TadantaChitra.Com | logo

৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৫ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

অর্থ-নারী কেলেঙ্কারিতেও দুর্জয়!

প্রকাশিত : জুলাই ০২, ২০২০, ১৫:৪৭

অর্থ-নারী কেলেঙ্কারিতেও দুর্জয়!

অনলাইন ডেস্কঃ বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি গায়ে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন সাবেক ক্রিকেটার নাঈমুর রহমান দুর্জয়। পরবর্তী সময়ে সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক হওয়া দুর্জয় সেই ফর্ম অব্যাহত রেখেছেন অবৈধ অর্থ উপার্জন এবং নারী কেলেঙ্কারির মতো ঘটনায়ও। সম্প্রতি মানিকগঞ্জ-১ আসনের এই এমপির বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুর্জয় ও তার ঘনিষ্ঠজনদের নানান অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, বখরাবাজি নিয়ে প্রকাশিত খবরা-খবরই এখন আলোচনা-সমালোচনার শীর্ষে। দুর্জয়ের নাম আসে আলোচিত ‘পাপিয়াকাণ্ডেও’। বিষয়গুলো এখন বেশ আলোচিত হচ্ছে মানিকগঞ্জেও। আর এসব বিষয়ে সরকারকে পড়তে হচ্ছে বিব্রতকর অবস্থায়।

অবৈধ অর্থ-বাণিজ্য
অভিযোগ আছে সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকেই বাড়তি প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে দুই হাতে অর্থ উপার্জন করতে শুরু করেন নাঈমুর রহমান দুর্জয়। দুর্জয়ের ঘনিষ্ঠজনদের ‘ভাগ’ না দিলে মানিকগঞ্জ ও এর আশেপাশের অঞ্চলে কোন কাজ করতে পারেন না সরকারি প্রকল্পের ঠিকাদারেরা। অভিযোগ আছে, জেলার শিবালয়ের আলোকদিয়ার চরে সোলার বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের কাজ থেমে থাকার নেপথ্যের ‘কারিগর’ খোদ দুর্জয়। ই-টেন্ডারের মাধ্যমে কার্যাদেশ পেলেও স্থানীয় দুর্জয় মদদপুষ্টদের দিতে হয় কাজের ভাগ। আর নয়তো প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পণ্য চড়া দামে কিনতে হয় ‘দুর্জয় বাহিনীর’ কাছ থেকে। উল্লেখিত প্ল্যান্টের মাটি ভরাটের কাজে প্রচলিত বাজার দরের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মূল্য দাবি করা হয় ঠিকাদারের কাছে। লাভের বদলে লোকসানই হয়ে যাবে, তাই উচ্চ মূল্যে মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ করতে হয় ঠিকাদারকে।

আরও অভিযোগ আছে, বিআইডব্লিউটিএর বিশাল টার্মিনাল দখল করে দীর্ঘদিন ধরে বালুর ব্যবসা চলছে এমপি দুর্জয়ের নামেই। আরিচা-কাজিরহাট নৌ-রুটে অবৈধভাবে স্পিডবোটের ব্যবসাটিও তার দখলেই। করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনে ঘাটের দখল নেয় দুর্জয় বাহিনীর সদস্যরা। মাঝিদের ঘাট থেকে সরিয়ে দিয়ে অমানবিকভাবে নিজেরা অধিক ভাড়ায় যাত্রী পারাপার শুরু করে। দুর্জয়ের এই অপকর্মে পরিবারের সদস্যদেরও জড়িতে থাকার অভিযোগ রয়েছে। চাচা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তায়েবুর রহমান টিপুর অত্যাচারে শিবালয় এলাকায় কেউ জমি কিনতে পারছে না। কোনো শিল্পপতি জমি কিনতে গেলেই তিনি চাঁদা দাবি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

দুর্জয়ের ছোবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না নদীমাতৃক দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের নদীগুলোও। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন নদীতে ড্রেজিং করে মাটি খনন করা হয়। ব্যবহার করা হয় শতাধিক নিষিদ্ধ এসকিউবেটর ভেকু মেশিন। ফলে মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যায় হাজার হাজার পলি জমি, দেখা দেয় নদী ভাঙন।

দুর্নীতি, ঘুষ-চাকরি বাণিজ্য
অবৈধ অর্থ উপার্জনের জন্য রাষ্ট্রীয় পদ ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ারও অভিযোগ আছে নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বিরুদ্ধে। নিজ নির্বাচনী এলাকার বেশ কয়েকজন যুবক দুর্জয়ের ঘনিষ্ঠজনদের চাকরির জন্য অর্থ দিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এসবের সাথে এমপি দুর্জয়ের জড়িত থাকার অভিযোগ আছে। চাকরির বিষয়ে রাজধানীতে সাংসদের সরকারি বাসভবনেও বৈঠক হয়েছে বলে দুর্জয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তারই এলাকার এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা।

