TadantaChitra.Com | logo

১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

খাদ্য অধিদপ্তরের ঝুকিপূর্ণ জেটি, এ যেন মৃত্যু ফাঁদ!

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০, ১১:৫৬

খাদ্য অধিদপ্তরের ঝুকিপূর্ণ জেটি, এ যেন মৃত্যু ফাঁদ!

আসমাউল উল হুসনা, ঢাকা : খাদ্য অধিদপ্তরের ক্ষতিগ্রস্থ একটি জেটি ও এর ওপরে কোনোরকমে আটকে থাকা বৃটিশ আমলের জরাজীর্ণ  লোহার ক্রেন ভেঙে পড়ে, মুহুর্তেই হাজারো দর্শনার্থীদের  রক্তে লাল হতে পারে বুড়িগঙ্গার পানি। ক্ষতিগ্রস্থ জেটিতে, নামে মাত্র ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা বহু পুরনো পরিত্যাক্ত ক্রেনটি যে কোনো সময়ে আছড়ে পড়তে  পারে ক্ষতিগ্রস্ত জেটির ওপর।  ঘটতে পারে বহু হতাহতের ঘটনা,পড়তে পারে শত শত লাশ –  বিষয়টি জেনেও নির্বিকার  খাদ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্টরা। নেই সংস্কারের কোনো উদ্যোগ। এমনকি জেটিটি ঝুঁকিপূর্ণ  এই মর্মে  লাগানো সতর্কবার্তাটি পর্যন্ত  লাগানো হয়েছে স্থানীয়দের উদ্যোগে অথচ এটি খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটা স্থাপনা।

গেন্ডারিয়া থানাধীন, পুরান ঢাকার মিল ব্যারাক মামার মাজার সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা তীরে অবস্থিত জেটিটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা শিশু যুবা বয়োবৃদ্ধদের ভারে সরব এই জেটিটির প্রবেশপথে থাকা  “জেটিটি ঝুঁকিপূর্ণ”  নামে স্থানীয়দের  লাগানো একটি খুটির ওপরেও বসে আছে মানুষ। এছাড়া মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যাক্ত লোহার ক্রেনটিতে পর্যন্ত   বসে আছেন দর্শনার্থীরা।
ক্রেনটির  বৃহদাকার চাকাগুলো পাংচার হয়ে বসে গেছে এবং মরচে পড়ে ঝুরঝুরে হওয়া লোহার তার গুলো এক অশনি সংকেত বহন করছে। এমনকি তথ্য সংগ্রহ কালীন সপ্তাহখানেক সময়ের মধ্যেও প্রতিনিয়ত ভেঙে পড়ার  প্রমাণ মিলেছে খোদ জেটির ক্ষতিগ্রস্ত পাড় ধরে।

জেটি লাগোয়া স্থানীয় ব্যাবসায়ী সাজ্জাদ ও অন্যান্যদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী আনুমানিক দুই থেকে তিন বছর আগে ২০১৭ সালের কোনো এক প্রচন্ড ঝড়ো সন্ধ্যায় সদরঘাট তীরে বাধা থাকা একটি জাহাজ ছুটে  এসে জেটিটিতে প্রচন্ড ধাক্কা দিলে মুহুর্তেই ভেঙে পড়ে স্রোতে ভেসে যায় জেটির বেশ কিছু অংশ ক্ষতির শুরু সেখানেই।  তবে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আলমগীর  ফরাজী জানান ২০১৭ সালের ১লা  বৈশাখ মাঝরাতে এই ঘটনা ঘটলে কে বা কারা জাহাজ টি ভোরেই নিয়ে যায়। জেটিতে বাধা অনান্য জাহাজ গুলোও ছুটে গিয়ে ভাসতে থাকে অদুরে। পরদিন বি এই ডব্লিউ টি এ, এবং  খাদ্য অধিদপ্তরের লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত জেটি টি পরিদর্শনে আসেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ গুলো সরিয়ে নিয়ে গেলেও আজ অবধি সারানো বা সংস্কার অথবা সতর্কতা মুলক কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি ক্ষতিগ্রস্ত জেটির । এমনকি তথ্য সংগ্রহকালীন সময়ে, সপ্তাহ খানেক আগে এবং পরে গিয়ে দেখা যায় প্রতিনিয়ত ভেঙেই চলেছে জেটির  পাড়।

স্থানীয় দোকানদার, নাইট গাড এবং জেটির অদুরে থাকা খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্য গুদাম ও নিকটস্থ অফিসের একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীদের  সাথে কথা বলে এ বিষয়ে এক ও অভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।

খাদ্য অধিদপ্তরের স্থানীয় অফিসের কর্মকর্তা  আলমগীর ফরাজী জানান এই জেটিতে খাদ্য অধিদপ্তরের  নিয়ন্ত্রণে চাল গম পরিবাহী শীপ নোঙর করত এবং  যা ট্রাক ও অন্যান্য পরিবহন যোগে বিভিন্ন  সিএসডি তে চলে যেত। যা, ওএমএস ও টিসিবি পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হতো। সেই সময় জেটি লাগোয়া এই খাদ্য গুদাম চালু থাকলেও গুগামের ভেতরকার আবহাওয়া শস্য বান্ধব না হওয়ায় শস্যদানা নষ্ট হয়ে যেত বিধায় এই গুদামও বহুদিন পড়ে থেকে এভাবেই জংগলে পরিনত হয়েছে। তবে শ্রীঘই গুদামটি  আধুনিকায়নের কাজ শুরু হবে বলে একাধিক সুত্র জানালেও সেই সাথে দূঘটনা কবলিত ঝুঁকিপূর্ণ  এই জেটিও সংস্কার করা হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।  এমনকি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এই ক্রেনটিও খাদ্য অধিদপ্তরের বলে নিশ্চিত করলেও এটি সরিয়ে নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে  এ বিষয় কিছু জানেন না বলে জানান তারা। তবে ঝড়ের পরদিন পরিদর্শনে আসা খাদ্য অধিদপ্তরের টিমের সাথে তারা এসেছিলেন এবং এটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মৌখিক নিদেশনা দেয়া হয় বলে জানান।

এ বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের, ঢাকা  সিএসডি ম্যানেজার জাহানারা ( মিল ব্যারাক) জানান ২০১৮ সালে তিনি জুরাইনে অবস্থিত খাদ্য অধিদপ্তরের অফিসে যোগদান করে জেটিটি এই অবস্থায় পেয়েছেন এবং তাঁর দেয়া তথ্যমতে ১৯৮৮ সালের পর থেকেই এই ক্রেন আর ব্যবহার করা হয়নি। এবং ২০১৯ এর প্রথম দিকেই তিনি  উধধতন কতৃপক্ষ কে ক্রেন ও ক্ষতিগ্রস্থ জেটির বিষয় লিখিত ভাবে জানান। এ বিষয়টি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলেই তিনি মনে করেন। তবে এ বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতির তথ্য তাঁর হাতে নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন...


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্তচিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।