TadantaChitra.Com | logo

১৭ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ৩১শে মার্চ, ২০২০ ইং

 

 

করোনা আতঙ্কঃ আসতে পারে জরুরি অবস্থা

প্রকাশিত : মার্চ ২১, ২০২০, ১৬:১৬

করোনা আতঙ্কঃ আসতে পারে জরুরি অবস্থা

জিয়াউর রহমানঃ দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও দুই জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই পুরো দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক। অনেকেই ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন হাঁসপাতালে। পাড়া মহল্লা এমনকি প্রতিটি চায়ের দোকানেও চলছে করোনা নিয়ে নানা আলোচনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোও করোনা নিয়ে আলোচনায় পিছিয়ে নেই। ২/৩ মিনিট পর পর স্ট্যাটাস চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক না কাটতেই সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ালেন তিনটি থানকুনি পাতা ও রসুন খেলে এ রোগ হবে না। এমন গুজব শুনে রাতারাতি বাড়ীর আশেপাশের থানকুনি পাতা যেমন শেষ, তেমনি রসুনের দামও হয়েছে আকাশচুম্বী। এমনকি তিনটি থানকুনি পাতার দামও ছিল উচ্চ। দিন যতই যাচ্ছে ততই এ ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করছে। খেটে খাওয়া অনেকেই পেটের তাগিদে সব নির্দেশনা উপেক্ষা করে মাঠে ময়দানে কাজ করছেন। অনেক চাকুরিজীবিরাও অফিস করতে হচ্ছে নিয়মিত। দেশের শিল্প কারখানা চলছে। তাহলে কি এ ভাইরাস শিল্প কারখানার শ্রমিকদের হবে না? অন্য দেশের বন্দীদেরকে সরকার থেকে মৃুক্তি দিলেও বাংলাদেশে মুক্তি দেওয়ার সম্ভাবনা তো নেই-ই উল্টো প্রতিদিন কয়েক’শ লোককে বন্দী করা হচ্ছে বিভিন্ন অপরাধে। এমন পরিস্থিতিতে এ ভাইরাসটি আরো ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে জারি করা হতে পারে জরুরি অবস্থা।

করোনার বিষয়ে আমাদের দেশে তেমন কোনো ক্যাম্পেইন ব্যবস্থা জোরদার না থাকায় পাড়া-মহল্লায় অনেক জায়গায়ই ছড়াচ্ছে বিভিন্ন ধরনের গুজব ও আতঙ্ক। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অনেকেই আবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নিজ নিজ গ্রামে ফিরে যাবার। প্রতিটি মুহূর্তেই অনেকেই নিজ নিজ পরিবারের স্বাস্থ্যের খবরাখবর রাখছেন মুঠোফোনে। তবে সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে আমাদের দেশে করোনার বিষয়ে আতঙ্কের তেমন কিছুই নেই। প্রথমে যে তিন জনের শরীরে এই ভাইরাস পাওয়া গেছে তাদের রাখা হয়েছে নিবিড় পর্যবেক্ষণে। করোনার ঔষধ আবিষ্কার না হলেও এর হাত থেকে বাঁচার প্রধান উপায় নিজে সচেতন থাকা।

প্রয়োজনে শাটডাউন করা হবেঃ সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে প্রয়োজনে আন্ত:জেলা যাত্রীবাহী যান চলাচল বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে যদি শাটডাউন করতে হয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রস্তুতি আছে কিনা এমন বিষয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে শাটডাউন করা হবে। সবার আগে মানুষকে বাঁচাতে হবে। সেজন্য যা যা করণীয় তা করা হবে, আমরা করবো। প্রয়োজনে দেশের কিছু কিছু জায়গা শাট ডাউন করা হবে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা প্রথমে তিন ব্যক্তি করোনা আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঘোষণা দেন। এরপর ২১ শে মার্চে এসে বেড়ে তা দাড়িয়েছে ২৪ জনে। সুস্থ্য হয়েছে ৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। এ তালিকার বাহিরেও সন্দেহে রয়েছে অনেকের। সঠিক তালিকা দেওয়া হচ্ছে না বলেও অনেক মনে করছেন।