এমপি এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের পেছনে ঘুরে, ফুট ফরমায়েশ খেটে এবং জীবনের সকল পুঁজি কিংবা ঋণ করে অর্থ দিয়েও চাকরি পাননি, দুর্জয়ের বিরুদ্ধে এমনই দুর্নীতির অভিযোগ মানিকগঞ্জের অনেকের।

পাপিয়াকাণ্ড
বছরের শুরুতেই অন্যতম আলোচিত ঘটনা মক্ষীরাণী পাপিয়াকে নিয়ে। পাঁচ তারকা হোটেলগুলোতে পাপিয়ার দরবারে নিয়মিত যারা হাজিরা দিতেন তাদের মধ্যে নাঈমুর রহমান দুর্জয় আছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। পাপিয়ার সঙ্গে তার ছবিও পট্রকাশ পায়। অভিযোগ আছে, এমপি নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ‘লালে লাল’ হওয়া দুর্জয় পাপিয়াপাড়ায় যেতেন হরহামেশাই।

দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দুই দফা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আয়ের বিস্তারিত তুলে ধরে হলফনামা দেন নাঈমুর রহমান দুর্জয়। প্রথম দফা এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর পাঁচ বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচনের আগে যে হলফনামা তিনি দিয়েছেন, তাতে অর্থ-সম্পদ বৃদ্ধির প্রমাণ স্পষ্ট।

২০১৪ সালে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, সেসময় তার বাৎসরিক আয় ছিল পাঁচ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এর ঠিক পাঁচ বছর পরেই জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, দুর্জয় তার বাৎসরিক আয় দেখান ৪৩ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ টাকা। অর্থ্যাৎ এই সময়ে তার বাৎসরিক আয় বৃদ্ধি পায় প্রায় ৮ গুণ।

দুইটি গাড়ির মালিক থেকে হয়েছেন তিনটি গাড়ির মালিক। এরমধ্যে অন্তত একটি অর্ধকোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজার। প্রথম দফা এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর বনেছেন একটি পাওয়ার প্লান্টের পরিচালকও।

অভিযোগ আছে, শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে নিজের নামে তো বটেই নামে-বেনামে এবং স্ত্রীর নামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন নাঈমুর রহমান দুর্জয়। মালয়েশিয়াতে করেছেন সেকেন্ড হোম।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাইমুর রহমান দুর্জয়। জানতে চাইলে বাংলানিউজকে তিনি বলেন, আমার আয়ের উৎস তো এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) দেখবে। এনবিআর দেখুক আয়ের উৎস, আয়ের টাকা কই গেল? আর মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম? সূত্র কী বলেন?

পাপিয়া ইস্যুতে দুর্জয় বলেন, যারা বলে (আমার নাম) তাদেরকেই জিজ্ঞেস করেন। পাপিয়া ইস্যুতে তো অনেকেরই নাম আসছে। সেগুলো নিয়ে তদন্তের পর্যায়ে আছে। পাপিয়া ইস্যুতে যদি কিছু বের হয় তখন দেখা যাবে। বের হোক।

নিজের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের তদন্ত হোক বলেও দাবি করেন নাঈমুর রহমান দুর্জয়। তবে নদী থেকে ড্রেজিং করা মাটি নিয়ে স্থানীয়রা ব্যবসা করছেন বলেও স্বীকার করেন তিনি।

তিনি বলেন, নদী থেকে যে মাটি উত্তোলন করা হয়, সেটা রয়েলটি দিয়ে একজন কিনে নেন কারণ নদীর মাটি ড্রেজিং করে তো আর নদীতে ফেলা হবে না। এই ব্যবসা অনেকেই করেন। পাটুরিয়াতে উপজেলা চেয়ারম্যান করেন। আরিচায় ছাত্রলীগ করতেছে।

নিজস্ব প্রভাবে থাকা এলাকায় ঠিকাদাররা ভাগ না দিয়ে কাজ করতে পারেন না, এই প্রসঙ্গে দুর্জয় বলেন, যে প্রকল্প থেকে আমার টাকা নেওয়ার কথা উঠেছে সেটা মিথ্যা। এ ধরনের কোন ‘কালচার’ আমার এলাকায় নাই। আমার কোন লোক এ ধরনের ঠিকাদারকে চাপ দিছে সেটা তো বলতে হবে। আমার জানামতে নাই। কেউ যদি চাপ দিয়ে থাকে সেটা অভিযোগ পেলে দেখব যে আমার কোন লোক চাপ দিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন...


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্তচিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।