TadantaChitra.Com | logo

২২শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা এপ্রিল, ২০২০ ইং

 

 

প্রশাসন ও শীর্ষ নেতাদের নামে চাঁদাবাজি করেন অনুপ্রবেশকারী যুবলীগ নেতা কবির

প্রকাশিত : জানুয়ারি ০৯, ২০২০, ১৪:০৫

প্রশাসন ও শীর্ষ নেতাদের নামে চাঁদাবাজি করেন অনুপ্রবেশকারী যুবলীগ নেতা কবির

নিজস্ব প্রতিবেদক: আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় ২০১৩ সালে বাসে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত একাধিক নাশকতা মামলার আসামি এখন যুবলীগ নেতা।

খুন, রাহাজানি, জমি দখল, ঝুট ব্যবসা দখল ও চাঁদাবাজিসহ প্রায় ডজন খানেক মামলা রয়েছে বিএনপি ঘরানার কবির হোসেন সরকার নামের অনুপ্রবেশকারী এই নেতার বিরুদ্ধে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি করে বিপুল অর্থবিত্তশালী হয়ে ধরাকে সরাজ্ঞান করেন তিনি। পরিবারের সবাই বিএনপির রাজনীতি করলেও গত কয়েক বছর ধরে আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়কের পদ আঁকড়ে আছেন এই অনুপ্রবেশকারী। শুধু তাই নয়, এলাকার জনগনের কাছে ধিকৃত, বিতর্কিত হলেও অবৈধ অর্থের প্রভাব, প্রশাসন ও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও অর্থ লেনদেনের মিথ্য প্রচারণা করে আশুলিয়া যুবলীগের সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হতে মরিয়া কবীর হোসেন সরকার।

এলাকাবাসী জানান, বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা নিয়ে পালিয়ে বেড়ালেও এলাকার বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে তার প্রচারণামূলক ব্যানার, ফেস্টুন। কবীর যুবলীগে অনুপ্রবেশকারী হলেও বিভিন্ন শীর্ষ নেতা ও স্থানীয় প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে নানান অপকর্ম করে থাকেন। তার অবৈধ প্রভাবে প্রকৃত ত্যাগী নেতারা মূল্যায়ন পাচ্ছেনা। কবির প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে এমন প্রচারণা করলেও সরেজমিনে তা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে।

তার ঘনিষ্ঠজনদের কাছে জানা যায়, কবির কমিটিতে স্থান পেতে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে জোড় লবিংয়ের চেষ্টা করছেন, আর এজন্য কয়েক কোটি টাকা বাজেট রয়েছে তার। কিন্তু তার বিরুদ্ধে নেতাদের কাছে নানান অভিযোগের কারণে নেতারা তাকে দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। নেতারা তাকে জানিয়ে দিয়েছেন, তোমার বিরুদ্ধে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করাসহ এলাকায় নানান নেতিবাচক কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। আগে নিজেকে শুদ্ধ করো, তারপর বিবেচনা করে দেখা যাবে তোমাকে কমিটিতে রাখা যাবে কিনা। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীও তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন।

এতদিন কবীর স্থানীয় প্রশাসন অর্থাৎ থানার ওসি, এসপি, ডিআইজি সহ দলের শীষ নের্তাদের সখ্যতা ও তাদেরকে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা দিয়ে থাকেন বলে যে প্রচারণা করে আসছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা। সরেজমিন তদন্তে এর কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।

এছাড়া নিজেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন বলে প্রচার করলেও ; ২০১৮ সালে ডা. এনামুর রহমানের নির্বাচনী প্রচারণায় এক আওয়ামী লীগ নেতার ওপর হামলার ঘটনায় এই কবীর সরকারের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা (নং-৫০) দায়ের করা হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে আশুলিয়া থানায় দখল মামলা ও গাজীপুরে ২০১৭ সালে মামলা (নং-৫৪) আরো একটি মামলা রয়েছে।

উল্লেখ্য সম্প্রতি নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এনেছেন পরিবর্তন। একই সাথে তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনে অনুপ্রবেশকারীরা যাতে ঠাঁই না পায় এজন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন দলের সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর প্রধানমন্ত্রীর এমন কঠোর পদক্ষেপকে স্বাধুবাদ জানিয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও নেতা নির্বাচনে সভানেত্রীর নির্দেশনা সঠিক ভাবে পালন করা হবে বলে আশাবাদী তৃণমূলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণের।