১৯ মার্চ সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ নতুন আক্রান্ত ৩ জনের কথা জানান। তিনি বলেন, ইতালিফেরত করোনা আক্রান্তের সং¯পর্শে থাকায় একই পরিবারের এই তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, আইসোলেশনে রয়েছেন ১৯ জন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে ৪৩ জন। সুস্থ হয়েছেন তিনজন। দেশে করোনা মোকাবিলায় প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে বেশ কটি মন্ত্রণালয় নিয়ে ব্রিফ করেছি। সতর্কতা মেনে চলছে না। কঠোরতা নেয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মেসেজ (বার্তা) দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে। কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা নেবে আইনশৃংখলা বাহিনী। সতর্কতার পত্র পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসক-নার্সদের উদ্দেশে বলেন, চিকিৎসক ভাইবোনদের অনুরোধ করব-এটা জাতীয় দুর্যোগ। ৯ লাখ নিরাপত্তা পোশাক সরবরাহ করছি। জাতির স্বার্থে মানবতার স্বার্থে সেবা কাজ থেকে বিরত থাকবেন না। সেবা দেবেন। চিকিৎসক-নার্সদের সুরক্ষার ব্যবস্থা নিয়েছে অধিদফতর।

বাংলাদেশে প্রথম একজন করোনায় আক্রান্ত রোগী মারা গেছেন। গত বুধবার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর)। এদিকে যারা নির্দেশনা না মেনে চলাচল করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানান তারা। আবার অনেকেই মনে করেন সরকার থেকে সঠিক তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায় এ ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে অনেকেই। আজ আরো একজনের মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত করেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর)

বাংলাদেশে প্রথমে তিন ব্যক্তি করোনা আক্রান্তের বিষয়টি নিয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা সাংবাদিকদেও সাথে ব্রিফ করে বলেন, এ তিনজনের মধ্যে দুজন ইতালি থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। তাঁদের কাছে থেকে একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ২ জন পুরুষ ও ১ জন নারী রয়েছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হলেও এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কোনো আশংকা নেই। সকলকে সবসময়ই সচেতন থাকতে হবে। আইইডিসিআর পরিচালক সেব্রিনা বলেন, আশঙ্কা করছি না করোনাভাইরাস আরও ছড়িয়ে পড়বে। প্রত্যেকের মাস্ক পরে ঘুরে বেড়ানোর কোনো দরকার নেই।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে উৎপত্তি হয় করোনাভাইরাসের। পরে চীনের অন্যান্য প্রদেশ এবং বিশ্বের নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে ভারত ও পাকিস্তানেও করোনায় আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়। কিন্তু বাংলাদেশে রোগী শনাক্ত হওয়ার ঘটনা এই প্রথম।

এদিকে করোনা ভাইরাসের বিষয়ে ইউনিসেফ বলেছে, করোনা মোটামুটি বড়সড় একটি ভাইরাস। তবুও খালি চোখে দেখা যাবে না, ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপ লাগবে এটাকে দেখতে। এর আকারের কারণে বাজারে পাওয়া যায় এমন মাস্ক এটাকে প্রতিরোধ করতে স্বক্ষম হবে। যেহেতু এই ভাইরাসটি বাতাসে নয়, মাটিতে অবস্থান করে, তাই এটা বাতাসে ছড়ায় না। কোনো ধাতব তলে বা বস্তুতে করোনা পড়লে প্রায় ১২ ঘণ্টা জীবিত থাকতে পারে। তাই সাবান দিয়ে হাত ধুলেই যথেষ্ট হবে। কাপড়ে এই ভাইরাসটি প্রায় ৯ ঘণ্টা জীবিত থাকতে পারে। তাই, কাপড় ধুয়ে নিলে বা রোদে ২ ঘণ্টা থাকলে এটি মারা যাবে। হাতে বা ত্বকে এই ভাইরাসটি ১০ মিনিটের মতো জীবিত থাকতে পারে। তাই, অ্যালকোহল মিশ্রিত জীবাণুনাশক হাতে মেখে নিলেই জীবাণুটি মারা যাবে। করোনা গরম আবহাওয়ায় বাঁচে না। ৭০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা এটিকে মারতে পারে। কাজেই, ভালো না লাগলেও এখন বেশি বেশি গরম পানি পান করবেন, আইসক্রিম থেকে দূরত্ব বজায় রাখবেন। লবণ মিশ্রিত গরম পানি দিয়ে গারগল করলে গলার মিউকাস পরিষ্কার হবার সাথে সাথে টনসিলের জীবাণুসহ করোনাও দূর হবে, ফুসফুসে সংক্রমিত হবে না। আর, নাকে-মুখে আঙ্গুল বা হাত দেবার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। কারণ, মানব শরীরে জীবাণু প্রবেশের সদর দরজা হলো নাক-মুখ- চোখ!

