TadantaChitra.Com | logo

৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

দ্বিতীয় বিয়ে, ডাঃ এ আলী এখন লোক সমাজে ঘৃণিত!

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২৩, ২০২০, ১১:২৭

দ্বিতীয় বিয়ে, ডাঃ এ আলী এখন লোক সমাজে ঘৃণিত!

নিজস্ব প্রতিবেদক : লাকসাম সরকারি হাসপাতালে কর্মরত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উচ্চ শিক্ষিত স্ত্রী ,কলেজ ও স্কুল পড়ুয়া দুই সন্তানের জনক জনৈক ইমন হোসেনের স্ত্রী ইসরাত জাহান মুক্তাকে দ্বিতীয় বিয়ে করে লাকসামে ব্যাপক ঘৃণিত হচ্ছেন।

জানা যাচ্ছে, মুক্তা ডাক্তার আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী হলেও ডাক্তার আলী মুক্তার চতুর্থ স্বামী ! আমাদের অনুসন্ধানে জানা যায়, লক্ষীপুর জেলা সদরের পিয়ারাপুর গ্রামের মানিক মিয়ার মেয়ে ইসরাত জাহান, ডাক নাম মুক্তা । বর্তমানে লাকসামে বহুল পরিচিত। রয়েছে অগণিত বন্ধু । আবার কিছুদিন পরপরই স্বামী বদলানোও তার নেশা । সুমন নামের প্রথম স্বামীর সাথে সংসার চলা অবস্থায় সম্পর্ক গড়ে তোলেন জনৈক মনিরুজ্জামানের সাথে । সুমনকে ত্যাগ করে বিয়ের তথ্য গোপন রেখে কুমারী সেজে বিয়ে করেন প্রেমিক মনিরুজ্জামানকে।

মনিরুজ্জামান লাকসামে একটা প্রাইভেট হাসপাতালের কর্মচারী। এ সুবাধে মুক্তাকে নিয়ে লাকসামে বসবাস । শুরু হয় তাদের দাম্পত্য জীবন। এরই মধ্যে মুক্তা অন্তঃসত্ত্বা। সন্তান ডেলিভারিতে প্রয়োজন দেখা দেয় সিজারের। সিজার করেন ডাক্তার আবদুল আলী । সিজার করতে গিয়ে আলী দেখতে পান স্রষ্টার আজব সৃষ্টি মুক্তার মহামূল্যবান গোপন সম্পদ।

এরকম সম্পদ আলী সব সময় দেখলেও মুক্তার সম্পদ আলীকে অনেক আকৃষ্ট করেছে । ফলে আলীর লোভ জমে মুক্তার গোপন সম্পদ লুটে নেয়ার । শুরু করেন নানারকম ফন্দি আঁটার । একপর্যায় মুক্তাকেও আলীর চেম্বার করা প্রাইভেট হাসপাতালে চাকরির ব্যবস্থা করেন । শুরু করে আলী মুক্তার মহামূল্যবান সম্পদ খোঁজার । যতই খোঁজে তত পায় ।

খুঁজতে খুঁজতে অনেক গভীরে চলে যায় আলী । এবার ফন্দি আঁটে একাধারে খোঁজার । ফলে দ্বিতীয় স্বামী মনিরুজ্জামানকে তালাক দেয়ার ব্যবস্থা করেন আলী । আলী মুক্তার সম্পদ লুটে নিচ্ছে লোকমুখে কানাঘুষো চললে আলী মুক্তাকে তার ভাগনি হিসেবে পরিচয় দিতে থাকে। পরে মানুষের মুখরোচক সমালোচনা থেকে রক্ষা পেতে এক পর্যায়ে নিজের কাছের মানুষ জনৈক ইমন হোসেনের সাথে বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে । মুক্তা নামে মাত্র ইমনের স্ত্রী হলেও দৈহিক মিলন করেন কথিত মামা ডাঃ আলীর সাথে। ভাগনির সাথে মামার প্রেম প্রেম খেলা লোকে জানতে পারলে মুখরোচক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠে। কথিত ভাগনির সাথে আলীর বেশ কিছু মুহূর্তের নগ্ন ভিডিও করে মুক্তা তার বন্ধুদের হস্তগত করে। পাশাপাশি ডাঃ আলীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। লম্পট আলী সানন্দে প্রস্তাব গ্রহণ করে।পরে মুক্তা তার ৩নং স্বামী ইমন হোসেনকে তালাক দিয়ে আলীকে ৪নং স্বামী হিসেবে কবুল করে নেয়।

