TadantaChitra.Com | logo

১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

দোলাইরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি এমপি সানজিদার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ

প্রকাশিত : নভেম্বর ১২, ২০২০, ০৩:৪৬

দোলাইরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি এমপি সানজিদার বিরুদ্ধে  নানান অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর দোলাইরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

স্কুল মাঠে সাবেক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি  এমপি সানজিদা খানম অবৈধভাবে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা চালিয়ে আসছেন বল জানা গেছে । অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে স্কুল মাঠে ভবন নির্মাণ থেকে সরে এলেও সাময়িক বরখাস্তের নামে ৪ বছর ধরে দুজন সহকারী প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করে রেখেছেন সাবেক এই এমপি।

এছাড়াও আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তড়িঘড়ি করে প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

স্কুল কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে চলতি বছরের ১১ আগস্ট রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে করেন ধোলাইপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আজীবন দাতা সদস্য নজরুল ইসলাম।

হাইকোর্টের আদেশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাগজসহ অন্যান্য কাগজপত্র সূত্র থেকে জানা গেছে, সাবেক এমপি সানজিদা খানম বিদ্যালয়টির সভাপতি হওয়ার পর পরই সাবেক প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমানের সহযোগিতায় ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা তৈরি করেন।

এতে খণ্ডকালীন শিক্ষকসহ মৃত ব্যক্তিদের ভোটার বানানো হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা করায় হাইকোর্ট বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে আদেশ জারি করে।

কিন্তু আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছেমতো নিয়োগ দিতে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। সাবেক প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমানকে বিধি বহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেন অথচ শিক্ষা জীবনে তার একাধিক তৃতীয় শ্রেণি রয়েছে।

আরও জানা যায় , সাময়িক বরখাস্তের নামে ৪ বছর ধরে বরখাস্ত করে রেখেছেন দুজন সহকারী প্রধান শিক্ষককে। অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ওই দুজন শিক্ষকের স্টপ পেমেন্ট প্রত্যাহার এবং প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। গত মাসে তাদের বেতন বোনাস এলেও তারা তুলতে পারছেন না। দুই শিক্ষকের একজনের দপ্তর জোর করে কেড়ে নেয়া হয়েছে, অন্য শিক্ষকও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে , সানজিদা খানম বিদ্যালয়টির সভাপতি হওয়ার পর সাবেক শিক্ষক আতাউর রহমান মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করে সকাল, বিকেল ও রাত্রিকালীন কোচিং চালু রাখা হয়। এর মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হয়। বছরে দুটি পরীক্ষা নেয়ার কথা থাকলেও ভিন্ননামে তিনটি পরীক্ষার নিযে অর্থ বাণিজ্য করা হয়।

এছাড়া নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। খেলার মাঠে রেস্টুরেন্ট দিয়ে ভাড়া তুলছেন, সেখানে আরও দোকান উঠাতে চাচ্ছেন সানজিদা।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এক শিক্ষক বলেন, আমার বেতন, বোনাস সব আসছে অথচ আমি উঠাতে পারি না। আমাকে সাময়িকের নামে চার বছর ধরে অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হলেও সাবেক এমপি এগুলো মানতে নারাজ। প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আমাকে অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ চাই, এ অন্যায় মানা যায় না।

নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চেয়ে স্কুল কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার  যোগাযোগ করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন...


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্তচিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।