মেডিকেলগুলোতে উপচেপড়া ভিড়: দেশে করোনার প্রভাব পড়তে না পড়তেই মেডিকেলগুলোতে দেখা মিলছে উপচেপড়া ভিড়। বেশির ভাগ রোগীই নিজে কতটুকু করোনামুক্ত রয়েছেন তা জানতে মেডিকেলে আসছেন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে। এদিকে দেশের বিভিন্ন প্রাইভেট মেডিকেল ও ডায়াগনস্টিক গুলোতে মানুষের ভিড় বাড়ায় অসাধুরা বাড়িয়ে দিয়েছেন নানাবিধ রোগ নির্ণয়ের ফি। আর এতে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন সর্বসাধারণ। সরেজমিনে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, যারা এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছেন তাদের অনেকেই সামান্য ও মাথা ব্যথা। তবে করোনার ভয়েই অনেকেই হাসপাতালে ছুটছেন রোগ শনাক্ত করতে। এদের অনেকেই রয়েছেন নারী। এ বিষয়ে হাসপাতালে আসা পপির (২৩) নামের এক রোগীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, প্রায়ই তার মাথাব্যথা ও রাতে রাতে জ্বর হয়। এর মধ্যে দেশে করোনা ধরা পড়েছে, তাই তিনি তাড়াহুরা করে ভোরেই হাসপাতালে এসেছেন ডাক্তার দেখাতে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমন চিত্র প্রায়ই এখন সকল জেলাতেই। এদিকে দেশের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোয় বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা বা রোগ নির্ণয়ের ফি হটাৎ করেই বাড়িয়ে দিয়েছে। সধারণত জর, ঠাণ্ডা লাগা ও শরীর ব্যথা থাকলে ৪টি টেস্ট করতে দেয়া হয়ে থাকে। তবে এই টেস্টের (পরীক্ষা) ফি এখন সকল ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতেই বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো ঘুরে দেখা যায়, blod for CBC টেস্ট পূর্বে ছিল ২৫০-৩০০ টাকা এখন নেয়া হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা,WIDAL টেস্ট পূর্বে ছিল ২৫০-৩০০ টাকা এখন নেয়া হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ASO TITREটেস্ট পূর্বে ছিল ৩০০ টাকা এখন নেয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা, জরের সাথে বুকে কফ থাকলে দেয়া হয়X_RAY CHEST PA/ AP/ LATERAL টেস্ট যা পূর্বে ছিল ২০০-৩৫০ টাকা এখন নেয়া হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

