TadantaChitra.Com | logo

১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

দেশ ও জনগণের সর্ব্বোচ্য নির্ভরযোগ্য তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) প্রভাবশালীদের দখলে। আসামীকে সাথে নিয়ে পি বি আই, টাঙ্গাইলের নিরপেক্ষ তদন্ত!

প্রকাশিত : অক্টোবর ২৪, ২০২০, ১৮:০৩

দেশ ও জনগণের সর্ব্বোচ্য নির্ভরযোগ্য তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) প্রভাবশালীদের দখলে। আসামীকে সাথে নিয়ে পি বি আই, টাঙ্গাইলের নিরপেক্ষ তদন্ত!

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: সাধারণ মানুষের নির্ভরযোগ্য ও আস্থাস্থল তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) টাঙ্গাইল প্রভাবশালীর কথা মত মামলা তদন্ত ও ঘটনা অনুসন্ধান করে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, গোপালপুর থানার হেমনগর ইউনিয়নের স্বরণকালে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দূর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান আইয়ুব খানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে অভিযোগকারী হেমনগর হক ন্যাশনাল ক্লিনিকের মালিক মোজাম্মেল হক গোপালপুর থানায় বিগত ১ জুন মামলা নং ১/২০২০ এবং ১৬/৬/২০ তারিখে জিডি নং ৫৬০ দায়ের করেন। দায়েরকৃত মামলা ও জিডির যাবতীয় ঘটনা বাদীর পরিচালিত হক ন্যাশনাল ক্লিনিকের সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড থাকলেও সন্ত্রাসী চেয়ারম্যানের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে গোপালপুর থানা পুলিশ শুরু থেকেই মামলা ও জিডি গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করে এবং বেঁচে থাকার জন্য বাদীকে সন্ত্রাসী চেয়ারম্যানের সাথে আপোষ মিমাংশার পরামর্শ দেন।

সর্বশেষে বাদীর আবেদন প্রেক্ষিতে উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণের নির্দেশে থানা পুলিশ মামলা ও জিডি গ্রহণে বাধ্য হয়। মামলা ও জিডি গ্রহণের পর থানা পুলিশ চেয়ারম্যানের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে সত্য ঘটনা ধামাচাপা ও বাদীর মানিত সাক্ষীগণের প্রদত্ত সাক্ষ্য ও জবানবন্দি পরিবর্তন করে সন্ত্রাসী চেয়ারম্যানের পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।থানা পুলিশের দাখিলকৃত সাজানো মিথ্যা ও বানোয়াট তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদী আদালতে নারাজী প্রদান করলে আদালত গোপালপুর থানায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তভার সিআইডি টাঙ্গাইলকে এবং জিডির তদন্তভার পিবিআই টাঙ্গাইলকে প্রদান করেন।

আদালতের নির্দেশমত পিবিআই টাঙ্গাইলের এসআই ফরহাদ হোসেন বিগত ২৮ সেপ্টেম্বর ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করেন এবং বাদীর মানিত সাক্ষীসহ ঘটনাস্থলের বর্তমানে নির্বাচিত মেম্বার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সর্বপরি পিবিআই টাঙ্গাইলের এসআই ফরহাদ হোসেন ঘটনাস্থলে সাক্ষীদের জবানবন্দি, পারিপার্শিক আলামত ও সর্বপরি সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ তদন্ত করে বাদীকে যথার্থভাবে আশ্বস্ত করেন পিবিআই কখনো চেয়ারম্যান বা অন্যকোন প্রভাবশালীর প্রভাবে প্রভাবিত হবেন না এবং তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য ও আলামত দৃষ্টে বাদীর পক্ষে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।বিদায় বেলায় পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফরহাদ হোসেন বাদীকে জানান, এব্যাপারে পিবিআই’র অফিসে যোগাযোগের কোন প্রয়োজন নাই এবং যথাসময়ে প্রতিবেদন আদালতে পৌছে যাবে।

বাদী জানান, হঠাৎ করে পিবিআই এসআই ফরহাদ হোসেন ৪ অক্টোবর বাদীকে ফোন করে জরুরী ভিত্তিতে ৫ অক্টোবর টাঙ্গাইল অফিসে দেখা করতে বলেন। পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তাও ডাকে বাদী ৫ অক্টোবর টাঙ্গাইল পিবিআই অফিসে পৌছিলে তদন্তকারী কর্মকর্তা বাদীকে পুলিশ সুপারের সাথে দেখা করতে বলেন। বাদী পুলিশ সুপারের সাথে দেখা করলে পুলিশ সুপার বাদীকে জানান, “চেয়ারম্যান আইয়ুব খান আমার অফিসে আসছিল। আমি তাকে ইচ্ছামত বকে দিয়েছি। চেয়ারম্যান সন্ত্রাসী বিধায় সে যে কোন মুহূর্তে আড়াল থেকে আপনার এবং আপনার পরিবারের বড় ধরণের ক্ষতি করতে পারে। তাই আমি মনে করি চেয়ারম্যানের সাথে আপোষ মিমাংশা হওয়াই আপনাদের জীবনের জন্য উত্তম’’।

