TadantaChitra.Com | logo

২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১০ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

অধিনায়ক মাশরাফিকে তামিম-লিটনের উপহার

প্রকাশিত : মার্চ ০৬, ২০২০, ১৬:১৭

অধিনায়ক মাশরাফিকে তামিম-লিটনের উপহার

ঢাকা: কি ভেবে সিলেটেই অধিনায়কত্বের শেষ সিরিজ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন মাশরাফি ? তা নড়াইল এক্সপ্রেসই ভাল জানেন। তবে তার ক্যাপ্টেনসির ফেয়ারওয়েল সিরিজে ভাগ্যদেবী যেনো সিলেট যেনো রেকর্ডের পসরা সাজিয়ে রেখেছিলেন।

প্রথম ম্যাচে অধিনায়ক মাশরাফির উইকেটের সেঞ্চুরি। এমন কৃতিত্বে ওয়াসিম আকরাম,ইমরান খান,শন পোলক,জেসন হোল্ডারদের পাশে লিখিয়েছেন নাম। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ স্কোর (৩২১/৬)।সর্বোচ্চ ১৬৯ রানের ব্যবধানে জয়।

পরের ম্যাচে দেশ সেরা ইনিংস তামিমের (১৫৮), প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ওয়ানডেতে ৭ হাজার ক্লাবের সদস্যপদ প্রাপ্তি। আগের সর্বোচ্চ ছাড়িয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ স্কোর (৩২২/৮)।ওই ম্যাচে মুশফিক উদযাপন করেছেন দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ ওয়ানডে জয়ে প্রতিনিধিত্ব করা।

সিরিজের শেষ ম্যাচে সেখানে রেকর্ডে রেকর্ডে সয়লাব ! তামিম-লিটনের ওপেনিং পার্টনারশিপে বাংলাদেশের সকল জুটির সেরা ২৯২, ওপেনিং পার্টনারশিপে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ, ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসে ইতিহাস লিটনের (১৭৬)। ওভারপ্রতি ৭.৪৮ হারে ৪৩ ওভারে স্কোর ৩২২/৩।

বাংলাদেশের ওপেনিং পার্টনারশিপে এতোদিন রেকর্ড ছিল ১৭০ রান। ১৯৯৯ সালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে মেহরাব হোসেন অপি-শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যে রেকর্ডটি করেছিলেন,২১ বছর পর ভেঙ্গেছেন তামিম-লিটন সেই রেকর্ড।৩৩তম ওভারে শন উইলিয়ামসকে তামিমের ছক্কায় ভেঙ্গেছে সে রেকর্ড। ওপেনিং পাটনারশিপে রেকর্ডটিকে বাংলাদেশের সকল পার্টনারশিপের চূড়ায় টেনে নেয়ার পন তাদের। ৪টা ৭ মিনিটে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যখন বৃষ্টিতে থেমেছে ম্যাচ, তখন ওপেনিং পার্টনারশিপটা ১৮২ রানের। সামনে তখন ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ম জুটিতে সাকিব-মাহামুদুল্লাহ’র ২২৪,জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে ২য় উইকেট জুটিতে লিটন-সৌম্য’র ২২০,গায়ানায় ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২য় উইকেট জুটিতে ২০৭, টন্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০১৯ বিশ্বকাপে ৪র্থ উইকেট জুটিতে সাকিব-লিটন দাসের অবিচ্ছিন্ন ১৮৯ জুটি। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর এই জুটি আরো বেপোরোয়া।

কিছুক্ষন আগে যে মাঠ ভিজেছে বৃষ্টিতে, বৃষ্টি থেমে সেই মাঠেই কি না চার-ছক্কা বৃষ্টি ! বৃষ্টির পর ৫৮ বলে ১৫০ ! বাংলাদেশের সব রেকর্ড পেছনে ফেলে ওপেনিং পার্টনারশিপে লিটন-তামিমের ২৪৫ বলে ২৯২ !

তাতেই হয়েছে ওপেনিং পার্টনারশিপে তৃতীয় বিশ্বরেকর্ড। গত বছর আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে জন ক্যাম্পবেল-সাই হোপের ৩৬৫,২০১৮ সালে বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাকিস্তানের ফখর জামান- ইনাম উল হক এর ৩০৪’র পর থেমেছে ২৯২ রানে লিটন-তামিমের পার্টনারশিপ।