করোনার প্রভাব সকল পণ্যে: দেশে করোনার অস্তিত্ব শনাক্ত হওয়ার পর পরই সকল নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি করে দিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর বাজারগুলোয় চিকন চাল হিসেবে পরিচিত নাজিরশাইল ও মিনিকেট চালের দাম বেড়ে এখন ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে যা পূর্বে ছিল ৪৫-৫০ টাকা। পাইজাম ও লতা নামের মাঝারি মানের চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে যা পূর্বে ছিল ৪০-৪৫ টাকা। উভয় প্রকার চালই গত সপ্তাহে কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে বলে দাবি করেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। চিকন চালের দাম তুলনায় বেশি বাড়লেও বাদ যাচ্ছে না মোটা চালও। এবিষয়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর চালের আড়তের খুচরা ব্যবসায়ী হারুন বলেন, দেশে সব ধরনের চালের দামই বেড়েছে। কিছু ব্যবসায়ী চিকন চালের দাম বাড়ায় মোটা চালও বিক্রি করছে চড়া দামে। তবে কোনো খুচরা ব্যবসায়ী চালের দাম বাড়ায়নি। একটি চক্র সিন্ডিকেট করে মিল ও পাইকারি পর্যায়ে চালের দাম বাড়িয়েছে। এছাড়াও গতকাল সবজির বাজারেও হটাৎ করেই সকল জিনিসের দাম বৃদ্ধি করে দেড় থেকে ২ কেজি ওজনের একটি লাউয়ের দাম ৭০-৮০ টাকায় যা গত শুক্রবারও ছিল ৪০-৫০ টাকায়, করলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায় যা পূর্বে ছিল ৭৫-৮০ টাকায়, শশার দর ৪০-৫০ টাকা কেজি, পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা, দেশি পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা দরে, শিমের কেজি ৪০-৬০ টাকা, ফুলকপি-বাঁধাকপি প্রতিপিস বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা, গাজর বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে, মুলা পাওয়া যাচ্ছে ২০-২৫ টাকা দরে। নতুন গোল আলু ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শালগম বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজিতে, বেগুন পাওয়া যাচ্ছে ৫০-৬০ টাকার মধ্যে। এদিকে রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৫০০ টাকা। তেলাপিয়া ১৩০-১৭০ টাকা, শিং ৩০০-৪৫০ টাকা, শোল মাছ ৪০০-৭৫০ টাকা, পাবদা ৪০০-৫০০ টাকা, টেংরা ৪৫০-৬০০ টাকা, নলা ১৮০-২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২৫-১৩০ টাকা কেজি দরে। পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৩০-২৪০ টাকা কেজিতে। লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা প্রতিকেজি। গরুর মাংস ৫৫০-৫৭০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭০০-৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাপ্তান বাজারের এক মাংস ব্যবসায়ী জানান, সামনে রোজা আসছে, তাই মুরগি ও গরুর দাম অনেক বেশি। তবে করনাভাইরাসের খবরে মানুষ মুরগি ও গরুর মাংসের দাম কম নিচ্ছে।

বেশির ভাগ ভাইরাসের উৎপত্তিই পশুপাখি-পোকা থেকেঃ বিশ্বে যত প্রকার মহামারী ভাইরাস বা রোগ উৎপত্তি হয়েছে তার বেশির ভাগই এসেছে পশু-পাখি থেকে। সাম্প্রতিক সময়ের মহামারী ভাইরাস বা রোগ বিশ্ববাসীকে নাড়া না দিলেও এবার পুরো বিশ্বকেই নাড়িয়ে দিয়েছে করোনাভাইরাস। করোনার আতংকে পুরো বিশ্ব এখন আতঙ্কিত। গত বছরের ডিসেম্বরে সর্ব প্রথম চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে উৎপত্তি হয় করোনাভাইরাসের। সাধারণত বাদুড়, বনবিড়াল, সাপের মতো বন্য প্রাণীগুলোও মানুষের শরীরে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে বলে বিশ্লেষণ করেছেন বিশ্লেষকরা। অর্থাৎ পশু প্রাণীর কাছাকাছি যাওয়া মানুষের মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে। করোনাভাইরাসের অপর একটি রূপ হলো সার্স ভাইরাস (সেভার একিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম), যা ২০০২ সালে চীনে ছড়িয়ে পড়ে অন্তত ৭৭৪ ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছিলেন। সার্সে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৯৮ জন। সে হিসাবে কোভিড-১৯ অনেক ভয়াবহভাবে ছড়াচ্ছে। সার্স ভাইরাস বাদুড় থেকে বনবিড়ালে সংক্রমিত হয়েছিল। পরে তা মানবদেহে ছড়িয়ে পড়েছিল।

