TadantaChitra.Com | logo

২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৩ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ভাতিজার বিরুদ্ধে কাস্টমস কর্মকর্তার মিথ্যা মামলা!

প্রকাশিত : জুলাই ২৪, ২০২০, ১৯:১৩

ভাতিজার বিরুদ্ধে কাস্টমস কর্মকর্তার মিথ্যা মামলা!

ফাহিমা আক্তার সুমী: পাবনার ভ্যাট বিভাগের কাস্টমস এক্সাইজের ডেপুটি কমিশনার ও বিভাগীয় কর্মকর্তা মো.জাহিদুল ইসলাম তার আপন ভাতিজার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে বলে জানিয়েছেন ভাতিজা প্রভাষক মো.হাসিনুর রহমান।

তিনি রাজধানীর একটি স্বনামধন্য কলেজে ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক হিসাবে কর্মরত আছেন। এই কাস্টমস কর্মকর্তার ২০১৮ সালে দুদকের তদন্তে বেড়িয়ে এসেছিল তার মাত্র ৬ বছরের চাকরি জীবনের শতাধিক দলিলের হিসাব।এমনকি মায়ের নামে থাকা সম্পত্তি বাগিয়ে নিতে তিনি নিজের ভাইকে জেল পর্যন্ত খাটিয়েছেন। ছেলে জাহিদুলের বিরুদ্ধে অতিষ্ঠ হয়ে মামলা দায়েরও করেছিলেন তার মা।

মো.হাসিনুর রহমান জানান, তার চাচা জাহিদুল ইসলাম নানাবিধ সময়ে বিভিন্ন দূর্নীতির মাধ্যমে অজস্র নগদ অর্থ এবং অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছে। চাকরি জীবনের কয়েক বছরের ভিতরই শতাধিক দলিলে প্রায় দুইশত বিঘার মালিকও হয়েছেন তিনি। তার চাচা সবসময় কোন না কোন ভাবে পরিবারের কতৃত্ব ফলাতে চান।

এই প্রভাষকের দাদীর এবং বাবার একটা যৌথ ব্যাংক একাউন্ট আছে। দাদী তার চাচার বাসায় থাকতেন। এই সুযোগে তিনি দাদীর কাছ থেকে চেক নিয়ে এবং তার বাবার স্বাক্ষর নকল করে ব্যাংক একাউন্টের একটি বড় অংকের অর্থ তুলে নেন। এই টাকা তোলার বিষয়ে তার চাচাকে বলা হলে ক্ষিপ্ত হয়ে যান। বাবা এর কোন সমাধান ও উপায় না পেয়ে চাচার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে একটি চেক জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন।

মিথ্যা মামলায় ভুক্তভোগী এই প্রভাষক আরও জানান, একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে চাচা জাহিদুল ইসলাম তার নামে বাংলা বিড়ির নকল ব্যান্ডরোল সরবরাহকারী হিসাবে তাকে আসামি করেন। এটি জি আর ফৌজদারি মামলার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে মিথ্যা আসামি করা হয়। যার ধারা ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন এর ২৫-এ তৎসহ ২৫৯/২৬০ পেনালকোড। এই একই মামলা পরপর পাবনা জেলায় মোট চারটি থানায় দায়ের করা হয়েছে। যার-আতাইকুলা থানার মামলা নম্বর-২, তাং ১১.০৩.২০২০। পাবনা সদর থানার মামলা নম্বর-৩০, তাং ১২.০৩.২০২০। সুজানগর থানার মামলা নম্বর-৭, তাং ১৩.০৩.২০২০। ফরিদপুর থানার মামলা নম্বর-৬, তাং১৪.০৩.২০২০।

তিনি আরও জানান, সে কোন সময়ই বাংলা বিড়ির সঙ্গে চাকুরি বা অন্য কোনও ভাবে জড়িত ছিলেন না। এই মিথ্যা মামলায় তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে। বিভিন্ন ভাবে হয়রানির শিকারও হচ্ছেন তিনি।

ডেপুটি কমিশনার জাহিদুল ইসলামের কাছে মামলা দায়েরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে এরিয়ে যান এবং মামলা করেননি বলে জানান। কথা বলার একপর্যায়ে এসে তিনি মামলার কথা স্বীকার করেন এই প্রতিবেদকের কাছে।

তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, “স্বাক্ষী প্রমানের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। থানায় মামলাটি তদন্তে আছে। তদন্ত অনুযায়ী প্রমান হবে।” পাবনার আতাইকুলা থানার সাব-ইন্সপেকটর (নিরস্ত্র) উক্ত মামলার তদন্তকারী সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “উক্ত মামলাটি চারটি থানায় দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি নিয়ে তদন্ত কাজ চলছে। যেহেতু চারটি থানায় মামলা সেহেতু চার থানার তদন্তকারীদের সঙ্গে আলোচনা স¤পূর্ণ করে তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন...


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্তচিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।