TadantaChitra.Com | logo

১লা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বিএনপিতে আবাসিক নেতা রুহুল কবির রিজভী

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১৪, ২০২০, ২০:১২

বিএনপিতে আবাসিক নেতা রুহুল কবির রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে প্রায় ২৪ ঘন্টাই দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। তাই ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে  ‘আবাসিক নেতা’ খেতাবও পেয়েছেন তিনি।

বিএনপিতে যেকজনকে তারেকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে ভাবা হয় তাদের অন্যতম একজন রুহুল কবির রিজভী। জানা গেছে আড়ালে দলের অনেকেই রিজভীকে ‘তারেকের বেতনভুক্ত কর্মচারী’ বলে তামাশা করে থাকেন। কে কি বললো তা কানে না নিয়ে বরং কার্যালয়ের ভেতরে গান শুনিয়ে মনোরঞ্জনের জন্য তৃতীয় শ্রেণির কিছু নারী কন্ঠশিল্পীর ব্যবস্থা করেছেন তিনি।

এসব নিয়ে গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে অনেক দিন ধরেই। একেবারে যে তিনি কিছুই  করেন না এই আবাসিক নেতা, তা কিন্তু  নয়। লন্ডন থেকে মুঠোফোনে ভেসে আসা নির্দেশ পালনে রিজভীর জুড়ি মেলা ভার। তারেকের নির্দেশে এপর্যন্ত সংগঠিত সকল হত্যা-নাশকতায় রিজভী প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছেন, এমনটাই প্রচার আছে খোদ বিএনপির অন্দরমহলে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক নেতা বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে লিখিত বিবৃতি পাঠ করে হম্বিতম্বি করাও অনেকটা তার প্রতিদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে। বিগত  দশ বছরে  একই ভাষায় লেখা বিবৃতি দিয়ে ‘বিবৃতি রিজভী’ হিসেবেই খেতাব পেয়েছেন তিনি।

যুবদলের একনেতা বলেন, ভোর পাঁচটা-ছয়টায়  জগিং এর পোশাক পরিহিত অবস্থায় ৮-১০ জনকে সাথে নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে দৌঁড়া দিয়েও বেশ সমলোচনায়ও পরেছিলেন তিনি।অচিরেই ক্ষমতায় আসছেন এই  ভাবনা থেকেই পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে মনোনয়নের টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে ঝামেলা বাঁধিয়েছেন রাজাকারপুত্র ফখরুল ওরফে ফকার সাথে। এই সব ঝামেলায় জড়িয়ে বেদম মারও খেয়েছেন রিজভী।

ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, ক্ষমতায় যাবার পথ পরিস্কার করতে না পেরে রিজভী  একের পর এক জন্ম দিচ্ছে হাস্যকর সব ঘটনা। বিএনপি ঘোষিত ‘ঈদের পরের আন্দোলন’ মতোই অন্যান্য ‘জলে ভাসা প্রতিশ্রুতি’গুলোর ন্যায় তার এ প্রতিশ্রতিও বিবৃতি রিজভী ঠিক কতদিন রাখবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

গত নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়া কয়েকজন বিএনপি নেতা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। বিএনপি এমনিতেই ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় নেই, আর এইদিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের নামে  মনোনয়ন বাণিজ্য হচ্ছে যা দলের জন্য আত্মঘাতী। এতে দলের চরম ক্ষতি হচ্ছে। যা থেকে বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর আশা আরও ক্ষীণ হচ্ছে। তারা মনে করছেন অর্থের বিনিময়ে প্রার্থিতা দেয়ার সংস্কৃতি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে’।

অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক কমিশনার নবী উল্লাহ নবী একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসন থেকে নির্বাচন করেন। ঢাকায় বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বেশি ভোট পান। তবে ওই আসনে জয়ী হন আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান মোল্লা। সম্প্রতি তার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া এ আসনে আসন্ন উপ-নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাননি নবী। সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমদকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে বিএনপি।

মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার তিনদিন পর নিজের ফেসবুক পোস্টে নবী উল্লাহ উল্লেখ করেন, ‘বিএনপির বড় সারির অনেক নেতা সরকারি এজেন্টদের ফাঁদে এমনভাবে পা দিয়েছেন, মনে হচ্ছে বিএনপির এসব এজেন্টের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কারণ একের পর এক সরকারের এজেন্ডা বিএনপিতে বাস্তবায়ন হচ্ছে। তাহলে কি এটা দেখার কেউ নেই?’

তিনি আক্ষেপ করে আরও লেখেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীদের এত পরিশ্রম, জেল, জুলুম, নির্যাতন, হত্যা, গুম, ত্যাগ কি বৃথা যাবে? তাহলে কি আমরা বিএনপির বিজয় দেখে যেতে পারব না? হয়তো একদিন সরকারি এজেন্টদের পতন হবে, একদিন বিএনপির বিজয় হবে। ততদিনে আমরা অনেকেই বেঁচে নাও থাকতে পারি।’

দলের কোন্দল সৃষ্টির বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ না পাওয়া এক নেতা বলেন, দলের ভেতরে কোন্দল ও বিভেদ চলছে। দলটির ভেতরে জুনিয়ররা যেমন সিনিয়রদের কথা শুনছেন না, তেমনি সিনিয়ররাও জুনিয়রদের মূল্যায়ন করছেন না। দলটির নেতাকর্মীরা শুধু একে অপরের ক্ষতি করার জন্য ব্যতিব্যস্ত রয়েছেন। ফলশ্রুতিতে সরকার ‘হটানোর’ আন্দোলনে সফল হতে পারছে না দলটি।

এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি থাকলেও তার মুক্তির দাবিতে সারাদেশে কোনো কর্মসূচি পালন করতে না পারা, করোনা সঙ্কটকালে সরকারের অনুকম্পায় খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং পরবর্তীকালে তার নীরবতা দেখে  বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।

দলের অনেক তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা দলের কোন্দল, গ্রুপিং, মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগের তীর ছুড়ছেন আবাসিক নেতা রুহুল কবির রিজভীর দিকে। মনোনয়ন বানিজ্য, কমিটি বানিজ্য ও বিভেদ সৃষ্টি মুলহোতা আবাসিক এ নেতা। দলের নীতিগত সিদ্ধান্ত এ নেতার কারণেই সঠিক সময়ে নিতে পারে না বিএনপি এমনটাই মনে করেছেন অনেকে।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্ত চিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।