প্রসঙ্গত ১৯৪৪ সালে প্রথম সিসিএইচএফ নামের এক মহামারী ভাইরাস এসেছিলো এঁটেল পোকা (টিকস পতঙ্গ) থেকে। যা ক্রাইমিয়াতে ও পরে কঙ্গোতে এটি চিহ্নিত হয়। এ রোগে আক্রান্ত হলে মাথাব্যথা, বেশি জ্বর, মেরুদণ্ডে ব্যথা, পাকস্থলীতে ব্যথা ও বমির মতো লক্ষণ দেখা দেয়। বাদুর ও বন্যপ্রাণী থেকে ১৯৭৬ সালে এসেছে ইবোলা ভাইরাস। এটি প্রথমে কঙ্গোতে এবং পরে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ভয়াবহ এই রোগে মৃত্যু হার ৫০ শতাংশের মতো। ২০১৪ ও ২০১৬ সালে মধ্য আফ্রিকায় বড় প্রাদুর্ভাবে মারা যায় প্রায় ১১ হাজার মানুষ। ১৯৬৭ সালে জার্মান শহর থেকে আবির্ভাব হয় মারবুর্গ ভাইরাস। এটিও আবির্ভাব হয় বাদুর থেকে। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে অন্য কেউ এতে সংক্রমিত হতে পারে। এতে আক্রান্ত হলে আট থেকে নয় দিনের মধ্যেই কারও মৃত্যু হতে পারে। ২০০২ সালে চীনে উৎপত্তি হয় সার্স অর্থাৎ সিভিয়ার একিউট রেসপিরেটরি ভাইরাসের। এটিও বাদুরের সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০০২ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে দু’বার এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। আট হাজারের বেশি আক্রান্তের মধ্যে ৭৭৪ জনের মৃত্যু হয় এই ভাইরাসে। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হলে ভয়াবহ শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। ১৯৬৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় উৎপত্তি হয় লাসা জ্বর। লাসা জ্বর সংক্রমিত চর্বি, ইঁদুরের প্রস্রাব দ্বারা দূষিত খাদ্য এবং ইঁদুরের স্পর্শ করা খাবার থেকে ছড়ায়। এই রোগে আক্রান্ত হলে জ্বরের সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তক্ষরণ হতে পারে এবং চোখে ও নাকে সংক্রমণ হতে পারে। লাসা জ্বরটি পশ্চিম আফ্রিকা বিশেষ করে নাইজেরিয়াতেই বেশি দেখা যায়।

সতর্ক করেছিল বিল গেটসঃ ২০১৮ সালের ২৭ এপ্রিল শুক্রবার ম্যাসাচুসেটস মেডিক্যাল সোসাইটি ও দি নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন আয়োজিত মহামারী বিষয়ক এক আলোচনায় চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বিল গেটস। তিনি জানিয়েছিলেন বিশ্বে এক প্রাণঘাতী নতুন রোগ আসছে। যা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়বে প্রতিটি দেশে। অপ্রতিরোধ্য এ রোগের কারণ বুঝে ওঠার আগেই ৬ মাসের মধ্যে প্রায় ৩ কোটি লোক মারা যেতে পারে বলেও ধারণা দিয়েছিলেন তিনি। বিল গেটস ইনস্টিটিউট ফর ডিজিজ মডেলিং-এর একটি রিপোর্টের অনুলিপি উপস্থাপন করা হয়েছিল। এতে উল্লেখ ছিল ১৯১৮ সালে প্রাদুর্ভাব ঘটে এক মহামারী ফ্লু, যাতে ৫ কোটি লোক মারা গিয়েছিল। সে রকম একটি নতুন ফ্লুতে মাত্র ৬ মাসের মধ্যে ৩ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলেও ধারণা দেয়া হয়েছিল। বিল গেটস জানিয়েছিলেন মহামারী বিষয়ে প্রস্তুতিতে এগোতে পারেনি বিশ্ব। এ ধরনের মহামারী রোগের প্রাদুর্ভাবের আশংকা অব্যাহত থাকবে। বিশ্বে জনসংখ্যা বাড়ছে এবং মানব সমাজ বন্য পরিবেশের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রেক্ষিতে সব সময় নতুন জীবাণুর উদ্ভব ঘটছে। একক ব্যক্তি বা একটি ক্ষুদ্র দলের জন্য রোগকে অস্ত্র হিসেবে সৃষ্টি করা সহজ হচ্ছে যা দাবানলের মতো বিশ^ব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে পারে।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

error: Content is protected !!