TadantaChitra.Com | logo

২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৩ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

খিলগাঁও থানার সাবেক ওসির মামলা বানিজ্য, মাদক বিক্রির শেল্টার, জমি দখল!

প্রকাশিত : জুলাই ২৪, ২০২০, ১৯:৩৭

খিলগাঁও থানার সাবেক ওসির মামলা বানিজ্য, মাদক বিক্রির শেল্টার, জমি দখল!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ খিলগাঁও থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে নিরীহ ও ব্যবসায়ীদেরকে মাদক মামলার আসামী করে হয়রানী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অভিযোগ থাকলেও ওসি মশিউর রহমান সব অভিযোগই অস্বীকার করে আসছে। তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ রমনা থানায় থাকাকালীন সময় থেকেই। সাংবাদিক নির্যাতন, ব্যবসায়ী লোকজন টার্গেট করে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করেও মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো ওসি মশিউর রহমানের কাছে এগুলো স্বাভাবিক ব্যাপার। রমনা থানায় ওসি থাকাকালেও কাকরাইলের এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা নিয়ে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠিয়েছেন ওসি মশিউর রহমান। সে ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করেছিলেন ওই ব্যবসায়ী। যা পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ দিয়ে মিমাংসা করেছেন বলে পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, উত্তরার গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সৈয়দ জহিরুল ইসলামের সাথে গার্মেন্টস ব্যবসা নিয়ে চৌধুরী মোঃ হুমায়ূন কবির নামে খিলগাঁও এলাকার এক ব্যক্তির সাথে দীর্ঘদিন ঝামেলা চলছিলো। এরই সূত্র ধরে খিলগাঁও থানার সদ্য বিদায়ী ওসি মশিউর রহমানকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে একটি মাদক মামলায় আসামী করা হয়। যার খিলগাঁও থানার মামলা নং ০৭, তারিখঃ ০৪/০১/২০২০।

মামলার বাদী অত্র থানার এসআই আরসেল তালুকদার। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ হাবিবুর রহমান। মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ০৩/০১/২০২০ ই তারিখ রাত ১০ টা বিশ মিনিটের সময় গোপান সংবাদের ভিত্তিতে বাদীর সাথে থাকা ফোর্স এএসআই ফজলুল হক, কং আনোয়ার, সাঃ আঃ সদস্য মোঃ সাদ্দাম সহ বাদশা মিয়া ও সাকিবুর রহমান শুভ নামে দুই ব্যক্তিকে ১০৫ পিচ ইয়াবা সহকারে গ্রেফতার করে।

এজাহারে বলা হয়, এই দুই আসামীকে গ্রেফতার কালীন সময়ে সৈয়দ জহিরুল ইসলাম নামে আরেক আসামী পালিয়ে যায়। তবে এজাহারে এই আসামীর বাবা, মা, মোবাইল নাম্বার ও ঠিকানা সঠিক ভাবে উল্লেখ করেছেন মামলার বাদী। জানা গেছে, মির্জা আব্বাসের বন্ধু পরিচয় দানকারী চৌধুরী মোঃ হুমায়ূন কবির নামের ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পূর্ব শত্রæতার জের ধরে মাদক মামলায় আসামী করা হয় সৈয়দ জহিরুল ইসলাম অমিতকে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। সৈয়দ জহিরুল ইসলাম অমিত একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। তিনি উত্তরা এলাকায় একজন নামীদামী ব্যক্তিও বটে। শরীরের গঠনও অসাধারণ। মাদকাসক্ত যে কোন লোককে দেখলেই বুঝা যায়। তাঁকে দেখলে মনে হয় না সিগারেট ফোঁকেন তিনি।

ওই এজাহারকারী এসআই আরসেল তালুকদারের বক্তব্য হল, উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিষেধ রয়েছে ফোনে সাংবাদিকদের সাথে কথা না বলার। একপর্যায়ে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত দুই আসামীর স্বীকারক্তিতে সৈয়দ জহিরুল ইসলাম অমিতকে আসামী করা হয়েছে। পরে যখন তদন্ত করে জানা গেছে তিনি মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় তাই তাকে অব্যাহতি দিয়ে গ্রেফতারকৃত দুই আসামীকে অভিযুক্ত করে মামলা চার্জশিট দিয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান।

তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, মামলার প্রতিবেদন প্রস্তুত এখনো আদালতে পাঠানো হয় নি। তার নাম বাদ দিয়েই আদালতে প্রতিবেদন পাঠাবো। এ মামলার ঘটনার সাথে সৈয়দ জহিরুল ইসলাম অমিত জড়িত নয়। ওই থানার এই তিন পুলিশ কর্মকর্তার সাথে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে কথা বললে তারা এসব কথা বলেন।

অভিযোগ রয়েছে, খিলগাঁও থানার সদ্য বিদায়ী ওসি মশিউর রহমান নন্দীপাড়া এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের নয়ন নামের এক ব্যক্তির জমিতে অন্য এক বিচারকের নামে সাইনবোর্ড লাগিয়ে সেখানে টিনের ঘর করে ভাড়া দিয়েছেন। এমনকি দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় তারই আর্শীবাদ প্রাপ্ত এসআই মনিরুজ্জামান ও তার নিজের অর্থায়ানে একটি পেট্রোলপাম্প করা হয়েছে। অনেকের কাছে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে তারা এত টাকার মালিক কি করে হলেন?।

সূত্র জানায়, খিলগাঁও থানা এলাকার মাদক সম্রাট নূর মোহাম্মদ ও রাজীবের কাছ থেকে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা নিতেন ওসি মশিউর রহমান। মাদক সম্রাট নূর মোহাম্মদ হত্যা মামলার পলাতক আসামী হয়েও তার বাহিনীর সদস্য মিজানুর রহমান স্বপনকে দিয়ে অত্র এলাকায় মাদক ব্যবসা ও অটোরিকশার টিকেট বাবদ চাঁদাবাজি করে আসছে। লোক মুখে জানা গেছে, মগবাজার পূর্ব নয়াটোলা ২৭/ডি ২য় তলার ফ্ল্যাটটি ওসি মশিউর রহমানের। এছাড়াও তার নামে বেনামে বাড্ডা এলাকায় কয়েকটি ফ্ল্যাট রয়েছে। যা আমাদের অনুসন্ধানে রয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এ পুলিশ কর্মকর্তার ক্ষমতার কাছে এলাকার অনেকেই অসহায় ছিলেন। খিলগাঁও থানায় এলাকায় পুলিশের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন তিনি। তার সিন্ডিকেটে রয়েছে, এসআই আরসেল তালুকদার, এসআই নাজমুল আলম, পূর্বে ছিলেন মনিরুজ্জামান, যাকে রমনা থানা থেকে বদলী করে নেন ওসি মশিউর রহমান। এছাড়াও মতিঝিল থানা থেকে তার অনুসারী এসআই নাসিরউদ্দিন তুহিনকে বদলী করে খিলগাঁও থানায় নেন। যদিও বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে নাসিরউদ্দিন তুহিনকে খিলগাঁও থানা থেকে মিরপুর বদলী করা হয়েছে।

ওসির সিন্ডিকেটের পুলিশ সদস্য ছিলেন, এএসআই ফজলুল হক, এএসআই মিজান, এএসআই সবুর, এএসআই মাসুদ সহ আরো চার পুলিশ সদস্য। এঁদেরকে দিয়ে টিমওয়ারী খিলগাঁও এলাকার অলিগলি থেকে নিরীহ সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করে থানায় আনেন। থানায় এনে মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে নির্যাতন করে পরিবারের লোকজনকে কান্নার আওয়াজ শোনান এই পুলিশ সদস্যরা। নিরীহ লোকজনের পরিবারের লোক আসলেই রাতের আঁধারে ওসি মশিউর রহমানের কক্ষেই মিমাংসা করে মোটা অংকের টাকার বিনিময় ছেড়ে দেন। যারা ওসির চাহিদামত টাকা না দেন তাঁদেরকে ইয়াবা ও এ্যাম্পোল ইনজেকশনের মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো। এই থানার আইটি শাখার রুমটি ছিল ওসি মশিউর রহমানের “টর্চার সেল”। এই রুমেই গ্রেফতারকৃত লোকজনকে অমানবিক নির্যাতন করতেন ওসি।