৫ দিন আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচে হ্যামেস্ট্রিংয়ে টান পড়ে হতাশ হতে হয়েছে লিটনকে। ১২০ রান নিয়ে ফিরেছেন ড্রেসিংরুমে ৮২ বল হাতে থাকতে। ২’শর স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে লিটন দাসের। সেই সিলেটে পরের ম্যাচে তামিম ১৫৮ রানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর করেছেন। প্রথম ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে লিটনকে প্রশ্নটা ছিল, ডাবল সেঞ্চুরি কি মিস করেননি ? উত্তরে হাসতে হাসতে বলেছিলেন-‘ভাই হাফ সেঞ্চুরি,সেঞ্চুরিই তো করতে পারি না, ডাবল করব কিভাবে ? সেই লিটন ৭২ ঘন্টা আগে তামিমের সর্বোচ্চ ইনিংসকে টপকে করেছেন সর্বোচ্চ স্কোরে ইতিহাস ! শুক্রবার এক দিবসীয় ক্রিকেটে ডাবলের স্বপ্ন দেখিয়ে ১৩ বল আগে থেমেছেন ১৭২ রানে ! ১৬ চার,৮ ছক্কায় ১২৩.০৭ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিংয়ে ওয়ানডেকে দিয়েছেন টি-২০ ব্যাটিংয়ের উত্তাপ !ওয়ানডে ক্রিকেটে ত্রয়োদশ সেঞ্চুরির ইনিংসে তামিম ব্যাট ক্যারি থ্রু দ্য ইনিংসে নিজের সামর্থের জানান দিয়েছেন ( ১০৯ বলে ৭ চার,৬ছক্কায় ১২৮)।

অশিনায়ক মাশরাফির বিদায়ে প্রকৃতির কান্না (বৃষ্টি)। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বেরসিক বৃষ্টি শুরু হয়েছে বিকেল ৪টা ৭মিনিটে। তখন বাংলাদেশের স্কোর ৩৩.২ ওভারে ১৮২/০। ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ হয়ে গেছে। লিটন সেঞ্চুরি এবং হাজারী ক্লাবের সদস্যপদ পেয়েছেন (১০২)। তামিম ৭৯ রনে ব্যাটিংয়ে।অধিনায়ক মাশরাফির ফেয়ারওয়েল ম্যাচে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃষ্টির হানা।

বৃষ্টি থেমেছে ৫টা ৫৮ মিনিটে। এক ঘন্টা ৫১ মিনিটের এই বৃষ্টির সময়ে পিচ কভার ও ৩০ গজী বৃত্ত কাভার দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। ফলে শংকায় পড়তে হয়নি। শেষে সন্ধা ৬টা ১৫ মিনিটে ম্যাচ অফিসিয়ালরা মাঠ পরিদর্শন করেছেন। ৬টা ৪৫ মিনিট থেকে ম্যাচ পুনরায় শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ওভার কার্টেল হয়েছে। ম্যাচ হবে ৪৩ ওভারের।

শন উইলিয়ামসকে বাউন্ডারি শটে ১১৪ বলে ১৩ বাউন্ডারিতে তৃতীয় সেঞ্চুরি উদযাপনের ইনিংসে ওয়ানডে ক্রিকেটে পূর্ন করেছেন হাজার রানও। ৩৬ তম ম্যাচে ৩৫তম ইনিংসে এসে এই মাইলস্টোন ছুঁয়েছেন লিটন। তবে বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এক হাজারী রানের ক্লাবে ৬ষ্ঠ দ্রুততম তিনি। শাহরিয়ার নাফিস এবং এনামুল হক বিজয় ২৯তম ইনিংসে,সৌম্য ৩৩ তম ইনিংসে,ইমরুল কায়েস ও নাসির হোসেন ৩৪ ইনিংসে পূর্ন করেছেন এক হাজার রান।

এক সিরিজে একাধিক সেঞ্চুরিতে লিটনের এটি প্রথম দৃষ্টান্ত। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১২৬এর পর তৃতীয় ম্যাচে ১৭৬। ১৩৬ বলে ১৫০, ১৪৩ বলে ১৭৬ ! এক ইনিংসে বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮টি ছক্কার রেকর্ডও তার। যেনো স্বপ্নকেও হার মানিয়েছে তার ব্যাটিং। ভাগ্যটাও ছিল তার সাথে।১০২,১২২,১৪৪,১৫২-এই চারবার পেয়েছেন লাইফ। প্রথমটি ডিপ থার্ডম্যানে টেলরের হাত থেকে গেছে ফসকে। অন্য তিনটি হাত থেকে ফেলে দিয়েছেন সিকান্দার রাজা,মাদভেরে,মুম্বা। তামিম সেখানে পেয়েছেন ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি ( ১৫৮’র পর ১২৮)।

টসে শেষবারের মতো টস করতে নেমেছেন যখন মাশরাফি, তখন কেঁদেছে মাশরাফি ভক্তরা। বিদায়ী ক্যাপ্টেনসি ম্যাচে মাশরাফি হেরেছেন টস।তাতেও মাশরাফির মুখে হাসি। মাঠের এমন এক নেতার বিদায়টা ছুঁয়েছে প্রকৃতিকেও। ভক্তদের অঝোরের কান্না দেখে প্রকৃতিও কেঁদেছে অঝোরে বৃষ্টিতে।লিটন-তামিমের ইতিহাসময় ম্যাচটি জিততে পারলেই অধিনায়ক ক্যারিয়ারে জয়ের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ন হবে। প্রকৃতি কান্না থামিয়ে মাশরাফিকে সেই ল্যান্ডমার্ক ছুঁতে দিলেই তৃপ্তির ঢেকুর নিয়ে থামতে পারবেন মাশরাফি।জিম্বাবুয়েকে ৪৩ ওভারে ৩৪২’র টার্গেট দিয়ে সেই আবহটা পাচ্ছেন মাশরাফি।

সংবাদটি শেয়ার করুন...


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্তচিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।