TadantaChitra.Com | logo

১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

গোষ্ট হান্টারের নামে সাকি সিন্ডিকেটের প্রতারণা!

প্রকাশিত : নভেম্বর ১৫, ২০২০, ১২:১২

গোষ্ট হান্টারের নামে সাকি সিন্ডিকেটের প্রতারণা!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভুতুরে অনুষ্ঠানের নামে এক মহা প্রতারক সিন্ডিকেটের নানা অপকর্মের তথ্য পাওয়া গেছে। ভুত নিয়ে মানুষের মধ্যে অনেক কৌতল রয়েছে, রয়েছে নানা জল্পনা কল্পনা। প্রাচীন সভ্যতাকে পেড়িয়ে মানুষ আজ ডিজিটাল দেশে অবস্থান করছে। তবুও প্রাচীন  দিনের কাব্যকথার ভুত নিয়ে মানুষের আগ্রহের যেন কোন কমতি নেই।

আর সেই  সুযোগটাকেই কাজে লাগিয়ে গোষ্ট হান্টার ইনভেস্টিগেশন (Ghost Hunter Investigators (TEAM G,H,I) এর নামে ইউটিউব ও ফেইসবুক পেইজ খুলে সাকি সিন্ডিকেট খুলে বসেছে এক প্রতারণার হাটবাজার। মধ্যরাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নির্জন স্থানে গিয়ে এই ফেইসবুক পেইজের মাধ্যমে লাইভ করে ভুতুরে অনুষ্টান সম্প্রচার করে আসছে সাকি, জনি, মিলন ও সুজনসহ আরও কয়েকজন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাকি সিন্ডিকেট এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষকে আকৃষ্ট করে বিভিন্ন ফাদে ফেলে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। ইতিমধ্যে তাদের ব্যবহৃত গোষ্ট হান্টার ইনভেস্টিগেশন ঘি (Ghost Hunter Investigators (TEAM G,H,I) ফেসবুক পেইজটি বেশ জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছে। ফেসবুক পেইজটির বর্তমান লাইক সংখ্যা ৩লাখের কাছাকাছি আর তাদের ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় ৫লাখের দিকে যাচ্ছে।

বিশ্বস্ত সুত্র জানায়, ২০১৭ সালে টেরট বাবা রাদবি রেজা “ডর” নামক রেডিও প্রোগ্রাম এ একটি হন্টেড লাইভ শুরু হয়, তার হাত ধরেই আবু নাইম সাকি এবং আরো কয়েকজন তার ভক্ত বা অনুসারি একটি ফেসবুক পেজ ওপেন করে ঘোস্ট হান্টার ইনভেস্টিগেটরস বা ঘি নাম দিয়ে শুরু করে তাদের প্রতারণার হাতিয়ার। যার মূলে ছিল আবু নাইম সাকি, আবির হোসাইন জনি, মাহমুদুর রহমান চৌধুরী, সাইফুল, সোমা ভট্টাচার্য।

২০১৮ তে বাবা এক্সপসড নামের একটি অনুসন্ধানী টিম যখন রাদবি রেজার ভণ্ডামি ফাস করে একের পর এক এক্সপসড ভিডিও প্রকাশ করে তখন প্রশাসন সেই প্রতারকদের অপরাধের প্রমাণ পেয়ে তাকে এরেস্ট করে এবং তার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ঘি এর কাজ তখন বাড়তে থাকে। প্রথম দিকে তারা শুধু বিনোদন মূলক লাইভ করলেও পরবর্তীতে তারা ধান্দামি ও অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে থাকে যেমন ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে ঘি এর টিম লিডার তাদের এক নারী ভক্তের সাথে ফেসবুকে যোগাযোগ করে তার নানান গুরুতর মিথ্যে সমস্যার কথা বলে টাকা চায়।