এসব বিষয়ে খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, সৈয়দ জহিরুল ইসলামের নামটি অন্য দুই আসামীর স্বীকারোক্তিতে দেওয়া হয়েছে। এরপর আমরা তদন্ত করে জহিরুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতা পাইনি তাই চার্জশিট থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

জমি দখলের বিষয়ে তিনি বলেন, নন্দীপাড়ার জমিটি একজন জজের। আদালতে মামলা চলমান, তাই দেখাশোনা করছি। এর বাহিরে কিছু নয়। জমি দখলের বিষয়টি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলেও জানান ‍মশিউর রহমান।

খিলগাঁও থানায় মশিউর রহমানের যত অপকর্ম

খিলগাঁওয়ে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন: খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমানের সহযোগিতায় কবরস্থান ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি এবং মসজিদের রাস্তা দখল করে পেট্রল পাম্প গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ জমি থেকে পেট্রল পাম্পটি অপসারণের দাবিতে নন্দীপাড়ায় মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে তারা অভিযোগ করেন, মশিউর রহমানের শেল্টারে মাসুদ আহমেদ ওরফে টুন্ডা মুকুল এলাকায় দখলবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। সে অবৈধভাবে মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাহিদুর রহমানের জমি এবং হাছনাবানু কবরস্থান ও মসজিদের রাস্তার জমি দখল করে একটি পেট্রল পাম্প গড়ে তুলেছে।

মানববন্ধনে ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, ওসি মশিউর রহমান সশরীরে একাধিকবার টুন্ডা মুকুলের সহযোগীর ভ‚মিকায় অবতীর্ণ হন। আমিন এনে এককভাবে মাপঝোক করে রাস্তার একটা বড় অংশ পেট্রল পাম্পের মধ্যে নিয়ে তিনি নিজেই এখানে খুঁটি গাড়েন। এ নিয়ে এলাকাবাসী স্থানীয় এমপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে যায়। কিন্তু এরপরও কোনো প্রতিকার মিলছে না।

জাহিদুর রহমান আরও বলেন, মাসুদ আহমেদ মুকুল তার বাহিনী দিয়ে জমি দখল করে নিলে কয়েকবার ওসির দ্বারস্থ হই। কিন্তু তিনি মামলা নিতে চাননি। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি একটি মামলা নেন এবং মাসুদ আহমেদ মুকুল ও তার এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেন। মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, মশিউর রহমান প্রায় তিন বছর ধরে খিলগাঁও থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এখানে আসার পর ভূমিদস্যুসহ বিভিন্ন অপরাধীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছেন। ওসির শেল্টারে মাসুদ আহমেদ মুকুলের বাহিনীর অন্য সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এসব বিষয়ে জানতে খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাসুদ আহমেদ মুকুল কেন, আমি কাউকেই শেল্টার দেইনি। কেউ যদি আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনে থাকে তবে তা সঠিক নয়।

খিলগাঁও থানার ওসির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের মদদ দেয়ার অভিযোগ: রাজধানীর খিলগাঁও থানার ওসির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের মদদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারী মাসে ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই এলাকার বাসিন্দা আজিহার রহমান এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর খিলগাঁও থানার ৬ নম্বর রোডের দক্ষিণ বনশ্রীর এইচ ব্লকের ১ নম্বর প্লট চার বছরের জন্য ভাড়া নেই। লিখিত চুক্তির মাধ্যমে জায়গার মালিক মো. শহিদুল ইসলামকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দেই। এরপর সেখানে মাটি ভরাট করে আটটি দোকান, একটি সুইমিং পুলসহ প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় করি। আটটি দোকানে ক্রোকারিজ, বোর্ড, মিষ্টির দোকানসহ বিভিন্ন লোকজনের কাছে ভাড়া দেই। চার বছরের মেয়াদ গত অক্টোবর শেষ হয়। এরপর মেয়াদ নবায়ন করতে চাইলে তিনি মৌখিকভাবে রাজি হন। এই ভরসায় সেখানে বড় ধরনের বিনিয়োগ করি । কিন্তু সম্প্রতি শহিদুল নবায়ন করতে অস্বীকার করে জায়গা ছেড়ে দিতে বলেন।

