TadantaChitra.Com | logo

৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শুধু নামেই অস্তিত্ব পুষ্পধারা আবাসন প্রকল্প!

প্রকাশিত : অক্টোবর ২৫, ২০২০, ১৯:৫২

শুধু নামেই অস্তিত্ব পুষ্পধারা আবাসন প্রকল্প!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের পাশে আবাসন প্রকল্পের নামে জমি ভাড়া করে চোখধাঁধানো সাইনবোর্ড টানিয়ে প্রতারণা করে যাচ্ছে পুষ্পধারা নামের হাউজিং কোম্পানি। প্রায় ১৫শর ও বেশি গ্রাহকের কাছে প্লট বিক্রি করলেও নিজস্ব কোম্পানির জমি মাত্র ৭০ শতাংশ যেখানে সরকারি নিয়ম মেনে ফ্ল্যাট নির্মাণ করলে প্লট হতে পারে ৫ টির মতো।

বাকি প্রকল্পগুলো অধিকাংশের অস্তিত্ব কম্পিউটারে গ্রাফিক্স ডিজাইন বা অ্যানিমেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, বাস্তবে নেই। নামেই অস্তিত্বমান প্রকল্পে ভাড়া জমিতে সাইনবোর্ড টানিয়ে প্লট-ফ্ল্যাট একজনের কাছে নয়, একাধিকবার বিক্রি করেছেন পুষ্পধারা হাউজিং কর্তৃপক্ষ।পুষ্পধারার প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে লাখ লাখ টাকা দিয়ে প্লট-ফ্ল্যাট কিনে প্রতারিত হচ্ছেন এক শ্রেণীর মানুষ।

জানা গেছে,  এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ আলীনুর ইসলাম, ডিরেক্টর অ্যাডভোকেট মো. মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন খানসহ অন্য কর্মকর্তারা মন্ত্রী, এমপি, বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, নায়ক-নায়িকাসহ সমাজের বিশিষ্ট শ্রেণির লোকজনের সঙ্গে তোলা ছবিকে প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

প্রতিষ্ঠানটির অফিসে মন্ত্রী-এমপি ও বিশিষ্টজনদের সঙ্গে এমডি, পরিচালকের ছবি যেমন বাঁধিয়ে রাখা হয়েছে, তেমনি ফেসবুক পেইজে এ সব ছবি পোস্ট করে বিভিন্ন কমেন্টসের মাধ্যমে সাধারণ ক্রেতাকে আকৃষ্ট করে প্রতারণার ফাঁদ পাতছে তারা। অথচ এ প্রতিষ্ঠানটির নেই কোনো সরকারি অনুমোদন। রাজউকের নামমাত্র নিবন্ধন থাকলেও তা হালনাগাদ করা হয়নি। নেই তাদের পরিবেশ ছাড়পত্রও।

অনুমোদনবিহীন পুষ্পধারা প্রপার্টিজ লিমিটেড কীভাবে তাদের প্লট কয়েক হাজার গ্রাহকের কাছে বিক্রি করছে সেটি বড় প্রশ্ন। চাতুর্যতার সঙ্গে প্রতারণার ব্যবসার জাল বিস্তার করতে রাজধানী ঢাকার মালিবাগ সহ একাধিক অফিস ছাড়াও বিদেশিদের টার্গেট করে তারা অফিস খুলেছে মালয়েশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে।

ঢাকা-মাওয়া রোডে পদ্মা সেতু সংলগ্ন এলাকায় পুষ্পধারার প্লট বিক্রি করা হচ্ছে। এরইমধ্যে তারা শত শত বিঘা জমি বিক্রি করেছে কাগজ-কলমে। কিন্তু কিনেছেন নামমাত্র জমি। জলাধার ভরাট করে চলছে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম।

অনুসন্ধান জানা গেছে, পুষ্পধারা এ ধরনের কার্যক্রম চালানোর কোনো অনুমোদন পায়নি। তাদের নেই কোনো পরিবেশ সার্টিফিকেট। অথচ আরও গ্রাহক বাড়ানোর জন্য প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গ্রাহক সমাবেশের আয়োজন করে। বেশির ভাগ সময়ই তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছাকাছি মতিঝিলে কোনো কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠান করে। এর কারণ প্রতিষ্ঠানটির এক পরিচালকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ সখ্যতা।

তিনি গ্রাহক সমাবেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের হাজির করেন। এতে সাধারণ গ্রাহক প্রলুবধ হয়ে বিনিয়োগ করে। বিভিন্ন সময়ে এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক গোলাম মোস্তফা, বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ইউনুস আলী, মহাব্যবস্থাপক আবদুল কাইয়ুম, বাংলাদেশ ব্যাংকের জিএম ইসহাক আলী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম, ডিজিএম বিষ্ণুপদ বিশ্বাস, ডিজিএম সিরাজুল ইসলাম, ডিজিএম আবদুল হালিম, ডিজিএম নেসার আহমেদ ভূঁইয়া, ডিজিএম শিকদার সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ। প্রতারণাকে বিশ্বাসযোগ্য করতেই সুকৌশলে পুষ্পধারা এই কাজটি করে।

গ্রাহক সমাবেশে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা প্লট কিনতে অনুরোধ করেন গ্রাহকদের। এমন এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক গোলাম মোস্তফা যখন বলেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণাধীন পদ্মা সেতু ঘিরে পুষ্পধারার আবাসন প্রকল্প। আমি নিজেও প্লট কিনেছি। তার এ বক্তব্য খুব সহজেই বিশ্বাস করেন সাধারণ ক্রেতা। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহজ কিস্তির নামে পুষ্পধারা নিয়মিতভাবে গ্রাহকদের পকেট কেটে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।’

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক পুষ্পধারার এক কর্মকর্তা জানান,  প্রতিষ্ঠালগ্নের শুরু থেকেই রাজধানী ঢাকা শহরের নামিদামী হোটেল ও ভিআইপি লাউঞ্জ ভাড়া নিয়ে জমকালো মেলার আয়োজন করে সহজ কিস্তিতে এপর্যন্ত ১৫শর উপরে প্লট বুকিংয়ে বিক্রি করেছে পুষ্পধারা হাউজিং কোম্পানি ।

যার পুরো পরিকল্পনাটাই ঠকবাজি আর প্রতারণায় ভরপুর। কারণ পুষ্পধারা সহজ কিস্তির মাধ্যমে গ্রাহকে কাছে প্লট বুকিং দিয়ে যেই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সেই টাকা বা প্লট ভবিষ্যতে কখনোই গ্রাহক ফেরত পাবেনা । বিভিন্ন প্রলোভনে সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করার এক ডিজিটাল ফাঁদ হচ্ছে পুষ্পধারা আবাসন প্রকল্প।

সংবাদটি শেয়ার করুন...


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্তচিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।