TadantaChitra.Com | logo

১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজে জাল সনদেই ১০ বছর চাকরি

প্রকাশিত : নভেম্বর ১২, ২০২০, ১১:২০

হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজে জাল সনদেই ১০ বছর চাকরি

বিশেষ প্রতিনিধি : রাজধানীর হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজে ১০ বছর ধরে জাল সনদে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে মোছা: মাসরুফা রহমান নামে এক লাইব্রেরিয়ানের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, ২৭ জুলাই ২০১১ইং একটি জাতীয় দৈনিকে লাইব্রেরিয়ান ও সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে লাইব্রেরিয়ান পদে  শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যুনতম স্নাতক ডিগ্রি এবং লাইব্রেরি সাইন্সে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী হতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়। ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী লাইব্রেরিয়ান পদে আবেদন করেন মোছা: মাসরুফা রহমান।

আবেদনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে লাইব্রেরিয়ান পদে প্রথমে ৬মাসের জন্য শিক্ষানবীশ হিসেবে নিয়োগ পত্র পেয়ে ২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর লাইব্রেরিয়ান পদে যোগদান করেন মোছা: মাসরুফা রহমান। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ২০ জুন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মনিরুজ্জামান ভুঁইয়া বরাবর মাসরুফা রহমান চাকুরি স্থায়ী করার আবেদন করেন এবং ২৮  জুলাই ২০১৩ তারিখে কলেজের গভর্নিং বডির ৪১তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১ আগস্ট ২০১৩ তারিখ থেকে মাসরুফা রহমানের চাকরি নিয়মিত করা হয়।

এদিকে, ২৭ জুলাই ২০১১ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক মাসরুফা রহমান লাইব্রেরি সাইন্সের জাল সনদ দিয়ে চাকরি নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার আবেদন পত্রের সঙ্গে ২০১০ সালে পাশকৃত ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি সাইন্সের যে সনদ দিয়েছেন তা সম্পুর্ন জাল। ২০১০ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি এন্ড ইনফরমেশন সাইন্স  পরীক্ষায় নাম, রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সাথে মোছা: মাসরুফা রহমানের সাবমিট করা সার্টিফিকেটের কোন মিল নেই। ২০১০ সালের পরীক্ষার তার জমা দেওয়া সার্টিফিকেটে রোল নম্বর ৯১০৩৭৫ ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ০১০৪৯১ উল্লেখ থাকলেও উল্লেখিত রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরে মিল পাওয়া যায়নি।

এদিকে,  ২ নভেম্বর ২০১৯ সালে কলেজের গভর্ণিং বডির ৬১তম সভায়  আলোচ্যসূচীর ১৩টি এজেন্ডার মধ্যে সপ্তম এজেন্ডায় মাসরুফা রহমানের জাল সনদের বিষয়ে উত্থাপিত হওয়ার কথা থাকলেও পরিচালনা পরিষদের একজন সদস্যের হস্তক্ষেপের কারণে মাসরুফা রহমানের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়নি বলেও জানা গেছে।

জাল সনদে চাকরি করার বিষয়ে মাসরুফা রহমানের সঙ্গে এই প্রতিবেদক মুঠোফোনে  জাল সনদে চাকরির বিষয়ে জনাতে চাইলে মাসরুফা রহমান বলেন, তিনি নিয়োগের একবছর পর পাশ করেছেন। তাই তৎকালীন রেডক্রিসেন্টের চেয়ারম্যান শর্ত সাপেক্ষে তাকে নিয়োগন দিয়েছেন। যদিও তার নিয়োগপত্রে এমন কিছু উল্ল্যেখ নাই। এবং নিয়োগবিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে উক্ত পদের জন্য স্নাতক পাশ এবং লাইব্রেরি সাইন্সে ডিপ্লোমা পাশ হতে হবে।

এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোন আর কথা বলবেন না এবং মামলার হুমকি দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এবিষয়ে, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, মসরুফা রহমানের জাল সনদের বিষয়ে একটা তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছিল।  কিন্তু আমি অবসরে যাওয়ার পর তদন্তে কি রিপোর্ট এসেছে তা জানিনা। তবে রেডক্রিসেন্টের চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমেই মেডিকেল কলেজে সকল নিয়োগ দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

এদিকে, জানতে চাইলে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. দৌলতুজ্জামান বলেন, আমি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কয়েকমাস থেকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করতেছি। শিগগিরই কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ করা হবে। নতুন অধ্যক্ষ এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন। তবে জাল সনদে চাকরি করা অপরাধ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন...


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্তচিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।