TadantaChitra.Com | logo

১৯শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১লা এপ্রিল, ২০২০ ইং

 

 

চরফ্যাশন জুড়ে এমপি জ্যাকবের রাজত্ব! পর্ব..২

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০, ১০:১৩

চরফ্যাশন জুড়ে এমপি জ্যাকবের রাজত্ব! পর্ব..২

তদন্ত চিত্র ডেস্কঃ ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলায় একক রাজত্ব কায়েম করে ৩০০০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। ২০০৭ সালে জ্যাকব ইস্টার্ন ব্যাংক দিলকুশা শাখা থেকে পাঁচ লাখ টাকা পারসোনাল লোন চেয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাক্তিগত ক্যাটাগরি না থাকায় ইস্টার্ন ব্যাংক তাকে লোনটি দেয়নি, এরপর দৌড় ঝাপ করে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তাকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি, লোবিং করে তখন উপমন্ত্রীও হয়ে যান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশন ও মনপুরার সকল কাজ তার নিজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে প্রায় ৫০০০ কোটি টাকার কাজ করান, এবং তার রাজতন্ত্র কায়েম করার জন্য বিএনপি, জামায়াতের পদধারী নেতাদের চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখেন। নেতা কর্মীদের কাছ থেকে ঠিকাদারি কাজ দেওয়ায় নামে অফিস খরচ হিসাবে ১৫% থেকে ২০% টাকা নেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, জোর জুলুম করে গরীব মেহনতী মানুষের জায়গা দখল করে নামমাত্র মূল্য দিয়ে প্রায় ৪৫ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বড় খামারবাড়ি ‘জেনিক ফিসারিজ’, বিভিন্ন বেনামে তার রয়েছে অন্তত ২৫টি ইটের ভাটা। ঢাকার মিরপুরে গড়ে তুলেছেন আলিশান পাঁচ তারকা মানের বাড়ি। মধুমতি ব্যাংকের ৪০% শেয়ারের মালিকও তিনি। মালয়েশিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া রয়েছে তার বাড়ি।

উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতা জানান, উপমন্ত্রী থাকা অবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তনের তহবিল থেকে বিভিন্ন উপজেলায় ফান্ড দেওয়ার নামে ২০% করে কোটি কোটি টাকা নিয়েছেন। চরফ্যাশন জেলা পরিষদের মার্কেট দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। চরফ্যাশন পৌরসভা মার্কেট দেওয়ার নামে অগ্রিম কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার স্ত্রী ও শ্যালকের নামে গড়েছেন বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিজ। গাজীপুরে রয়েছে তার বিশাল ইন্ডাস্ট্রী। তার যাতায়াতে বছরে ব্যয় হয় প্রায় দুই কোটি টাকা ! কারণ তিনি বছরের বেশিরভাগ সময়ই হেলিকপ্টারে ঢাকা-চরফ্যাশন সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। সরকারি অর্থে নিজ নামে তৈরী করেছেন জ্যাকব টাওয়ার।

সূত্র মতে, একাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে ভোলা-০৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন ঢাকা ইউনিভার্সিটির প্রফেসর আ.ক.ম. জামাল। জ্যাকবের অধিপত্যে বিস্তার করে তার ছোট ভাই সৌরভ এখন প্রায় ১০০০ কোটি টাকার মালিক, জ্যাকবের অন্যতম সহযোগী ইমন মাদক ব্যাবসা নিয়ন্ত্রণ করে প্রায় বিশ কোটি টাকার মালিক, বর্তমানে সেও হেলিকপ্টারে আসা যাওয়া করে। জ্যাকবের অন্যতম ক্যাডার কুতুব জাহানঙ্গীর চরফ্যাশনে গড়ে তুলেছেন রাজপ্রাসাদ।

এছাড়াও গত ১০ বছরে চরফ্যাশন ও মনপুরায় যত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তিনি গড়ে তুলেছন, এসবের অধিকাংশই তিনি করেছন নিজের বাবা, মা, স্ত্রী এবং নিজ নামে। চরফ্যানে এখন আওয়ামী লীগের চেয়ে জ্যাকব লীগই বেশি শক্তিশালী। তার একক দাপটে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা কর্মীরা এখন কোনঠাসা। তাদের বুকে রয়েছে চাপা কান্না। চরফ্যাশন ও মনপুরাবাসী এই জুলুম রাজত্ব থেকে মুক্তি চায়। চরফ্যাশন ও মনপুরার সাধারণ মানুষ আজ জিম্মি। তার ব্যাক্তিগত সহকারী শরীফও প্রায় ১০০ কোটি টাকার মালিক। তার ব্যক্তিগত সহকারীকে আইনের আওতায় আনা হলে জ্যাকবের অনেক সম্পদের রহস্য জানা যাবে।

তাছাড়া ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় হলফনামায় দেয়া জ্যাকবের তথ্য এবং পরবর্তী ২০১৮ সালের নির্বাচনের হলফনামার তথ্য পর্যালোচনা করেও তার সম্পদ বহুগুনে বৃদ্ধির বাস্তব চিত্র পাওয়া যায়। যদিও সেসব হলফনামায় শতশত কোটি টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন তিনি।

শতশত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়ে সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের বক্তব্য নেয়ার জন্য তার বাসায় গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

error: Content is protected !!