TadantaChitra.Com | logo

১৮ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৩রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

প্রতারণার নতুন ফাঁদ পেতেছে ইভ্যালি

প্রকাশিত : জানুয়ারি ১৯, ২০২১, ০৯:০১

প্রতারণার নতুন ফাঁদ পেতেছে ইভ্যালি

অনলাইন ডেস্ক : ই-কমার্স ব্যবসার নামে ব্র্যান্ডের মালামাল অর্ধেক মূল্যে বিক্রির লোভ দেখিয়ে অল্প সময়ে হাজার হাজার নিরীহ মানুষের টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে ইভ্যালির মালিক রাশেল এখন ধরাকে সরাজ্ঞান করছেন। অভিনব প্রতারণার এই নয়া ই-কমার্স ব্যবসায় অনেক ঝুঁকি আছে জেনেই মাঠে নেমেছেন তিনি।

অবৈধ পথে সম্পূর্ণ প্রতারণা করে অন্যের পকেটের অর্থ নিজের পকেটস্থ করতে সিদ্ধহস্ত আলোচ্য ইভ্যালির সিইও রাশেল নিজেকে নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, থানা পুলিশ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং গণমাধ্যমকেও লাঠিয়াল হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এজন্য গণমাধ্যম এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রিয়ভাজন হতে উপযাচক হয়ে উপটৌকনের পসরা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। সঙ্গে তার স্ত্রীকেও একাজে লাগিয়েছেন।

যারা গণমানুষের কথা বলে সেই গণমাধ্যম এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের হাতে অমুক প্রকল্পে সহায়তার জন্য হাত বাড়িয়ে মোটা অংকের অর্থ বা চেক ধরিয়ে দিলেই তাকে আর পায় কে? অনুদানের ঐ ছবি মুহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। এটাই রাশেলের মূল হাতিয়ার। সুতরাং পাওনাদারদের পাওনার অংক যতই ভারি হউক না কেন তাকে ধরে কে? রাশেলকে পাওয়াতো দূরের কথা তার অফিসের কর্মচারীদের ঠেঙ্গানির চোটে দিশেহারা পাওনাদার নামের অসহায় বিড়ম্বিত বনি আদমের দল। পাওনা টাকা চাইতে গেলেই মারধরসহ র‌্যাব পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারী) বিকেলে ধানমন্ডির ১৪নং সড়কের ৮ নম্বর  বাসা এবং তৎসংলগ্ন হিসাব শাখার ১০/১৫জন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে ইভ্যালির পালিত মাস্তানরা তাদেরকে মারধর করে নিকটস্থ সোবহানবাগ পুলিশে সোপর্দ করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জানতে পেরে অবস্থা বেগতিক দেখে পরে অবশ্য তাদের হাতে পাওনার চেক তুলে দেয়। গত মঙ্গলবারের জের ধরে গতকাল দুপুরে একদল যুবক ইভ্যালীর সিইও রাশেলের অফিসে চড়াও হয়। ঐ সময় রাশেল অফিসে ছিলেন না। তাকে না পেয়ে পাওনা পরিশোধের জন্য হৈচৈ শুরু করে।

ইভ্যালির প্রতারণার খপ্পড়ে পড়ে সমাজের শিক্ষিত বেকার যুবক, ব্যবসায়ীসহ খোদ পুলিশের লোকও হয়রানীর কবলে পড়েছেন। শরিফুল নামে পুলিশের এক কনস্টেবল ২ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা জমা দিয়ে মটর বাইক পাচ্ছেন না। ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ তাকে একটি ভার্ষণ-থ্রি মোটর সাইকেল দেয়ার কথা বলে ২ লাখ ৬১ হাজার টাকা আদায় করেন। ৪৫ দিনের মধ্যে উক্ত বাইক সরবরাহের কথা বলে দেই দিচ্ছি বলে কালক্ষেপন করতে থাকেন।

অনেক দেন দরবার করার পর তাকে বলা হয় ঐ মটর বাইকের সাপ্লাই নাই, তাই এর চাইতে অনেক উন্নতমানের বাইক ইয়ামাহা এমটি১৫ যার বাজার মূল্য ৪ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। আগের জমা দেয়া ২ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা দিয়েই তাকে ইয়ামাহা এমটি১৫ মটর বাইক দেয়ার প্রস্তাব দেয়। প্রায় অর্ধেক দামে এত দামি বাইক পাবে এমন প্রস্তাবে রাজী হয়ে যায় কনস্টেবল শরিফুল।

কিন্তু কথায় বলে কয়লা ধুলেও ময়লা যায় না। ইভ্যালির বেলায়ও ঘটেছে তাই। ইভ্যালির প্রতারণার শিকার হয়ে তিনি এখন টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না এবং বাইকও ফেরত পাচ্ছেন না। দিনের পর দিন তাকে ঘুরানো হচ্ছে। বেশি দামের বাইক অল্প দামে কিনতে গেলেন কোন আশায়-এমন প্রশ্নের জবাবে কনস্টেবল শরিফুল জানান, এর আগে ৭৫ হাজার টাকার কম্পিউটার তিনি ৫০ পার্সেন্ট কম পেয়েছেন। একইভাবে ১ হাজার ৭২ টাকায় পেশার কিনে বিশ্বাস স্থাপন হওয়ায় তার মতো অনেকেই পরবর্তীতে মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগ করে এখন আফসোস করছেন।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

৪৭৩ ডিআইটি রোড তৃতীয় তলা, মালিবাগ রেইল গেট, ঢাকা-১২১৯

মোবাইলঃ ০১৬২২৬৪৯৬১২

মেইলঃ tadantachitra93@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ

তদন্তচিত্র কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।