TadantaChitra.Com | logo

৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বেপরোয়া বাউন্ডারী বাহিনী ‘মাত্র দুই কোটি টাকা’ চাঁদা দাবি

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০, ১৩:৪৯

বেপরোয়া বাউন্ডারী বাহিনী ‘মাত্র দুই কোটি টাকা’ চাঁদা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ জুড়ে অভিনব বাউন্ডারী বাহিনীর আবির্ভাব ঘটেছে। তাদের বেপরোয়া কর্মকান্ডের কাছে সাধারণ বাড়ি ও জমি মালিকরা রীতিমত জিম্মি হয়ে পড়েছেন। সংঘবদ্ধ চক্রটি যে কারোর খালি জায়গা পেলেই তাতে ইট বালুর বাউন্ডারী নির্মাণ করেই লাখ লাখ টাকার বিল দাবি করে বসেন। সে বিল আদায় না হওয়া পর্যন্ত গোটা জমি তাদের দখলে নেয়ার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে জরিমানাসহ মোটা অঙ্কের চাহিদা পূরণ করার মাধ্যমেই জমি মালিকরা তাদের জায়গায় পা রাখতে পারেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিননব এ চাঁদাবাজির ঘটনায় চক্রটি কোটি কোটি টাকার ধান্ধাবাজি ফেঁদে বসেছে।

উত্তরায় এসব চক্রের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত কফিল মেম্বারের ছেলে সেলিম মিয়ার অভিনব প্রতারণায় দিশেহারা সেলিম মোল্লা নামের স্থানীয় এক ব্যবসায়ী। চেকে সহি স্বাক্ষর তারিখ জালিয়াতি, ভুয়া গায়েবি কাজের বিল, ১৫/২০ জন অস্ত্রধারীদের দিয়ে মারধরসহ হত্যার হুমকি বা মিথ্যা মামলা কোনটিই বাদ রাখেননি সেলিম মোল্লার বাড়ি দুটি দখলের জন্য। সর্বশেষ সেলিম মিয়া অস্ত্রধারী বাহিনীর মাধ্যমে সমাঝোতার প্রস্তাব দিয়ে ‘মাত্র দুই কোটি টাকা’ চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সেলিম মোল্লা।

জানা যায়, ব্যবসায়ী সেলিম মোল্লা ২০১৩ সালে উত্তরার নলভোগ এলাকায় তিনি একটি তিন কাঠার প্লট কিনে সেখানে টিনসেড ঘর নির্মাণ করেন। বাড়ি নির্মাণ করার সুবাধে পরিচয় কফিল উদ্দিনের ছেলে সেলিম মিয়ার সাথে। পরিচয় থেকে বন্ধুর্ত, বন্ধুর্ত থেকে হয় পারিবারিক সর্ম্পক। ২০১৮ সালের শেষের দিকে সেলিম মোল্লা একটি জায়গা কেনার ইচ্ছে পোষন করলে সেলিম মিয়া একটি জায়গা দেখায় যেটি সেলিম মোল্লা কিনতে ইচ্ছুক হন। ২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর সেলিম মোল্লা জমিটির বায়না করেন জমির মূল মালিকের সাথে এবং দালালি বাবদ সেলিম মিয়াকে নগদ ৫ লক্ষ টাকা দেন। বায়নার ক‘দিন পরেই প্রতারক সেলিম মিয়া ওই মাসের ২৫ তারিখে জমি নেবার গ্যারান্টি হিসেবে ৫০ লক্ষ টাকার একটি চেক চান সেলিম মোল্লার কাছ থেকে। সেলিম মোল্লা ওই দিনই তাকে ৫০ লক্ষ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। পরবর্তীতে সেলিম মোল্লা ওই জমি ২০১৯ সালের জানুয়ারী মাসের ২০ তারিখে নিজ নামে রেজিষ্ট্রি করে নেন এবং দালালী বাবদ সেলিম মিয়াকে ১৮ লক্ষ টাকা প্রদান করেন রেজিষ্ট্রি অফিসে বসেই। সেলিম মোল্লা রেজিষ্ট্রি অফিসে তার দালালির টাকা দেবার পরে চেকটি ফেরত চাইলে চেকটি গাড়িতে আনার নামে বাইরে এসে পলায়ন করেন। বারবার তাকে ফোন করলেও সেলিম মিয়া ফোন রিসিভ করেননি। কিছুদিন পরে সেলিম মিয়ার বাসায় যেয়ে ধর্না ধরে সেলিম মোল্লা কিন্তু সিকিউরিটি বাবদ জমা নেওয়া ওই চেক আর ফেরত দেন না সেলিম মিয়া।