তার ভয়াবহ সমস্যার কথা শুনে ভিক্টিম নগদ টাকাসহ গহনা সিন্ডিকেটের প্রধান সাকিকে কিছু দিনের জন্য ধার দেন, যাতে সে গহনা বন্দক রেখে আপাতত প্রয়োজন মিটাতে পারে। এক মাসের ভিতর গহনা ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও সাকি দিয়েছে এই নারীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে শেষে ভিক্টিম পুলিশের দ্বারস্থ হলে গহনা ফেরত দিতে বাধ্য হয় এবং বাকি টাকা পরের মাসে দিবে বলে অঙ্গিকার করে। কিন্তু সে কথা না রেখে আত্মগোপনে চলে যায় বলেও তথ্য পাওয়া যায়।

২০১৯ সালের অক্টেবর মাসে ঘি এর টিম লিডার সাকি তাদের আরও এক মেয়ে ভক্তের সাথে প্রতারণা সাকি বিবাহিত হয়েও নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে পরিচয় দেয় এবং নানা রকম ইমোশনাল কথা বলে ভিক্টিমের সাথে সম্পর্কে জড়াতে চায়। নানা ইমোশনাল ও তার নানাবিধ মিথ্যা সমস্যার কথা বলে যেমন অসুস্থতা, ক্যামেরা, মোবাইল, কে টু মিটার, পারিবারিক সমস্যা ইত্যাদি বলে লক্ষয়াধিক টাকা ( নগদ ও অন্যান্য মিলিয়ে ) আত্মসাৎ করে। এতে সহায়তা করে সাকির অন্য সিন্ডিকেট জনি।

ঘি এর সাবেক এক সদস্যের সাথে কথা বলে জানা যায়, গোষ্ট হান্তার ইনভেস্টিগেশন টিম ঘি এর সাকি সিন্ডিকেট অনেকের কাছ থেকে জিন দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়া, জিন তাড়ানো, স্বামী স্ত্রীর মিলন, প্রেমিক প্রেমিকার মিলন প্যারানরমাল ভাবে করিয়ে দেয়ার নাম করে টাকা আত্মসাৎ করে। জানা গেছে, সোমা ভট্টাচার্য নামে এক ভারতীয় নারীর সহায়তা নিয়েই চলে সাকি সিন্ডিকেট।

জানা গেছে, সাকি সিন্ডিকেট গোষ্ট হান্টার ইনভেস্টিগেশন টিম ঘি এর নামে বর্তমানে বিভিন্ন সনাতন ধর্মাবলম্বিদের শশ্মান ঘাটকে নিয়ে ফেইসবুকে ভুতুরে অনুষ্টান লাইভ করে এক বিতর্ক তৈরি করে আসছে। তাদের লাইভে সাকি সিন্ডিকেট শ্মশান ঘাটে ভুতুরে কিছু আছে এমনটাই আক্ষা দিয়ে থাকে। এতে করে এতি মধ্যে শ্মশান ঘাট নিয়ে মানুষের মধ্যে বেশ আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এবিষয়ে সনাতন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট এর মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক বলেন, আমাদের ধর্মে ভুত পেত বা এই ধরনের কোন অদৃশ্য জিনিষের কোন অস্তিত্ব নেই। শ্মশানঘাটকে আমরা পবিত্র মনে করি। এই স্থানকে যারা ভুতুরে বলছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

অনুসন্ধানে জানা যায় লাইভের মাধ্যমে সাকি ও জনি সিন্ডিকেট মানুষকে আকৃষ্ট করে ফাদে ফেলে বিভিন্ন সহায়তার নামে নিরব চাঁদাবাজি করে আসছে। এবিষয়ে সাকির কোন বক্তব্য না পাওয়া গেলেও তাদের সিন্ডিকেটের জনি বলেন, ভুত বলতে কিছুই নেই। তারা শুধু মানুষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে গিয়ে লাইভ করে থাকেন। তার ভাষ্যমতে ভুত না থাকলেও তারা জিনের অস্তিত্ব দেখতে পান।

সংবাদটি শেয়ার করুন...


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্তচিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।