আশুলিয়া থানা যুবলীগের দুই কর্মী মাসুম মুন্সী ও আমিনুল ইসলাম খান বাবু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকারের পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তার বড় ভাই শওকত হোসেন সরকার বর্তমানে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তাহলে কবির হোসেন সরকারের মত এমন একজন অনুপ্রবেশকারী কিভাবে আশুলিয়া থানা যুবলীগের কমিটিতে আহ্বায়কের পদে আসীন রয়েছেন তা বোধগম্য নয়। এমনকি আগামিতেও তিনি পূর্ণাঙ্গ কমিটির সভাপতি পদ পেতে যাচ্ছেন বলেও তৃণমূলে গুঞ্জন রয়েছে।

তাই আশুলিয়া থানা যুবলীগের কমিটিতে ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন আওয়ামী পরিবারের নেতাকর্মীদের নিয়ে আসার দাবী জানান তারা।
এসব ব্যাপারে আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবীর হোসেন সরকার বলেন, তিনি পূর্নাঙ্গ কমিটিতে সভাপতি পদের জন্য শতভাগ আশাবাদী।

তবে তার বিরুদ্ধে বিএনপির নাশকতাসহ মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবী করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার। রাজনৈতিক কারনে তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো করা হয়েছে।
সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলা এব্যাপারে বলেন, ‘সাভার ও আশুলিয়া যুবলীগে বিতর্কিত নেতা রয়েছে। তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারাই নিয়ে থাকেন। এ বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই।’

তবে ঢাকা জেলা যুবলীগের সভাপতি জি এস মিজান বিতর্কিত আশুলিয়া থানা যুবলীগের এই নেতার বিরুদ্ধে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ‘সমাজে দুস্কৃতিকারী ও সমাজকে অস্থিরতার ঠেলে দেয় এক কথায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় যারা বিপথগামী কিংবা যারা বিপথে চলে গেছেন তারা যুবলীগের কোন কমিটিতেই থাকবেন না। এ লক্ষ্যে প্রত্যেকটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের তথ্য যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

পরবর্তীতে সেগুলো আমারা যাচাই করে দেখবো- সেখানে কোন অনুপ্রবেশকারী কিংবা দুস্কৃতিকারী আছে কি না। যদি থাকে তাহলে কিভাবে তাদের অপসারণ করা যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এছাড়া প্রত্যেকটি জেলা ও থানা পর্যায়ে ওয়ার্ড ভিত্তিক যে কোন কমিটি গঠনেও আমাদের অবহিত করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।’


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

error: Content is protected !!