আলীকে নিয়ে কৌতূহলী মানুষের বিশ্লেষনের শেষ নাই। তারা বলেন,  ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী নারী খেকো চাঁদপুরের রসু খাঁ’য়ের মতন লম্পট ডাঃ এ আলী’রও নারী লোভের রেকর্ড রয়েছে । আবার ডাক্তার আলী’র বাড়িও সেই একই জেলায় । আলী রসু খাঁ’র বংশধর কিনা কৌতূহলীরা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়ে বলেন, শাহীনুর আক্তার জেসমিন নামের এক স্বাস্থ্য কর্মীর ইজ্জত লুটে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল । লাকসামের মেয়ে জেসমিন লাকসাম ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্যাথলজিক্যাল বিভাগে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতেন । আর ডাক্তার আলী সেখানে প্রাইভেট চেম্বার বানিয়ে রোগী দেখতেন । লম্পট আলীর কুনজর পড়ে জেসমিনের উপর । একপর্যায়ে জেসমিনকে সরকারি হাসপাতালে চাকরি লোভ দেখায় । উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দায়িত্ব থেকে এ রকম আশ্বাস বিশ্বাস করা একেবারে স্বাভাবিক । বিশ্বাসের সুযোগে লম্পট আলী আসা-যাওয়া শুরু করে জেসমিনের বাসায় । বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিতে থাকে । জেসমিন তার কু-প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে তাকে তাদের বাসায় যেতে নিষেধ করে । এতে লম্পট আলী বেপরোয়া হয়ে জেসমিনকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা সহ তার শ্লীলতাহানি করে । জেসমিন নিরুপায় হয়ে লম্পট আলীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে কুমিল্লার আদালতে মামলা করে । বর্তমানে মামলা চলমান।

অপরদিকে আলীর স্ত্রী সৈয়দা উম্মে সালমাও তার অত্যাচার, নির্যাতন ও পর নারী লোভের অভিযোগ এনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নিকট অভিযোগ দাখিল করেন । অভিযোগে উল্লেখ করেন, উম্মে সালমা পটুয়াখালী একটা কলেজের যুক্তি বিদ্যা বিষয়ের প্রভাষিকা ছিলেন । এখান থেকে বদলি হয়ে ডাক্তার আলী’র গ্রাম এলাকা চাঁদপুর জেলার মতলবের একটা কলেজে যোগদান করেন ।

সালমা ছুটি বা বন্ধ পেলেই স্বামীকে সঙ্গ দিতে লাকসাম যেতেন । কিন্তু আলী তাকে তেমন সঙ্গ দিতেন না । আলী তার ব্যাক্তিগত পরিচালনাধীন লাকসাম মেটার্নিটি হাসপাতালে একটা গোপন রুমে সেবা নিতে আসা কিছু রোগীনীদের সাথে দৈহিক মিলনে লিপ্ত থাকতেন । এছাড়া যত হাসপাতালে চেম্বার করে রোগী দেখতেন সবাই তার বিশেষ গোপন কামরা রাখতে বাধা হতেন । তাকে তার স্ত্রী অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকা অবস্থায় হাতেনাতে ধরে সংশোধন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন । বরং সংশোধন না হয়ে স্ত্রী উম্মে সালমাকে কৌশলে শিক্ষকতার পেশা থেকে অব্যাহতি নেয়ার ব্যবস্থা করেছেন।

ডাক্তার আলী আর পরনারীতে লিপ্ত থাকবেনা বলে সন্তানদের ভাল লেখাপড়ার দোহাই দিয়ে সালমার নিজ নামের কেনা ফ্ল্যাট রাজধানীর পশ্চিম আঁগার গাঁও বসবাস করার অনুরোধ জানান। স্বামীর সরল কথায় সরলভাবে মেনে নিলেও লম্পট চোর না শুনে ধর্মের কাহিনীর ভূমিকায় । কৌশলে স্ত্রীকে দূরে সরিয়ে আবার পর নারীদের সাথে দৈহিক মেলামেশা শুরু করেন । স্ত্রী সালমা আবার প্রতিবাদ জানালে শুরু হয় তার উপর শাররীক নির্যাতন, সালমার বসবাসরত ফ্ল্যাট বিক্রি করে পঁচিশ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য নিয়মিত মারধর করতে থাকেন ।

স্ত্রী সালমা নিরুপায় হয়ে ডিপার্টমেন্টালি অভিযোগের পাশাপাশি যৌতুক নিরোধ ও অত্যাচার, নির্যাতন থেকে রেহাই পেতে ঢাকার আদালতে মামলা দায়ের করেন । বর্তমানে মামলা তদন্তাধীন । এদিকে ডাঃ এ আলী(৫২) মেয়ে বয়সী কথিত ভাগনি ইসরাত জাহান মুক্তা (২০) কে বিয়ে করার খবর লাকসামের আবাল বৃদ্ধ বণিতা সবাই জানলেও প্রথম স্ত্রী সৈয়দা উম্মে সালমা এখনও জানেনি । তবে আইনে আছে প্রথম স্ত্রী’র অনুমতি ছাড়া ২য় বিয়ে করা অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ২য় বিয়ে করার অপরাধে আলী’র বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হবে সেটা নিশ্চিত বলা যায় । একজন সরকারী কর্ম’কর্তার এহেন চরিত্র ও বেআইনি কর্ম কান্ডে হতভাগ লাকসামবাসী। অবিলম্বে তার বরখাস্তের দাবী উঠছে।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্তচিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।