বারবার চেকটি ফেরত চেয়েও না পেয়ে প্রতারণার গন্ধ আচ করে সেলিম মোল্লা এ বছর ফেব্রুয়ারী মাসেই তুরাগ থানায় চেকটির বিপরীতে সাধারণ ডাইরী করে রাখেন। প্রতারক সেলিম মিয়া সেসব খবর না জেনেই ব্যাংকের সাথে আঁতাত করে চেকের পাতায় জাল সহি করে ও তারিখ কেটে ব্যাংকের মাধ্যমে চেকটি ডিজনার করান। চেকের কপিতে স্পষ্ট দৃশ্যমান নকল সহি ও তারিখ কেটে বসানোর বিষয়টি। সব কিছু জেনে বুঝে এনআরবিসি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা সেলিম মিয়ার সাথে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের চুক্তিতে চেকটি ডিজনার করিয়েছে বলে জানান সেলিম মোল্লা। ব্যাংক থেকে চেক ডিজনার করিয়েই ক্ষ্যান্ত হননি ধূর্ত সেলিম মিয়া, তিনি প্রতারণার ভিন্ন কৌশলও চালাতে থাকেন। এবার জাল জালিয়াতির বিল ভাউচার বানিয়ে সেলিম মিয়া তা পাওনার তাগিদ হিসেবে সেলিম মোল্লার হাতে ধরিয়ে দেন।কোন প্রকার কাজ না করেই তিনি ইট সিমেন্ট বালি ও মিস্ত্রি বিল বাবদ প্রায় কোটি টাকা বিল পাবেন বলে ভুয়া বিলের কাগজ বানান।

এ বিষয়ে সেলিম মোল্লা বলেন প্রতারক সেলিম মিয়া আমার কাছে কোন প্রকার টাকা পয়সা পায় না আর সে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দাবি করছেন সে আমার কাছে ৭৩ লক্ষ টাকা পান আবার একটি ইউটিউবে বলেছেন ৯৩ লক্ষ টাকা পান। আবার আমার কাছে বিলের কাগজ পাঠিয়েছে তিনি ২৩ লক্ষ টাকা পান বলেও দাবি করেছেন। এ প্রতারণার বিষয়ে সেলিম মোল্লা থানা পুলিশে সহযোগীতা পাবার জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসের ২৩ তারিখে জিডি করেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন প্রতারক সেলিম মিয়ার দাবিকৃত টাকার সকল প্রমাণাদি নিয়ে আসার অনুরোধ জানান। বিলের কাগজ পাঠিয়েও কোন লাভ না হওয়ায় সেলিম মিয়া তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে মাঠে নামান তারা বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দিতে থাকে সেলিম মোল্লাকে। উপায় না পেয়ে সেলিম মোল্লা জুন মাসের ৬ তারিখে তুরাগ থানায় জিডি করেন। জিডি করার সংবাদ সেলিম মিয়া শুনলে আরো ক্ষিপ্ত হন। তিনি ১৫ জনের অস্ত্রধারী বাহিনী পাঠান সেলিম মোল্লার বাড়িতে। সেই বাহিনী সেলিম মোল্লার বাড়ি যেয়ে পরিবারের সবাইকে বেদম প্রহার করে বাড়ি দুটি সেলিম মিয়ার নামে ৭ দিনের মধ্যে লিখে দিতে বলে। এ বিষয়েও থানা পুলিশের শরনাপন্ন হন সেলিম মোল্লা চলতি বছর সেপ্টেস্বর মাসের ১৮ তারিখে স্থানীয় থানায় জিডি করেন। জিডি করে কোন সুফল না পেয়ে ৭/৯/২০২০ তারিখে সেলিম মোল্লা একটি মামলা করেন যার নং ৬৮। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই এর কাছে তদন্তধীন আছে।
ভুক্তভোগী সেলিম মোল্লা এই প্রতিবেদককে বলেন শুধু আমার সাথেই নয় এলাকায় কেউ কোন জমি কিনলে বা বাড়ি করার খবর পেলেই সেলিম মিয়া সেখানে হাজির হয় ইট বালির ট্রাক নিয়ে। জোর করে বালি ইট রেখে দশ গুন দাম দাবি করে বসে তিনি। তার দাবিকৃত টাকা না দিলে সে নিজেকে জমির মালিক ঘোষনা করে তার বাহিনী নিয়ে দখল করে রাখে এমন নজিরের অভাব নেই উত্তরা জুড়ে। জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় থানা পুলিশ দেখে না আর এই সুযোগেই সে দিনকে দিন বেপোরয়া হয়ে উঠছে এই সেলিম মিয়া।