এদিকে দলীয় প্রধানের নির্দেশনাকে বাস্তবায়ন করতে থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন ভিত্তিক নেতা নির্বাচনেও ব্যাপক যাচাই-বাছাই করা হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোন অবস্থাতেই কোন বিতর্কিত, অনুপ্রবেশকারীকে দলের কোন কমিটিতে স্থান দেয়া হবে না।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানাগেছে, আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবীর হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে আশুলিয়া ও সীমান্তবর্তী জেলা গাজীপুরের বিভিন্ন থানায় রয়েছে নাশকতাসহ প্রায় ডজনখানেক মামলা। ২০১৩ সালে আশুলিয়ার নরসিংহপুরে বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি নাশকতা মামলাটি (নং-৬২) দায়ের হয়। একই বছর তার বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা (নং-৫২) দায়ের করা হয় এই থানায়। এছাড়া ২০০৯ সালে মামলা (নং-৫১), ২০১০ সালে মামলা (নং-১১) ও ২০১৪ সালে মামলা (নং-৩৫) সহ বেশ কয়েকটি মামলা আশুলিয়া থানায় নথিভুক্ত রয়েছে।

এবিষয়ে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলা বলেন, ‘সাভার ও আশুলিয়া যুবলীগে অনেক বিতর্কিত নেতা রয়েছে। তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারাই নিয়ে থাকেন। এ বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই।’ তবে ঢাকা জেলা যুবলীগের সভাপতি জি.এস মিজান বিতর্কিত আশুলিয়া থানা যুবলীগের এই নেতার বিরুদ্ধে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ‘সমাজে দুস্কৃতিকারী ও সমাজকে অস্থিরতার ঠেলে দেয় এক কথায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় যারা বিপথগামী কিংবা যারা বিপথে চলে গেছেন তারা যুবলীগের কোন কমিটিতেই থাকবেন না। এ লক্ষ্যে প্রত্যেকটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের তথ্য যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পরবর্তীতে সেগুলো আমরা যাচাই করে দেখবো- সেখানে কোন অনুপ্রবেশকারী কিংবা দুস্কৃতিকারী আছে কি না। যদি থাকে তাহলে কিভাবে তাদের অপসারণ করা যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এছাড়া প্রত্যেকটি জেলা ও থানা পর্যায়ে ওয়ার্ড ভিত্তিক যে কোন কমিটি গঠনেও আমাদের অবহিত করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।’

আশুলিয়া যুবলীগের আহ্বায়ক পদ পাওয়ার পর বিতর্কিত এই নেতার বিভিন্ন অপকর্মের স্বীকার ভুক্তভোগীরা গাজীপুরের কাশিমপুর ও আশুলিয়া থানায় পৃথক আরো চারটি মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে ২০১৯ সালে হত্যাচেষ্টা ও চুরির অভিযোগে আবিদ সরকার লিমন যুবলীগের এই নেতাকে প্রধান আসামি করে কাশিমপুর থানায় মামলা (নং-১৫) দায়ের করেন।

আশুলিয়া থানা যুবলীগের ত্যাগী দুই কর্মী মাসুম মুন্সী ও আমিনুল ইসলাম খান বাবু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকারের পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তার বড় ভাই শওকত হোসেন সরকার বর্তমানে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তাহলে কবির হোসেন সরকারের মত এমন একজন অনুপ্রবেশকারী কিভাবে আশুলিয়া থানা যুবলীগের কমিটিতে আহ্বায়কের পদে আসীন রয়েছেন তা বোধগম্য নয়। এমনকি আগামিতেও তিনি পূর্ণাঙ্গ কমিটির সভাপতি পদ পেতে যাচ্ছেন বলেও তৃণমূলে গুঞ্জন রয়েছে। তাই আশুলিয়া থানা যুবলীগের কমিটিতে ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন আওয়ামী পরিবারের নেতাকর্মীদের নিয়ে আসার দাবী জানান তারা।

অন্যদিকে এতসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কবীর হোসেন সরকার বলেন, তিনি পূর্নাঙ্গ কমিটিতে সভাপতি পদের জন্য শতভাগ আশাবাদী। তার বিরুদ্ধে বিএনপির নাশকতাসহ অন্যান্য মামলাগুলো উদ্দেশ্যপ্রনোদিত। তিনি দাবী করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার। তার দাবী রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো করা হয়েছে।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

error: Content is protected !!