২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর বেলা ১টার দিকে তিনি শতাধিক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালিয়ে আমার দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাট করে। এ সময় খিলগাঁও থানা পুলিশ আমাকে কোনো প্রকার সহযোগিতা করেনি। বরং ওসি মশিউর রহমান সরাসরি সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থান নেন। আমি মামলা করতে গেলে ওসি মামলা নেননি। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে ৩১ ডিসেম্বর মামলা নেয় পুলিশ। এর পর থেকে পুলিশের পক্ষ থেকে আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে পাল্টাপালি জিডি হয়েছিল। আমি তাদের সমঝোতা করতে বলেছিলাম। সমঝোতা না হওয়ার প্লটের মালিকপক্ষ সেখানে হামলা চালায়। এতে কিছু মামামাল খোয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে মামলা হয়েছে। তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওসি আরও জানান, তিন বছরের চুক্তি করে পাঁচ বছরেও জায়গা ছাড়ছিলেন না আজিহার রহমান। তা ছাড়া জমির মালিকের কিছু ভুল ছিল।

খিলগাঁও থানা ম্যানেজ নিরাপদে ব্যবসা করো!: সিটি কর্পোরেশনের অভিযান থেমে গেছে। আর থানা ম্যানেজ। কোন সমস্যা নেই। তোমরা নিরাপদে ব্যবসা করো। তবে নিয়মিত চাঁদাটা পরিশোধ করবে। কারন সপ্তাহ শেষ হতেই পেমেন্ট দিতে হয়। ওসি কিন্তু তোমাদের ফোন করেনা। থানায় গিয়ে ওসির পেমেন্ট পরিশোধ করতে হয় আমাকেই। রাজধানীর খিলগাঁওয়ের সি-বøকের রাস্তা দখল করে বসানো বউ বাজার কাঁচা মার্কেট ব্যবসায়ীদের এমন ভাষায় সান্তনা দেন স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা। যিনি খান রাসেল নামে পরিচিত।

যার সাথে ছিল খিলগাঁও থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমানের অন্যরকম স¤পর্ক। খিলগাঁও থানা এলাকার রাস্তা দখল করে বসানো হয়েছে বাজার। যার নেতৃত্বে রয়েছে জনৈক রাশিদা ও তার চার সহকারী। তবে অন্তরালে থেকে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রন করেন খান রাসেল ও খিলগাঁও থানার সাবেক ওসি মশিউর রাহমান। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ অবৈধ বাজারের সিন্ডিকেটের বিষয়টি নিয়ে মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর নড়েচড়ে বসেন স্থানীয় প্রশাসন। উচ্ছেদ করে উক্ত কাচাঁবাজার। কিন্তু এবার কৌশল পরিবর্তন করে বসানো হয় ভ্যানগাড়ি মার্কেট। পূর্বের মতোই চাদাঁ আদায় করছে রাশিদা, আলী, সুমন, রহমানও বারেক। স্থানীয় প্রশাসন টিনশেডের ঘর ভেঙ্গে দেয়ার পর কিছুদিন যেতে না যেতেই এখন আবার ভ্যানগাড়ির উপর পন্য সামগ্রী সাজিয়ে পূর্বের দোকান মালিকরাই বেচাকেনা করে আসছে। আর আগের নিয়মেই চাদাঁ আদায় করছে রাশিদা।

স্থানীয়দের কাছে বাজারটি ‘বউবাজার’ হিসেবে পরিচিত। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক এই বাজারের কোনো অনুমোদন নেই। বছরের পর বছর ধরে এখানে চলছে চাঁদাবাজি। বাজার থেকে প্রতিদিন লাখ টাকার উপরে চাঁদা আদায় করে থাকে বলে জানায় এলাকাবাসী। এই বাজারের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্থানীয়দের।