অভিযোগকারী জানান, পুলিশ সুপারের এহেন পরামর্শে হতভাগ হয়ে পরি এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার সোনার বাংলায় সন্ত্রাসীদের সাথে কোন আপোষ নয় মিনতি কওে চলে আসি। ঘটনার আলো যথার্থভাবে আচ করতে পেরে পিবিআই টাঙ্গাইল, গোপালপুর থানা পুলিশের মতই সন্ত্রাসী চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সত্য প্রতিবেদন দাখিলে অপারগতা প্রকাশ করেন। নিরুপায় হয়ে ন্যায় বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ঘটনার আলোকে ২২ অক্টোবর তারিখে উধর্বতন পিবিআই কর্মকর্তা বনজ কুমার মজুমদার, উপমহা-পুলিশ পরিদর্শক পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেষ্টিকেশন সদর দপ্তর, ঢাকা এর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখিত আবেদন দাখিল করেন।

পরে বাদী এবং এলাকাবাসী জানতে পারেন পিবিআই টাঙ্গাইল মামলার আসামী চেয়ারম্যান আইয়ুব খান এবং প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপালপুর থানার এসআই মেরাজুল ইসলামের সাথে আতাতঃ করে তাদেও সাথে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় ঘটনাস্থলে তদন্তে আসেন এবং উক্ত তদন্তে থানার দারোগা এবং চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকায় ভয়ে কেউ সত্য সাক্ষ্য প্রদান করতে পারে নাই। চলমান প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্বিতীয় দফা তদন্ত দিবসে চেয়ারম্যান এবং পিবিআই টাংগাইলের গাড়ীর গমনাগমন পরীক্ষা করা হলে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ পাওয়া যাবে। তাছাড়া পিবিআই এবং আসামী পক্ষের মোবাইল কল রেকর্ড সংগ্রহ করা হলেও ষড়যন্ত্রের মূল হোতা বাহির হয়ে আসবে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, গোপালপুর থানার হেমনগর ইউনিয়ের স্বরণকালের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চেয়ারম্যান আইয়ুব খান বিগত নির্বাচনে সতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে অংশগ্রহণ করে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতিকধারী চেয়ারম্যান প্রাথী আনিসুর রহমান হীরা তালুকদারের বাড়ীঘরে হামলা করে ভাংচুর এবং কমবেশী ৫০ জন লোককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আহত করে জোর পূর্বক চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়। ঘটনার আলোকে গোপালপুর থানায় ২০১৬ সালের ২২ মার্চ জিআর মামলা নং ১১/২০১৬ ধারা-১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৮০/৪২৭/১১৪/১৪৯ দঃবিঃ দায়ের হয়। এছাড়াও উক্ত সন্ত্রাসী চেয়ারম্যান আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে এলাকায় অংসখ্যক দূর্নীতি, খুন, চাঁদাবাজী ও ধর্ষণের অভিযোগসহ বহুবিধ অভিযোগ ও মামলা বিদ্যমান আছে।

আলোচ্য চেয়ারম্যান বাদী মোজাম্মেল হকের পরিচালিত হক ন্যাশনাল ক্লিনিক হতে বিগত রমজানের ঈদ উপলক্ষে ২০০,০০০/- লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। ক্লিনিক মালিক চাঁদা প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করায় চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে চলতি বছর ২৭ এপ্রিল স্বরণকালের করোনা মহামারীকে উপেক্ষা করে আক্রোশ মূলক ভাবে তার সন্ত্রাসী দলবল নিয়ে ক্লিনিক ভাংগার জন্য আক্রমন করে। ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য ষড়যন্ত্র মূলকভাবে তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে গোপালপুরের সহকারী কমিশনার ভূমিকে সাথে রাখেন। ক্লিনিক বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়ে একই দিন সহকারী কমিশনার ভূমি চলে যাওয়ার পর দল বল নিয়া ক্লিনিকের সামনে রক্ষিত ছোট একটি ফুলের বাগান ভাংচুর এবং পাশে রক্ষিত আনুমানিক ২,০০,০০০/- লক্ষ টাকার লোহার গ্রীল, ইট ও অন্যান্য মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। তদুপরি ক্লিনিক মালিক চেয়ারম্যানের চাহিদামত দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় চেয়ারম্যান অধিক ক্ষিপ্ত হয়ে ক্লিনিক মালিককে প্রাণে মারার জন্য তিন সন্ত্রাসীকে চলতি বছর ৬ মে ক্লিনিকে পাঠায়। ভাগ্যক্রমে ক্লিনিক মালিক সন্ত্রাসী হামলা হতে বেঁচে যায়।

এই ঘটনায় গোপালপুর থানায় চলতি বছর ১ জুন মাসে ১/২০২০ নং মামলা হয়। উক্ত মামলা উঠিয়ে নেয়ার জন্য সন্ত্রাসী চেয়ারম্যান আইয়ুব খান ১১ জুন ২০ ইং তারিখে বাদীকে হুমকি প্রদান করে। বাদী ঘটনার আলোকে ১৬ জুন ২০ ইং তারিখে গোপালপুর থানায় ৫০৬ নং জিডি করেন। যাহা বর্তমানে আদালতের নির্দেশে পিবিআই টাংগাইল তদন্তাধীন। এব্যাপারে পিবিআই টাঙ্গাইলের তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর ফরহাদ হোসেন ফোনে অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার আলোকে আরো অধিকতর তদন্ত করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন...


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্তচিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।