সেলিম মিয়া ও তার বাবা কফিল উদ্দিন মেম্বারসহ তাদের কতিপয় সহযোগীর বিরুদ্ধে জমি জবর দখলের অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন গোড়ান এলাকার জনৈকা রোমানা আক্তার। পিটিশন মামলা নং ১৩(২০১৯)। হাজী মনির হোসেন তার জমি দখলের অভিযোগ তুলে আরেকটি মামলা (সিআর মামলা নং ২২/২০১৯) করেন। তুরাগ থানা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আরিফ হোসেনও চিহ্নিত এই প্রতারক সেলিম মিয়া ও তার বাবা কফিল উদ্দিন মেম্বার কর্তৃক নানাভাবে হয়রানি ও বঞ্চণার শিকার হয়েছেন। তার জায়গা জমিও জবর দখল করে নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি সেলিম মিয়ার পরিবার। উপায়ন্তরহীন অবস্থায় আরিফ বাদী হয়ে কফিল উদ্দিন, সেলিম মিয়া ও তার অন্যান্য সহযোগীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করতে বাধ্য হয়েছেন। সেলিম মিয়ার ছোট ভাই যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তিনি ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হওয়ার জন্য নানা কায়দায় তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই যুবলীগ সভাপতি প্রার্থীর দাপটে মানুষজনের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। যাকে তাকে তিনি হুমকি ধমকি দেন, মারধোর করেন, ভয়ভীতি দেখান। যুবলীগ করা ভাইয়ের দাপট খাটিয়ে সেলিম মিয়া যাচ্ছে তাই করে বেড়ান বলেও স্থানীয় ভুক্তভোগিরা অভিযোগ তুলেছেন। এরইমধ্যে ভুক্তভোগিদের পক্ষ থেকে বিষয়টি যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদকসহ নেতৃবৃন্দের নজরে আনা হয়েছে। তারা বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

অভিযুক্ত সেলিম মিয়া এ প্রতিবেদককে জানান, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সব অভিযোগ করা হয়েছে। আমি তার জায়গায় বাউন্ডারী নির্মানসহ বিভিন্ন ব্যাপারে ৭৩ লাখ টাকার পাওনাদার। এসব টাকা মেরে দেয়ার নানারকম পাঁয়তারা চালাচ্ছেন তিনি। কিন্তু একেক স্থানে একেক পরিমাণ পাওনার দাবি করা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে তিনি নিরব থাকেন। তাছাড়া বাউন্ডারী নির্মানের ব্যাপারে কোনো কার্যাদেশ দেয়া আছে কি না, নাকি জোরজবরদস্তি বাউন্ডারী নির্মান করে চাঁদা দাবি করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না, না চাঁদাবাজি কেন করবো? আগাম কার্যাদেশ দেয়ার পরই বাউন্ডারী নির্মান করেছি। কিন্তু কার্যাদেশের কোনো লিখিত কপি দিতে ব্যর্থ হন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন...


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্তচিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।