স্থানীয় থানা আওয়ামীলীগের এক নেতা জানান, খান রাসেল ইসমাইল, বাবুল, জয়নাল, শাহীন, সোহেল, বিল্লাল, জনি, আলী, কায়েজ, মফিজ, নবী মোতালেফ, জাহাগীর, ইউসুফ, রুবিনা সহ আরো ৩০ জন দোকানদারের কাছ থেকে প্রতি দোকান বসানোর জন্য ৪০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। তিনি আরো জানান, প্রতিদিন তিনি ১৫০ টাকা করে চাঁদা দেন। শুক্রবার দিতে হয় ২০০ টাকা। রাশিদার লোকজন এই চাঁদা তোলে। প্রতি দোকানদারকে বাধ্যতামুলক টাকা দিতে হয়।

সবজি বিক্রেতা আলাল জানান, তার দোকান থেকে দৈনিক ১৫০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়। সপ্তাহ শেষে টাকা চলে যেত খিলগাঁও থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমানের কাছে। এসব অভিযোগের বিষয় নিয়ে কথা বলতে তখন রাজি হননি মশিউর রহমান।

রমনা থানায় মশিউর রহমানের যত অপকর্ম

রমনার ওসির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা!: চাঁদাদাবির অভিযোগে রমনা থানার তৎকালীন ওসি মো. মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৪ সালের জুন মাসে জনৈক ব্যবসায়ী জাকির হোসেন চৌধুরী ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় নিউমার্কেট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জামাল হোসেনকেও আসামি করা হয়েছে। সে সময় মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদী দুটি মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে রমনা থানায় রিমান্ডে থাকাকালীন রমনা থানার সাবেক ওসি মশিউর বাদীকে তার কক্ষে ডেকে এনে মারপিট করেন এবং ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদাদাবি করেন।

এ সময় মামলার অপর আসামি নিউমার্কেট থানার এসআই জামাল হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এরপর ওসি মশিউর বাদীর স্ত্রীকে খবর পাঠিয়ে দুই লাখ টাকা দিতে বলেন। বাদীর স্ত্রী তার স্বামীকে বাঁচাতে সেই রাতেই দুই লাখ টাকা ওসিকে দেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, নারী নির্যাতন ও চুরির পৃথক দুটি মামলার বাদী রমনা থানায় তিন দিনের রিমান্ডে ছিলেন। রিমান্ড চলাকালে বাদীকে ওসি তার কামরায় ডেকে এনে সামনে থাকা চেয়ারে বসতে বলেন।

ওসি উপপরিদর্শক জামালকে বলেন, ‘ওরে (বাদীকে) ক্রসফায়ারে দেওয়ার ব্যবস্থা কর, সব ঠিক হয়ে যাবে।’ বাদী জীবনের ভয়ে বিভিন্নভাবে অনুনয়-বিনয় করতে থাকার এক পর্যায়ে তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। ওইদিনই রাত আড়াইটার সময় মামলার সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ওসি এবং এসআই থানায় বসে ওই টাকা নেন।

রমনা থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, জাকিরকে আমি চিনি না। টাকা নেওয়ার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সঠিক নয় বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।

সাংবাদিক পেটানোয় রমনার দুই ওসি, এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা: ইংরেজী দৈনিক নিউ এজ পত্রিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে পেটানোর ঘটনায় রমনা থানার ওসি মশিউর রহমান, ওসি (তদন্ত) আলী হোসেন এবং এসআই মেহেদী হাসান সুমনসহ অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ঢাকা সিএমএম আদালতে মামলা করা হয়েছে। ২০১৫ সালের ফেব্রæয়ারী মাসে আদালতে হাজির হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্যাতিত শিক্ষার্থী নাজমুল হুদা সুমন এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র নাজমুল হুদা সুমন তার বন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র খায়রুজ্জামানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বিজয়নগরের রাজমনি সিনেমা হলের সামনে এলে ট্রাফিক পুলিশ তাদের থামায়। দুই জন মোটরসাইকেলে ওঠা নিষিদ্ধ জিজ্ঞাস করেই কোন উত্তর দেয়ার সুযোগ দেয়ার আগেই তাদের ওপর চড়াও হয়। বাদী সাংবাদিক পরিচয় দিলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এসআই মেহেদী হাসান বাদী সুমন ও তার বন্ধুকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন...


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্তচিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।